প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে যত সতর্কবার্তা প্রচার হোক না কেন, প্রকৃত জনসচেতনতা জাগরণ এখনো অনেক দূরে। পরিবেশ দূষণের কথা ভেবে কেউ কেউ যদিও ভাবেন, প্লাস্টিক আর ব্যবহার করবেন না, তবুও সম্পূর্ণ বর্জন কি হয়? মোটেই হয় না। কোনো না কোনোভাবে ঠিক প্লাস্টিক কাজে লাগিয়ে ফেলেন সিংহভাগ মানুষ।
তবে এবার কি প্লাস্টিক বাদ দেওয়ার দিন চলে এল? বিজ্ঞানীদের দাবি, তাদের হাতে চলে এসেছে দূষণ বিরোধী জৈব প্লাস্টিক! জাপানের রিকেন সেন্টার ফর এমারজেন্ট ম্যাটার সায়েন্সের গবেষকরা এমন দাবি করেন।
তারা জানাচ্ছেন, নতুন করে তৈরি প্লাস্টিক নমনীয়, শক্তপোক্ত এবং সম্পূর্ণভাবে জৈব। অর্থাৎ প্লাস্টিকের সব ধর্ম রয়েছে তাতে।
এখন জাপানি বিজ্ঞানীদের তৈরি নতুন ধরনের এই প্লাস্টিক মানুষের হাতে হাতে পৌঁছালে নিঃসন্দেহে তা দূষণমুক্তির ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ হবে। বাজার চলতি প্লাস্টিক, যা মাইক্রোপ্লাস্টিক বলে পরিচিত, তার বিপদ সম্পর্কে কমবেশি ওয়াকিবহাল সবাই।
খাবারের মধ্যে সামান্য প্লাস্টিক কণা মিশে পেটে চলে গেলে বড়সড় বিপদের মুখে পড়তে পারেন কেউ। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে তা বড় ঝুঁকির। হার্ট, হাড়ের অসুখ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার, কএনা কখনো অসাবধানতাবশত প্রাণহানিও হতে পারে।
এ ছাড়া মাটি, জলাশয়ে প্লাস্টিক মিশলে পরিবেশে ভয়াবহ দূষণ তৈরি হয়।
এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে একমাত্র জৈব পদার্থ দিয়ে তৈরি সামগ্রী। আর তাকেই কাজে লাগিয়েছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা।
যে পদার্থ দিয়ে জৈব প্লাস্টিক তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা, তার নাম কোলাইন ক্লোরাইড। এটি আসলে লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইডের আরেক রূপ। খাবার সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
এটি নেওয়া হয়েছে উদ্ভিদজাত সেলুলোজ থেকে, যা পৃথিবীতে অতি সহজে পাওয়া যায়। এর সঙ্গে বেশ কিছু রাসায়নিক মেশানো হয়েছে, যাতে প্লাস্টিকটি কাচের মতো শক্ত হয় এবং নমনীয়তা আসল প্লাস্টিকের তুলনায় প্রায় ১৩০ শতাংশ বেড়ে যায়।
বলা হচ্ছে, ০.০৭ মিলিমিটার পর্যন্ত পাতলা এই প্লাস্টিক। রসায়নবিদ তাকুজো ইদার তৈরি এই নতুন আবিষ্কার সম্প্রতি ‘জার্নাল অব আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি’তে প্রকাশিত হয়েছে। এখন কবে এই পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক বাজারে এসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জায়গায় দখল করে নেবে, তারই অপেক্ষা।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন