শিরোনাম
◈ আইসিসির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে যা জানাল বিসিবি ◈ নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার পক্ষে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ◈ ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বিতর্কে ইসির নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ হাসনাত আব্দুল্লাহর (ভিডিও) ◈ গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ আইনশৃঙ্খলা জোরদার: ৩৩০ সন্ত্রাসীর চট্টগ্রামে প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ, গণবিজ্ঞপ্তি জারি ◈ ঢাকা ক‌্যা‌পিটাল‌সের বিদায়, ‌বি‌পিএ‌লের প্লে-অফে রংপুর রাইডার্স  ◈ ইসরায়েলি সমর্থকদের মা‌ঠে ঢুক‌তে না দেয়ায় চাকরি হারালেন ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তা ◈ আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা বাংলাদেশের ভিসা পাননি ◈ তামিম ইকবাল, বিসিবি ও কোয়াব ত্রিমুখী সংকটের নেপথ্যে রাজনীতি  ◈ চট্টগ্রামে জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলা

প্রকাশিত : ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৪, ০২:১৯ দুপুর
আপডেট : ০৩ মে, ২০২৫, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর এক–তৃতীয়াংশ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে

বিজ্ঞান ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা না হলে ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অব্যাহত থাকলে। নতুন এক গবেষণায় এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প বিপ্লবের গড় তাপমাত্রার তুলনায় ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট (১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বৃদ্ধি পায়, প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে প্রজাতির বিলুপ্তির হার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। বিশেষত উভচর প্রাণী, পাহাড়, দ্বীপ এবং বিশুদ্ধ পানির বাস্তুসংস্থানগুলোতে, এবং দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের প্রজাতি বিলুপ্ত বেশি হবে।

শিল্প বিপ্লবের পর পৃথিবীর তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১ দশমিক ৮ ফারেনহাইট) বেড়েছে। জলবায় পরিবর্তন তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরণের পরিবর্তন ঘটায়, যা বাস্তুসংস্থান এবং প্রজাতির সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, তাপমাত্রার বৃদ্ধির কারণে পরাগায়নকারী উদ্ভিদের প্রস্ফুটিত হওয়ার সঙ্গে প্রজাপতির স্থানান্তরের মিল নেই। অনেক প্রাণী এবং উদ্ভিদ প্রজাতি তাদের বাসস্থান পরিবর্তন করছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে। জীবনধারণের জন্য আরও অনুকূল তাপমাত্রা পেতে তারা শীতল অঞ্চলে বা উচ্চস্থানের দিকে চলে যাচ্ছে।

কিছু প্রজাতি পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিযোজন বা স্থানান্তর করতে সক্ষম হলেও এই তীব্র পরিবর্তনে টিকে থাকতে পারে না অনেক প্রজাতি। এর ফলে প্রজাতির জনসংখ্যা কমে যায় এবং কখনো কখনো বিলুপ্তও হয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা, দশ লাখেরও বেশি প্রজাতির বিলুপ্ত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রজাতির বিলুপ্ত হওয়া কীভাবে সম্পর্কিত তা এখনো স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

নতুন গবেষণাটি গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন গবেষণায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এখানে ৪৫০ টিরও বেশি গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা অধিকাংশ পরিচিত প্রজাতিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো না গেলে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ১ লাখ ৮০ হাজার প্রজাতি বিলুপ্ত হতে পারে।

তবে যদি জলবায়ু মডেলের তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৯ ফারেনহাইট (২ দশমিক ৭ সেলসিয়াস) বাড়লে বিশ্বের প্রতি ২০টি প্রজাতির মধ্যে ১টি প্রজাতি বিলুপ্ত হবে।

এই সীমার বাইরে সম্ভাব্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে আরও বেশি সংখ্যক প্রজাতির বিলুপ্ত হতে পারে। যেমন: ৭ দশমিক ৭ ফারেনহাইট (৪ দশমিক ৩ সেলসিয়াস) তাপমাত্রা বাড়লে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্ত হতে পারে এবং ৯ দশমিক ৭ ফারেনহাইট (৫ দশমিক ৪ সেলসিয়াস) তাপমাত্রা বাড়লে পৃথিবীর প্রায় ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে।


কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী মার্ক আরবান লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ১ দশমিক ৫ সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করলে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতির সংখ্যা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়।


আরবান বলছেন, আমরা যদি প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী ,বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ সেলসিয়াসের নিচে রাখতে পারি, তাহলে খুব বেশি প্রজাতিবিলুপ্ত হবে না। তবে ২ দশমিক ৭ সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে, এই হার দ্রুত বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের প্রজাতি সবচেয়ে বড় হুমকির সম্মুখীন। উভচর প্রাণী সবচেয়ে বেশি বিপদে, কারণ তাদের জীবনচক্র আবহাওয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং তারা বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন ও খরার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পাহাড়ি, দ্বীপ ও সুপেয় পানির বাস্তুসংস্থানগুলোও প্রজাতিও সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ বিচ্ছিন্ন পরিবেশ তাদের প্রজাতির জন্য প্রতিকূল। তাদের পক্ষে স্থানান্তর এবং আরও অনুকূল জলবায়ু সন্ধান করা কঠিন বা অসম্ভব হয়ে ওঠে।

এই গবেষণার ফলাফল নীতি নির্ধারকদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আরবান আশা করেন। তিনি বলেন, নীতিনির্ধারকদের জন্য মূল বার্তা হলো—জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রজাতির বিলুপ্তি সম্পর্ক এখন আরও বেশি নিশ্চিত। কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার এখন আর কোনো অজুহাত নেই, কারণ এই প্রভাবগুলো আগে অনিশ্চিত ছিল।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়