স্পোর্টস ডেস্ক : আটচল্লিশ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিসরে শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের চুড়ান্ত পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে ৪২ দল। ইউরোপীয় ও আন্তমহাদেশীয় অঞ্চলের ৬ দল অধীর অপেক্ষায়। ৩১ মার্চ ফয়সালা হবে তাদেরও।
১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে যাওয়া বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও দুই মাসের বেশি সময় বাকি। অথচ ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ, আমেরিকার ভিসা নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ ৬ কারণে এই প্রতিযোগিতা অনিশ্চয়তার ছায়ায়।
ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ: বিশ্বকাপ যতই ঘনিয়ে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়। টুর্নামেন্টে ইরানের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ মার্কিন মুলুকে। তেহরান থেকে বারবার ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করা হলেও ফিফা এখনও পর্যন্ত ফিরতি উত্তর দেয়নি।
ইরানের ভেন্যু পরিবর্তনের বাহনার মূলে—আমেরিকা। তেল আবিব ও তেহরান যুদ্ধে ইসরায়েলের বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে ইসরায়েল। দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ইন্ধন ও সহযোগিতার কারণে প্রথম দিকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যু ব্যতিত যেকোনও ভেন্যুতে খেলতে রাজি। আর ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানলুইজি ইনফান্তিনো আশ্বাস দিয়েছেন, বিশ্বকাপে ইরানকে স্বাগত জানানো হবে। তবে ট্রাম্প নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেননি। সবকিছু বিবেচনায় বিষয়টি আরও জটিলতার দিকে যাচ্ছে, যা প্রভাব ফেলতে পারে বিশ্বকাপে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বেশ উত্তপ্ত। অবৈধ অভিবাসন রোধ ছাড়াও ইরানের বিপক্ষে ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না আমেরিকার অনেক রাজনীতিবিদ। ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ইউএস ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জানুয়ারিতে আইস হেফাজতে ছয়জনের মৃত্যুরে ঘটনা ঘটে।
ড্রাগ কার্টেল সহিংসতা: মেক্সিকোতে জালিস্কো ড্রাগ কার্টেলের সহিংসতা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বকাপের জন্য বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এটি। কার্টেল নেতা নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী ও কার্টেলের মধ্যে বেশ কয়েকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
যদিও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য ১ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা: ‘বিশ্বকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত’— ফিফা প্রেসিডেন্ট এমন ঘোষণা দিলেও বাস্তবতার নিরিখে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক ভক্তই সমস্যায় পড়ছেন। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যা বেআইনি অভিবাসন রোধের চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
ফলস্বরূপ, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের ভক্তদের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। আর ইরান ও হাইতির ভক্তরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ঝামেলায় পড়তে পারেন। তাছাড়া ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’ অনুযায়ী কয়েকটি দেশের ভক্তদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য।
টিকিটের উচ্চ দাম: বিশ্বকাপে সবচেয়ে কমদামি টিকিটের মূল্য ৬০ মার্কিন ডলার। এ নিয়ে আন্দোলন কম হয়নি। ফ্যান গ্রুপগুলোর অভিযোগ—টিকিটের আসল দাম অনেক বেশি এবং সাধারণ ভক্তদের জন্য এটি বহনযোগ্য নয়।
ফিফা অভিযোগ তুলেছে, এই টিকিটগুলো অনেক আগে বিক্রি হয়ে গেছে এবং বিজ্ঞাপনে দেখানো দাম আসলেই পাওয়া যায় না। এছাড়া পুনঃবিক্রয় বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও আছে। টিকিটের দাম বিশ্বকাপ থামিয়ে দেওয়ার মতো বড় ঘটনা না হলেও, সমালোচনা তীব্র হতে পারে বিশ্বকাপ চলাকালীন।
মাঠ ও আবহাওয়া: যেসব ভক্ত যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন, তাদের জন্য মাঠের পরিস্থিতি এবং আবহাওয়া একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে কয়েকটি মাঠ খারাপ অবস্থায় ছিল। এ নিয়ে খেলোয়াড় ও কোচরা অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেছিলেন। গরমের কারণে বিরতি বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছিল। ফিফা তিন মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি ঘোষণা দিয়েছিল। তবে কিছু সমালোচক মনে করেন এটি শুধুমাত্র টিভি বিজ্ঞাপনের সুবিধার জন্য। সূত্র, টি স্পোর্টস