ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। হাইব্রিড মডেলে আরেক আয়োজক শ্রীলঙ্কায় খেলতে যাওয়ার কথা অনেক আগে থেকেই জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে আইসিসি গতকাল সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। যদিও আইসিসিকে যৌক্তিকভাবে বেশ কিছু বিষয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের বৈঠকের পর ভারতে না যাওয়া সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে বুলবুল বলেন, ‘মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া হলো। বাদ দেয়া হয়েছিল...মুস্তাফিজ ইনজুরি আক্রান্ত ছিল না, মুস্তাফিজ নিজের থেকে নাম প্রত্যাহার করেনি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তার এনওসি (অনাপত্তিপত্র) বাতিল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজকে আইপিএলের একটা দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে, আমরা সরকারের মাধ্যমে জানতে পারলাম এবং আমরা ফিল করেছি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তা আমাদের বড় একটি ইস্যু। জানার সাথে সাথে ৪ জানুয়ারি আমরা আইসিসির সাথে যোগাযোগ করেছি। ’
এরপরই আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিসিবি। এ ব্যাপারে বুলবুল বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি, এই পরিস্থিতিতে ভেন্যু পরিবর্তন করেন, ব্যাপারটি সিরিয়াসলি দেখেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। যোগাযোগের এক পর্যায়ে এটা বলেছিলাম, এই নিরাপত্তার কারণে আইসিসি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আইসিসি বিভিন্ন সময়- ১৯৯৬, ২০০৩ যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল সেগুলো বলার চেষ্টা করেছে। আমরা সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলো আইসিসিকে বলেছি, এবং আইসিসির যে পদক্ষেপগুলো ছিল, সেগুলো আমরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি।’
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয় আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। তবে নিরাপত্তার কারণে সেদেশে যায়নি পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভারত। ভারতকে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল আইসিসি। সেটাই বলার চেষ্টা করেছেন বিসিবি সভাপতি।
বুলবুলের ভাষ্য, ‘গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে যখন একটা দেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তখন সে দেশের সরকারের অনুমতি নিয়ে যখন আইসিসিকে যখন জানানো হয়েছিল, তখন তাদের একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুর ব্যবস্থা করেছিল আইসিসি। এবং সেই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে তারা একটি হোটেলে থেকে, একটি মাঠে খেলেছে। এটি ছিল একটি সুবিধা। পরবর্তীতে আপনারা জানেন হাইব্রিড মডেল... যেটা হচ্ছে। আমরা সকলে বলছি শ্রীলঙ্কা যৌথ আয়োজক, শ্রীলঙ্কা যৌথ আয়োজক না, শ্রীলংকা হাইব্রিড মডেলের একটি অংশ, যেখানে অন্যান্য দেশের খেলাগুলো হচ্ছে। আমরা সেদিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, যেহেতু হাইব্রিড মডেলটাও নিরাপত্তার কারণে হয়েছে... সেই লাইনে আইসিসিকে বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারপরও আমাদের আবেদন খারিজ করা হয়েছে। আমরা আবারও চেস্টা করবো আজকে, আর কী কী পথ আছে আইসিসিকে বলার।’