স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। যা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে উত্তাল ক্রিকেট বিশ্ব। বিশেষ করে বিসিসিআইয়ের এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করছেন ভারতের অনেকেই। তাদের মধ্যে অন্যতম তিরবনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুর। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে মনে করেছেন তিনি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে এক নিবন্ধে থারুর লেখেন, ‘সামাজিক মাধ্যমের ক্ষোভকে শান্ত করতে তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এটা এখন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কূটনীতিতে যে আমরা এতটাই ভঙ্গুর, জাতির মর্যাদাহানি করে সেটা বোঝালাম। বেগুনি জার্সি পরা একজন বাঁহাতি পেসারের উপস্থিতিতে তা ওলটপালট হয়ে যেতে পারে সেটাও তার প্রমাণ। এটি আমাদের সভ্যতার আদর্শকে খাটো করে। আমরা এমন এক জাতি হিসেবে আচরণ করছি না যার মন এবং হৃদয় যথেষ্ট বড়।
থারুর তাঁর নিবন্ধে আরও লেখেন, ‘সীমান্তের ওপারে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সহিংসতার খবরের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমানের মতো একজন ক্রিকেটারকে লক্ষ্যবস্তু করার সিদ্ধান্তটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এতে আইপিএলের মূল চেতনা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই টুর্নামেন্টটি বিশ্বব্যাপী প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যখন বিসিসিআই কোনো খেলোয়াড়কে যাচাই করে নিলামের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, তখন তিনি একটি পেশাদার ব্যবস্থার অংশ হয়ে যান।
বিসিসিআইয়ের মাধ্যমে যোগ্য বিবেচিত হওয়ার পর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে দলে নেওয়ায় সেই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে শাস্তি দেওয়া বা কোনো খেলোয়াড়কে রাজনৈতিক কারণে বিদায় করতে বাধ্য করা টুর্নামেন্টের সততাকে খাটো করে।
মূলত বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে কলকাতার স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছিল ভারতের বিভিন্ন সংগঠন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিসিআই। যা ভালোভাবে মেনে নেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যেতে আপত্তি জানিয়েছে তারা। এমনকি বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আইপিএলের সম্প্রচার।