শিরোনাম
◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা ◈ তুরস্ক কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে? ◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক

প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৮:৩৯ রাত
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘মিশন বাদাম’র আড়ালে অক্সফোর্ডে জুলাইপন্থীদের ওপর হামলার প্রস্তুতি আ.লীগের

আগামী ১৪ জুন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির আয়োজিত বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হচ্ছেন বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীপন্থী অ্যাক্টিভিস্টরা। তারা ‘মিশন বাদাম’ নামে কর্মসূচি ঘোষণা করে ‘মব করার’ প্রস্তুতির জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আয়োজনের দিনে বিকেল থেকেই তারা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সামনে অবস্থান করার আগাম ঘোষণা দিয়েছেন।

যে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী কর্মসূচি

অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে আগামী ১৪ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ‘‘The Student-Led Uprising and the Future of Post-Revolutionary Bangladesh’’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করেছে। যদিও অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির পক্ষ থেকে এখন প্রকাশ্যে এমন কোন কর্মসূচির বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি, তবে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত একাধিক অতিথি দ্য ডিসেন্টকে নিশ্চিত করেছেন যে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রিত হয়েছেন এবং তাদের কেউ কেউ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

আলোচনায় বক্তারা ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান, এর প্রভাব এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ও মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশগুলোর একটি বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করবে। 

বক্তারা আলোচনা করবেন, কীভাবে এই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে এবং বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে বক্তা হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে পাঁচ জনের। তারা হলেন- বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনে সংসদ সদস্য হাসানাত আবদুল্লাহ, মানবাধিকারকর্মী ও অন্তর্বর্তী সরকারের গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাহরীন খান।

অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. নাহরীন খান দ্য ডিসেন্টকে বলেন, আমরা অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে সশরীরে অনুষ্ঠানে অংশ নেব। আমি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। মিশন বাদাম বা এই ধরণের কার্যক্রমের বিষয়ে আমার জানা নেই।

শফিকুল আলমও আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তবে তিনি যোগ দেবেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।

‘মিশন বাদাম’ নামের আড়ালে কী বার্তা?

অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়ে প্রথমে British Hindus নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে ডাকসু’র ভিপি সাদিক কায়েমের ছবি যুক্ত করে ২৯ মে সকাল ৪টা ৩৪ মিনিটে একটি পোস্ট করা হয়। 

পোস্টে লেখা হয়, ‘‘২০২৬ সালের ১৪ জুন, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন, অক্সফোর্ড বাংলাদেশ সোসাইটির সহযোগিতায় বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সাংবিধানিক সংকট নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করবে। এই আয়োজন নিয়ে কমিউনিটির কিছু সদস্য সাদিক কায়েমকে প্যানেলিস্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’’

‘‘কায়েম ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন সিনিয়র পদধারী কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম ছাত্রশিবির বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন, যেটিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উগ্র-ডানপন্থী ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টাল (South Asia Terrorism Portal) ছাত্র শিবিরকে বৃহত্তর উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।’’ 

ব্রিটিশ হিন্দু নামক পেজটি তাদের ওয়েসাইটেও এই বক্তব্যটি প্রকাশ করেছে। 

সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টাল ভারত ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান।

এরপর থেকেই নিজেকে ‘মানবাধিকারকর্মী’ পরিচয় দেয়া আওয়ামী লীগ নেতা সুশান্ত দাস গুপ্ত এর নেতৃত্বে ‘মিশন বাদাম’ নামে কর্মসূচির প্রচারণা শুরু হয়। সুশান্ত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মসূচির প্রচারণা জারি রেখেছেন।

গত ২৯ মে বিকাল ৬ টা ১৯ মিটিটে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “১৪ জুন, রবিবার বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অক্সফোর্ডে একটা মিশন আছে। কে কে মিশনে থাকতে চান ইনবক্সে জানায়েন।”

পোস্টের মন্তব্যে যুক্ত একটি ফটোকার্ডে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন বক্তার ছবি ও নাম ব্যবহার করা হয়।

পরদিন ৩০ মে আরেক পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন, “মিশন বাদাম। ১৪ জুন রবিবার যাচ্ছি অক্সফোর্ড। ন্যূনতম অংশগ্রহণকারী ৭১ জন। বিকাল ৫টা থেকে অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ভেন্যুর সামনে অবস্থান শুরু হবে।”

পরবর্তী পোস্টে সুশান্ত জানান, "মিশন বাদাম" এ অংশগ্রহণ করার জন্য ৮৬ সিটের একটি বাস ভাড়া করা হয়েছে। আমাদের টারগেট এই মিশনে আমরা ৭১ জন অংশগ্রহণ করবো। ১৪ জুন দুপুর ২ টায় আলতাব আলী পার্ক থেকে বাস ছাড়বে এবং একই দিন রাত ১০ টায় আমরা রিটার্ন করবো। আগ্রহীগন এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন।’’

কর্মসূচির নাম ঘোষণার পর থেকেই ‘মিশন বাদাম’ নামটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। কেন এই নাম বেছে নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

বুধবার (৩ জুন) রাতে ‘সিলেটি মাত চলের। আছইননি?’ শীর্ষক একটি অনলাইন আলোচনায় অংশ নিয়ে সুশান্ত দাস গুপ্ত নিজেই নামটির ব্যাখ্যা দেন। আলোচনার আয়োজক ও সঞ্চালক ছিলেন তিনি নিজেই। তার ফেসবুক প্রোফাইলেই সেটির লাইভ সম্প্রচার করা হয়। লাইভে অন্যান্যদের মধ্যে আওয়ামীপন্থী প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুর বারি, এমদাদ রহমান, বঙ্গবন্ধু গবেষক সুজাত মনুসর, আওয়ামী সংস্কৃতিককর্মী স্বাধীন খসরু অংশ নেন। অনুষ্ঠানে এদের সবাইকে সিলেটি ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়।

ফেসবুক লাইভের ৩৭ মিনিটের দিকে সুশান্ত দাস গুপ্ত বলেন, “সিলেটে বাদামকে আমরা বাদাম বলি। পিটা দেওয়াকেও আমরা বাদাম বলি। পুলিশ জিজ্ঞেস করলে বলবো বাদাম খাইতে আসছি।”

অর্থ্যাৎ, ‘মিশন বাদাম’ এর প্রচারিত পোস্টারে বাদামের ছবি থাকলেও ‘বাদাম’ শব্দ দ্বারা সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কাউকে মারধরের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বাদামের কাছাকাছি শব্দ ‘বাঠাম’ বা ‘বাটাম’ দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মারধর করাকে বোঝানো হয়।

তাছাড়া ব্রিটিশ স্ল্যাং ‘‘Do one's nut’’ এর অর্থ To become enraged বা প্রচণ্ড রেগে যাওয়া, ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠা বা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সুশান্ত দাস গুপ্ত অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি বরাবর একটি ই-মেইল পাঠান। সেখানে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের কাছে একটি প্রস্তাবিত অনুষ্ঠান পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জানান। ফেসবুক পোস্টেও তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘২০২৪ সালের বাংলাদেশে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা, পুলিশ সদস্যদের নিহত হওয়া, রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা, রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় আক্রমণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই ঘটনাগুলোকে একপাক্ষিকভাবে “Student-Led Uprising” এবং “Post-Revolutionary” রূপে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’’

যোগাযোগের ঠিকানায় তিনি যুক্তরাজ্যের কান্ট্রি কোড যুক্ত নম্বর (+44 7702 020900) এবং ই-মেইল আইডি যুক্ত করেছেন।

 এসব ঠিকানায় সুশান্ত দাস গুপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্য ডিসেন্টে। 

তিনি বলেন, “আমরা মূলত চেয়েছিলাম যেন সবার অংশগ্রহণে এই ধরণের অনুষ্ঠান (অক্সফোর্ড ইউনিয়নের) করা হয়। অথচ অনুষ্ঠানে শুধু একপাক্ষিক ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদস্বরূপ আমরা  আগামী ১৪ জুন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সামনে "মিশন বাদাম" নামে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেব। এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক কর্মসূচি নয়। বরং আমরা গণতান্ত্রিকভাবে একটি বিকল্প মতামত তুলে ধরতে চাই। আমরা নিজেদের কোথাও আওয়ামীপন্থী বলে উল্লেখ করিনি। আমরা একাত্তরের পক্ষের শক্তি।”

‘মিশন বাদাম’ নামকরণের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, "মিশন বাদাম" নামটি মূলত একটি প্রতীকী নাম। এটি ব্যঙ্গ, রসবোধ এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি গুরুতর রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা। 

‘মিশন বাদাম’-এ অংশ নিতে আগ্রহীদের জন্য একটি গুগল ফর্মও চালু করা হয়েছে। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের নাম, ফেসবুক আইডি এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চাওয়া হচ্ছে।

সুশান্ত দাস গুপ্ত তার পোস্টে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে এবং ব্যক্তিগত তথ্য পাঠাতে আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রথমে ভুল অতিথি তালিকা প্রকাশ, পরে সংশোধন

কর্মসূচির শুরুতে প্রচারিত ফটোকার্ডে অতিথির তালিকা ভুলভাবে উপস্থাপন করেন সুশান্ত দাস গুপ্ত। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশর ফটোজার্নালিস্ট শহিদুল আলম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, মানবাধিকার কর্মী ও গুম কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং বিএনপি থেকে চট্টগ্রাম-৭ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী অতিথি থাকবেন বলে উল্লেখ করেন। 

তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, তার উল্লেখিত অতিথিদের নামের তালিকা সঠিক নয়। 

বুধবার (৩ জুন) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শকিকুল আলম অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির আয়োজিত প্যানেল আলোচনার অতিথিদের তালিকা ফেসবুকে পোস্ট করেন। প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের একজন অধ্যাপক ড. নাহরীন খানও দ্য ডিসেন্টকে শফিকুল আলমের শেয়ার করা তালিকাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সেই তালিকার তথ্যমতে, অতিথিরা হলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা–৪ আসনে সংসদ সদস্য হাসানাত আবদুল্লাহ, মানবাধিকারকর্মী ও অন্তর্বর্তী সরকারের গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাহরীন খান।

পরবর্তীতে সুশান্ত দাস গুপ্ত সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী নতুন ফটোকার্ড পোস্ট করেন ফেসবুকে। একইসঙ্গে পোস্টের ক্যাপশনে ‘মিশন বাদাম’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের নিবন্ধনের আহ্বান জানান তিনি। ক্যাপশনে লিখেন, ‘‘রেজিষ্ট্রেশন লিংক কমেন্টে। মিশন বাদাম। আজকের বাদাম, আগামী দিনের গল্প।’’

আওয়ামীপন্থী অ্যাক্টিভিস্টদের প্রচারণা

‘মিশন বাদাম’ কর্মসূচির পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পরিচিত অ্যাক্টিভিস্টকে।

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরিচয়ধারী ফরিদ ইমন ফেসবুকে অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট করেন। একটি পোস্টে লিখেন, ‘‘মিশন বাদাম, ১৪ জুন, রবিবার। অক্সফোর্ড যাত্রায় আজ নাম রেজিস্ট্রেশন করলেন যারা। আপনিও মিশন বাদামে অংশগ্রহণ করতে চাইলে লিংকে দেওয়া কমেন্টে রেজিষ্ট্রেশন করুন।’’ তিনিও কমেন্টে গুগল ফর্মের রেজিস্ট্রেশন ফর্ম যুক্ত করেন।

রফিকুল ইসলাম সুমন নামে আওয়ামীপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট ভিডিও পোস্ট করে মিশন বাদামে নিজে অংশগ্রহণ করবেন এবং অন্যদের অংশগ্রণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের রাজাকাররা এই লন্ডনে আসতেছে। আমরাও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সামনে রেডি আছি।’’

এছাড়া ‘Fight for Justice in Bangladesh’ নামের একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে লেখা হয়, “আগামী ১৪ তারিখ ‘মিশন বাদাম’ প্রোগ্রাম আছে। শিবিরের সাদেক কায়েমসহ রাজাকারদের ধরা হবে। অংশগ্রহণ করুন লন্ডনের অক্সফোর্ডে।”

সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ফজলুল বারীও ‘অপারেশন মিশন বাদাম’ এর প্রস্তুতি শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করেছেন।

আগেও আ.লীগের হামলা-হেনস্তার শিকার হয় জুলাইপন্থীরা

২০২৫ সালের ১০ জুন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লন্ডন সফরে গেলে বিক্ষোভ করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

একই বছরের ২৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা করে।

২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর এনসিপি নেতা আখতারকে হেনস্তা করেন আওয়ামীলীগ নেতা–কর্মীরা। এ সময় তার উপর ডিমও নিক্ষেপ করা হয়। আখতারের সঙ্গে তখন হাঁটছিলেন সফরসঙ্গী হিসেবে আসা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা এ সময় তাসনিম জারাকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করেন।

এ বছরের ২৩ মে পর্তুগালের লিসবনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আকতার হোসেনের ওপর হামলার একটি ভিডিও শনিবার ভোরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পর্তুগালের লিসবনে একটি পার্কে তিনি অবস্থানকালে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তার ওপর হামলা করে।

সূত্র: দ্য ডিসেন্ট

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়