শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৬, ০৮:১২ রাত
আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অগ্রাধিকারের তালিকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নেই বিএনপির

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য এখনো প্রস্তুতি শুরু করেনি ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গুছাতে সময় দিতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য এ বিষয়ে বলেন, সরকারের সামনে এই মুহূর্তে আরও অনেক জরুরি বিষয় সামলানোর কাজ রয়েছে।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর দল গোছানোর জন্য খুব একটা সময় পায়নি বিএনপি। দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এখন সরকারে দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠক, সংসদীয় দায়িত্ব, বৈশ্বিক পরিস্থিতির জবাব দেওয়া এবং দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নেই তাদের দিন কাটছে।

ওই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা যদি ঠিকমতো দল গোছাতে সময় না দিই, তবে অন্য দলগুলো এর সুবিধা নিতে পারে।’

ঢাকার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংগঠক—অনেকেই বর্তমানে সরকারের দায়িত্বে আছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এর অর্থ হলো, দল এখনো স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেনি।

তবে জেলা পর্যায়ের সাতজন নেতা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, দলীয় কার্যক্রমে ফিরতে না প্রভাব তাদের সামনে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

কিছু এলাকায় বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যে অনানুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে বৈঠক হচ্ছে, নেতাকর্মীরা এলাকায় গণসংযোগ করছেন এবং দলীয় সমর্থকেরা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

মানিকগঞ্জের উপজেলা পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি এখনো ঠিকমতো শুরু হয়নি। খুব বেশি দেরি করলে রাজনৈতিকভাবে আমাদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

তৃণমূলের নেতারা ইতিমধ্যে ঢাকায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন। স্থানীয় ইউনিটগুলো যাতে প্রস্তুতি শুরু করতে পারে, সে জন্য নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের তাগিদ দিচ্ছেন তারা। কিছু স্থানীয় নেতা এই ইস্যুতে দলের ভেতরে তদবিরও চালাচ্ছেন।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এসব উদ্বেগের কথা স্বীকার করলেও বলছেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হবে।

ইতোমধ্যে বিএনপি নিজেদের দলের ভেতর থেকেই অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া বেশির ভাগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।

দলীয় নেতারা বলছেন, এই ব্যবস্থা সরকারকে নির্বাচনের জন্য ঠিকঠাক প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দেবে।

এদিকে স্থায়ী কমিটির তিনজন সদস্য জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর দল নিজেদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে। এই প্রক্রিয়ায় কিছু সাংগঠনিক দুর্বলতাও ধরা পড়েছে। স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনের আগে সেগুলো সংশোধন করা হবে। আমরা ভুলের পুনরাবৃত্তি চাই না।’

এ কারণে দলীয় নেতৃত্ব স্থানীয় কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার জন্য সময় চাইছে। তবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে নাকি অন্য প্রতীকে হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

গত ১ মার্চ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ সাংবাদিকদের জানান, ঈদুল ফিতরের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের বিধান বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ যদি এটি অনুমোদন করে, তবে নির্বাচন সেই পদ্ধতিতেই হবে। আর আইন যদি আবার পরিবর্তন হয়, তবে নির্বাচন পদ্ধতিও বদলে যাবে।’

বর্তমানে সারা দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ এবং প্রায় ৪ হাজার ৫৭০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।

সূত্র: দ্য ডেইলি ষ্টার বাংলা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়