মনিরুল ইসলাম : কনকনে শীতের গভীর রাতে গারো পাহাড়ঘেঁষা হালুয়াঘাটের গাবড়াখালি বাজারে নির্বাচন–কেন্দ্রিক পথসভায় বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা কিছু স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক দলের ‘গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে’। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে এসব দল ‘মিথ্যা অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডায়’ নেমেছে।
প্রিন্স বলেন, ‘যাদের নিজেদের দলে ৩০০ আসনে দাঁড় করানোর মতো যোগ্য বা জনপ্রিয় প্রার্থী নেই, তারাই আজ বিএনপির প্রার্থীদের গডফাদার বলে হাস্যকর মন্তব্য করছে। এটা রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত।’
তিনি অভিযোগ করেন, নতুন গঠিত একটি ছোট দল রাজনীতির মাঠে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ‘একজন বেয়াদব লোককে’ সামনে এনে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। বিএনপির প্রতি জনসমর্থন বেড়ে যাওয়ায় এসব দল এখন ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে’ ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রিন্স আরও বলেন, ‘জনগণ বিএনপিকে চেনে। গণ-অভ্যুত্থান, আন্দোলন এবং আপসহীন ভূমিকার মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ জনগণের দল হয়ে উঠেছে। ক্ষমতায় ফিরলে যারা মিথ্যা অপপ্রচার করছে, তাদের জনসমর্থনই ধসে পড়বে।’
তিনি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলের ‘মহা পরিকল্পনা’ জনগণের সামনে তুলে ধরেন এবং বলেন,
‘যেসব দল প্রতিদ্বন্দ্বিতার শক্তি হারিয়েছে, তাদের উচিত নেতিবাচক রাজনীতি ছেড়ে ইতিবাচক রাজনীতি শেখা।’
এদিন শীত উপেক্ষা করে শত শত নারী–পুরুষ, তরুণ–তরুণী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক গারো জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে পথসভাটি জনসভায় রূপ নেয়।
প্রিন্স বিকেল থেকে সীমান্ত ঘেঁষা আরও পাঁচটি বাজারে পথসভা করেন। তিনি বলেন, ‘সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর নজরদারির নামে গুলি, হত্যা ও হয়রানি বন্ধ করতে আগামী বিএনপি সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’
এর আগে দুপুরে কিসমত নড়াইল ও কান্দাপাড়া এলাকায় দুইটি পথসভায়ও বক্তব্য রাখেন তিনি।
পথসভাগুলোতে বক্তব্য দেন, হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, আলী আশরাফ, মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আবদুল খালেক, জাহেদ আলী, বিএনপি নেতা অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন, অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতা সুভ্রত রেমা, যুবদল নেতা তারিকুল ইসলাম চঞ্চল, আসাদুজ্জামান আসিফসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।