শিরোনাম
◈ মিয়ানমার সীমান্তে আগের পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হবে না: প্রত্যাশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর  ◈ জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নাই: রওশন এরশাদ ◈ সাংবাদিকরা চাষাবাদ করছেন কি না, দেখার দায়িত্ব পেলেন শাইখ সিরাজ ◈ কারামুক্ত বিএনপি নেতা আলালের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন মঈন খান ◈ গাজায় যুদ্ধ নয়, গণহত্যা চলছে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শুক্রবার বিশ্বে বাতাস দূষণের তালিকায় ঢাকা ছিল সপ্তম ◈ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে নির্বাচন  নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেনি: প্রধানমন্ত্রী ◈ লোহিত সাগরে হামলায় ব্যবহার করা হবে সাবমেরিন অস্ত্র: হুথি নেতা  ◈ ২১ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন আসজাদ ◈ যারা সরকার উৎখাত করতে চায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তাদেরই কারসাজি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০২:৪২ রাত
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০২:৪২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের জেলা-উপজেলার স্কুল-কলেজে লেখাপড়ার মান লাটে উঠেছে! 

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন 

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: কিশোরগঞ্জ আমার জেলা। সেই জেলার ইটনা একটি উপজেলা। সেই উপজেলায় একটি সরকারি কলেজ আছে, যার নাম সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নামে। সেই কলেজে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ৫১৭ জন, আর সেখান থেকে পাস করেছে ১০৩ জন। গত বছর এখন থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ পাস করেছিল, আর এবার ২০ শতাংশ। এই ৮০-২০ এর রহস্য কোথায় জানি না। এই জেলায় আরেকটি উপজেলার নাম হোসেনপুর। সেখানে ৪টি কলেজ আছে। সেখান থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ১২৩৫ জন। কোনো জিপিএ ৫ পায়নি। পাস করেছে ৮৩৬ জন। আমার বাজিতপুর উপজেলায় একটি কলেজ। সেই কলেজ থেকে এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ৮ জন। তার মধ্যে ৩ জন বিজ্ঞান বিভাগের। এর আগের বছর ২৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল, যার মধ্যে ১৯ জনই ছিল মানবিকের। অথচ আমাদের সময় সবসময় বিজ্ঞানে বেশি সংখ্যক ভালো রেজাল্ট করতো। 

অন্যদিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি সরকারি কলেজ আছে। সেখান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৭৫ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র দুইজন। রাজবাড়ী জেলার ৫টি উপজেলায় মোট ২৪টি কলেজ আছে। এগুলোর অধিকাংশের অবস্থা অনেকটা এমনই। বঙ্গবন্ধু ও উনার সহধর্মিনীর নামে এখন বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও আছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাই এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নির্মাণ করেছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসিদের মান দেখুন, লেখাপড়ার মান দেখুন। কোনো কিছুই বঙ্গবন্ধুর উচ্চতার সঙ্গে যায় না। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো হলে দেশের মঙ্গল হতো। এতোক্ষণ ধরে যা বলতে চেয়েছি সেটা হলো, বাংলাদেশের জেলা-উপজেলার স্কুল-কলেজে লেখাপড়ার মান লাটে উঠেছে। এসব কলেজে এইচএসসির ক্লাস কদাচিৎ হলেও বিএ/বিএসসি অর্থাৎ ডিগ্রি কোর্সের ক্লাস একদম হয়ই না। আর অনার্স-মাস্টার্সও তথৈবচ। ২০১৬ সালে ৩০৩টি কলেজকে সরকারিকরণ করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০০ এর অধিক কলেজে নিয়মিত কোনো অধ্যক্ষ নেই। সরকার যে শিক্ষায় কতটা গুরুত্ব দেয় এর মধ্যে দিয়ে কি যথেষ্ট প্রমাণ হয় না? সংক্ষেপে এই হলো আমাদের শিক্ষার চালচিত্র। 

ঢাকা শহরের ৪-৫টি মিশনারি কলেজ না থাকলে বাংলাদেশের এইচএসসি লেভেলের লেখাপড়ার মান যে কোন পাতালে মিশে যেতো, ভাবলেও গা শিহরে উঠে। সরকারের এদিকে নজর নেই। এসব দিকে তাকালেই বোঝা যায়, আমাদের শিক্ষায় কতো অবহেলা। এদিকে তাকিয়ে শিক্ষার উন্নতি করার কতো সুযোগ আছে। এসব রেখে সরকার লেগেছে কারিকুলাম পরিবর্তনে। কেন? কী উদ্দেশ্যে? কোন অগ্রাধিকারের ক্রমের লিস্টের উপরের দিকে থাকার কথা? অনেককিছু করার পরে কারিকুলাম নিয়ে ভাবা যায়। সেটাও একবারে শতভাগ পরিবর্তন বিশ্বে কোথাও হয় না। বড়জোর এক বছরে ২০ শতাংশ। উদ্দেশ্য ভালো হলে বিদ্যমান কারিকুলাম দিয়েই শুধু একেকটি কলেজকে নটরডেম হলিক্রস কলেজের মানে উন্নীত করলেই তো দেশের শিক্ষার মানের আমূল পরিবর্তন ঘটতো। উপজেলা লেভেলের কলেজগুলোর মান বৃদ্ধি করলে মানুষের ঢাকায় আসার প্রবণতাও কমে যেতো। 
আমাদের ছেলেমেয়েরা এখনো কিছু ভালো রেজাল্ট করে, সেটার জন্য ধন্যবাদ দিতে হবে কোচিং এবং যারা প্রাইভেট পড়ায় সেই শিক্ষকদের। আমাকে ছাত্রছাত্রীরা বলে স্কুল-কলেজে ক্লাস হয় না। হলেও লেখাপড়া তেমন হয় না। আসলে আমরা সবকিছুতেই কেবল খোলসটা নিই, ভেতরটা নিই না। বাচ্চাদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার ফিনল্যান্ডের নেওয়ার নামে কেবল খোলসটা নিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলস, শিক্ষক নামে খোলস, গণতন্ত্রের নামেও  শুধু খোলসটা নিলাম। কারণ আমরা কেবল ধাপ্পাবাজিই শিখেছি। শিক্ষায় উন্নত করার সৎ উদ্দেশ্য প্রমাণের প্রাথমিক লিটমাস টেস্ট হলো শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির ন্যূনতম ৫ শতাংশ দেওয়া। এই ১.৭৬ শতাংশ বরাদ্দ দিলে শিক্ষার মান কেবল পিছাবেই। আমাদের বিগত কোনো সরকারের শিক্ষা উন্নয়নের ন্যূনতম উদ্দেশ্যও ছিল না। শুধু বরাদ্দ দিলেই হবে না। একইসঙ্গে শিক্ষকদের বেতন এবং সম্মানও বৃদ্ধি করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষকরা সবচেয়ে কম বেতন পায় বাংলাদেশে। ফলে শিক্ষার মান দক্ষিণ এশিয়ার তলানিতে থাকাটি স্বাভাবিক এবং হয়েছেও তাই। লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়