শিরোনাম
◈ মিয়ানমার সীমান্তে আগের পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হবে না: প্রত্যাশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর  ◈ জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নাই: রওশন এরশাদ ◈ সাংবাদিকরা চাষাবাদ করছেন কি না, দেখার দায়িত্ব পেলেন শাইখ সিরাজ ◈ কারামুক্ত বিএনপি নেতা আলালের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন মঈন খান ◈ গাজায় যুদ্ধ নয়, গণহত্যা চলছে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শুক্রবার বিশ্বে বাতাস দূষণের তালিকায় ঢাকা ছিল সপ্তম ◈ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে নির্বাচন  নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেনি: প্রধানমন্ত্রী ◈ লোহিত সাগরে হামলায় ব্যবহার করা হবে সাবমেরিন অস্ত্র: হুথি নেতা  ◈ ২১ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন আসজাদ ◈ যারা সরকার উৎখাত করতে চায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তাদেরই কারসাজি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০১:০৩ রাত
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০১:০৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : ‘মৃত্যুঞ্জয়ীমিত্র’ ও বঙ্গবন্ধু-ইন্দিরা গান্ধী

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল): ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ ভারতের সংসদে এক অভূতপূর্ব দৃষ্টপটের সৃষ্টি হয়েছিল। শতভাগ ভারতীয় সংসদ সদস্য সেদিন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছিলেন। দিবসটি এখন বাংলাদেশ-ভারত ‘মৈত্রিদিবস’। ভারতীয় আইন প্রণেতাদের এই হৃদয় নিঙরানো সমর্থনের পর ভারত সরকার সেইদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিলোÑ স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতিইন্দিরা গান্ধী আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতির কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদকে। অবশ্য মুক্তিযুদ্ধর একদম শুরু থেকেই ভারত বাংলাদেশ আর বাংলাদের জন্য তার বন্ধুত্বের হাতটি প্রসারিত করেছিলো। বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিলো ভারতের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফও মুক্তিযুদ্ধের একদম শুরুর দিক থেকেই মুক্তিবাহিনীকে সবরকম সামরিক সহায়তা যুগিয়ে আসছিলো। মুক্তি বাহিনীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছিলো ভারতেই। একাত্তরের ৯ মাসে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন যোগাড় করার জন্য বিশ^ময় ছুটে বেরিয়েছিলেন শ্রীমতিগান্ধি এবং তার মন্ত্রী সভার সদস্যরা। মুক্তিযুদ্ধের বাঁকে-বাঁকে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের এমনই অসংখ্য সহযোগিতা বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই, যুদ্ধবিদ্ধস্ত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলো ভারতবর্ষ। বাংলাদেশকে বিনামূল্যে জ্বালানি সহায়তা প্রদান থেকে শুরু করে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও অবকাঠামো পুনঃনির্মাণে ভারতীয় সহায়তার কথা সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। তবে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাহলো বাংলাদেশের  স্বাধীনতার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় এদেশ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের পর জাপান, জার্মানিবা দক্ষিণ কোরিয়ায় যে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিলো, তারা আজও দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের এতো বছর পরও এসব দেশে মোতায়েন রয়েছে। এমনকি এসব দেশে রয়েছে মার্কিন ঘাঁটিও। অথচ ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ, যেখানে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে উপহার হিসেবে তার সেনাদের নিজ সীমান্তের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।

আজও যখন উন্নয়নের মহাসড়কে ধাবমান বাংলাদেশ, তখন পরস্পরের উন্নয়ন যাত্রায় সহযোগী বাংলাদেশ ও ভারত। একটা সময় যখন এদেশের ক্ষমতায় ছিলো ক্যান্টনমেন্ট থেকে জন্ম নেওয়া দলগুলো। তখন বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহৃত হয়েছে ভারতের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ আর ভারতকে  অস্থিতিশীল করার কাজে। এদেশে একসময় ভারতের সেভেন সিস্টার্সে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলোর সরব উপস্থিতি ছিলো। আমাদের বহুল আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্রের গন্তব্য ছিল ভারতই। সেই জায়গা থেকে দুই জনগণ তান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দুই দেশের সম্পর্ক আজ বিশে^ অনুকরণীয়। কারণ বাংলাদেশ  আর ভারত যে শুধু কাধে-কাধ মিলিয়ে একে অপরের উন্নয়নেই সহযোগিতা করছে তাই নয়, তারা পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে একে অপরের দুঃসময়েও। এর উদাহরণ আমরা দেখেছি কোভিডকালীন সময়ে যখন ভারতীয় ভ্যাকসিন যেমন একদিকে বাঙালির জীবন রক্ষা করেছে, তেমনি অন্য দিকে বাংলাদেশের র‌্যামডিসেভির বাঁচিয়েছে ভারতীয় প্রাণ।

বাংলাদেশ ভারতে মুক্তিযুদ্ধকালীন এমনই সহযোগিতা পৃথিবীর ইতিহাসেই বিরল। মিত্রের প্রতি মিত্রের যুদ্ধকালীন সময়ে এমন সহায়তার নমুনা আমরা হালের রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও দেখেছি, কিন্তু একটি দেশের স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছে অন্য দেশের মানুষ, এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে সম্ভবত আর একটিও নেই। আর সেই কাজটি করেছিলেন ভারতের সামরিক, নৌ ও বিমান বাহিনীর সহস্রাধিক সদস্য, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য অকাতরে তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন। বছর দুয়েক আগে ভারতের সদ্য সাবেক হাইকমিশনার চট্টগ্রামের উপকণ্ঠে একটি ভাস্কর্য্যরে উদ্বোধন করেছিলেন। ‘মৃত্যুঞ্জয়ীমিত্র’ নামের ওই ভাস্কর্যটি স্থাপিত হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে, যেখানে ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১, পরাজিত পাকিস্তািন সেনাদের কাপুরুষচিত আকস্মিক আক্রমণে শহীদ হয়েছিলেন অসংখ্য ভারতীয় সেনা আর আমাদের মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা। বাঙালি আর ভারতীয় শহীদদের মিলিত স্রোত ধারায় স্বাধীন বাংলাদেশের স্মারক হয়ে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে মৃত্যুঞ্জয়ীমিত্র। মুত্যুঞ্জয়ীমিত্রদের এই মৈত্রী দিবস তাই বিশে^ও ইতিহাসে মৈত্রী আর সহযোগিতার এক অনন্য দিবস হিসেবে বছরের পর বছর ক্যালেন্ডারের শেষের পাতায় জ্বল-জ্বল করবে।

লেখক : ডিভিশনপ্রধান, ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজিডিভিশন, বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য সচিব, সম্প্রীতি বাংলাদেশ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়