শিরোনাম
◈ মিয়ানমার সীমান্তে আগের পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হবে না: প্রত্যাশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর  ◈ জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নাই: রওশন এরশাদ ◈ সাংবাদিকরা চাষাবাদ করছেন কি না, দেখার দায়িত্ব পেলেন শাইখ সিরাজ ◈ কারামুক্ত বিএনপি নেতা আলালের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন মঈন খান ◈ গাজায় যুদ্ধ নয়, গণহত্যা চলছে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শুক্রবার বিশ্বে বাতাস দূষণের তালিকায় ঢাকা ছিল সপ্তম ◈ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে নির্বাচন  নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেনি: প্রধানমন্ত্রী ◈ লোহিত সাগরে হামলায় ব্যবহার করা হবে সাবমেরিন অস্ত্র: হুথি নেতা  ◈ ২১ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন আসজাদ ◈ যারা সরকার উৎখাত করতে চায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তাদেরই কারসাজি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০১:৪১ রাত
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০১:৪১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আপনাদের কাছে যে শিক্ষা পদ্ধতিকে ‘প্যাক প্যাক’ মনে হচ্ছে...

সাদিয়া নাসরিন

সাদিয়া নাসরিন: ন্যাশনাল কারিকুলামের শিক্ষক প্রশিক্ষণ ভিডিও দেখে যারা কার্ডিয়াক এ্যাটাক করেছেন, ... আপনাদের হৃদপিণ্ডের কম্পন থেমে গেলে কিছু আলাপ শুনুন। [১] আপনাদের কাছে যে শিক্ষা পদ্ধতিকে ‘প্যাক প্যাক’ মনে হচ্ছে, সেই শিক্ষা পদ্ধতির সাথে আমরা, মানে আমাদের মতো অভিভাবক যারা এই দেশে থেকে বিদেশি শিক্ষা ব্যবস্থায় বাচ্চা পড়িয়েছি, তারা অভ্যস্ত প্রথম দিন থেকেই। আমরা এই পদ্ধতির সুফল পাই বলেই রক্ত পানি করে লক্ষ লক্ষ টাকা এই প্যাক প্যাক খেলার জন্য খরচ করি এবং এসব আন্তর্জাতিক কারিকুলামের শিক্ষকগণও মহাআনন্দে শিক্ষার্থীদের সাথে প্যাক প্যাক খেলেন, আমাদের বাচ্চারা তারচেয়েও বেশি আনন্দে ফুল পাতা আঁকেন। খোদার কসম এতে আমাদের বাচ্চারা গোল্লায় যায়নি। 

[২] আজকে মূলধারার স্কুলে যে শিক্ষা পদ্ধতির কথা দেখে বা শুনে আপনারা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র খুঁজে পাচ্ছেন, তাঁদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, এই দেশে গত তিরিশ বছর যাবৎ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে স্কুল ড্রপ আউট শিশুদের জন্য এই পদ্ধতিতে শিক্ষাকার্যক্রম চালানো হয় এবং এই পদ্ধতিতে ড্রপআউটের রেট খুবই কম, চার শতাংশ।

[৩] ‘আনন্দ স্কুল’ নামে পরিচালিত এই শিক্ষা পদ্ধতি এই দেশে জনপ্রিয় করে ব্র্যাক এবং পরে সরকার তাদের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে এই পদ্ধতি এডপ্ট করে। এখন, সরকারের প্রথমিক এবং গণশিক্ষা দুটো অধিদফতর আনন্দ স্কুল কনসেপ্টে ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। বলতে ভালো লাগছে, সংযোগ বাংলাদেশ এই কর্মযজ্ঞের অংশিদার। [৪] বিশ্বাস করুন, এই পদ্ধতি আরামদায়ক, শিশুদের মানসিক-শারীরিক-বুদ্ধিবৃত্তিক গঠনে উপযোগী। এখানে বাচ্চারা আ- থেকে আম শেখে না, বরং আম হাতে নিয়ে আ এবং ম দুটো বর্ণের সাথেই পরিচিত হয় এবং এখানে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাচ্চাদের সাথে মা-বাবাকে দৌড়াতে হয় না। বরং বাচ্চাই মা-বাবাকে দৌড়ের উপরে রাখে শিক্ষা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার জন্য। 

[৫] এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের কিছু টেকনিক্যাল ঝামেলা আছে, যা দূর করা সম্ভব। তবে প্রথমিক এবং অলঙ্ঘনীয় বাধা হচ্ছেন আপনারা। কারণ কি জানেন? কারণ আপনারা জানেন না কীভাবে বাচ্চাদের শিক্ষা কার্যক্রমে অভিভাবককে সম্পৃক্ত হতে হয়। আপনারা ধরেই নিয়েছেন বাচ্চার শিক্ষা দেয়া শুধু স্কুলেরই কাজ আর আপনাদের কাজ স্কুলের বাইরে ‘ভাবী’ দল বানানো। [৬] স্যরি ভাবিরা, ওই দিন এখন নেই। এখন বাচ্চা বড় হবে গ্লোবাল সিটিজেন হয়ে। সেই ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র সেটা করার চেষ্টা করছে। সেই চেষ্টায় প্যারেন্টসও অন্তর্ভুক্ত। এখন আপনারা গ্লোবাল হবেন নাকি গোবরে থাকবেন, বাচ্চার সঙ্গে নিজেরাও ডেভেলপ করবেন নাকি নিজে চোখ বন্ধ করে সবাইকে অন্ধ ভেবে শান্তি পাবেন, সিদ্ধান্ত নিন। 

[৭] আপনারা যেহেতু নিজেদের বিশ্বাস করেন না, পরিবর্তনে ভয় পান, সেহেতু আপনারা বাচ্চাকেও বিশ্বাস করেন না। সুতরাং বাচ্চা ডিভাইস হাতে নিলে আপনারা মনে করেন পাহারা বসাতে হবে, কারণ বাচ্চা কাঁথার নিচে পর্নো দেখছে বা প্রেম করছে। বাচ্চা প্রাণ খুলে হাসলে মনে করেন উশৃঙ্খল হয়ে গেছে, না হাসলে মনে করেন বেয়াদব হয়ে গেছে, আনন্দে থাকলে মনে করেন প্রেম করছে, মন খারাপ করলে মনে করেন ছ্যাকা খেয়ে ড্রাগ নিচ্ছে। [৮] বিশ্বাস করুন, আপনারা যতোদিন এই হালতে চলবেন ততোদিন আপনার বাচ্চা লুকিয়ে পর্নো দেখবে, সেক্সচ্যাট করবে, হতাশায় ভুগবে, ড্রাগ নেবে বা পালিয়ে যাবে। কারণ সে আপনার কাছ থেকে পালাতে চায়। হিসাব সহজ, আপনি বাচ্চাকে শান্তি না দিলে বাচ্চাও আপনাকে শান্তি দেবে না। পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য তো বহুবছর পড়ালেন, এবার সন্তানের প্রতি পিতা মাতার কর্তব্যও পড়ুন। বিঃদ্র : টেকনিক্যাল ইস্যুজ নিয়ে পরের পর্বে লিখছি। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়