শিরোনাম
◈ বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযান শুরু, সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন শতাধিক নেতা  ◈ তুরস্কে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ে বাংলাদেশি কৃষিবিদ ও কৃষক নিয়োগের প্রস্তাব  ◈ ফুটপাত থে‌কে জ্বলন্ত চুলা ও সিলিন্ডার সরা‌লো পু‌লিশ, আটক ৮  ◈ প্রধানমন্ত্রীকে বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানীর (র.) মাজার জিয়ারতের আমন্ত্রণ ◈ রাজধানীজুড়ে রেস্তোরাঁয় পুলিশি অভিযান, আটক ৩৫ ◈ প্রবাসী আয়ে চমক, ৮ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ফেব্রুয়ারিতে ◈ রমজানে সৌদি আরবে মাইক ব্যবহার ও সম্প্রচার সীমিত করে ৯ দফা নির্দেশনা ◈ পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ◈ বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ড হাইকোর্টে রিট দায়ের ◈ গাজায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বন্ধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহবান বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০১:২৬ রাত
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০১:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থা

শামসুদ্দিন পেয়ারা 

শামসুদ্দিন পেয়ারা : আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে সৃজনশীল, কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন, বুদ্ধিদীপ্ত, ভবিষ্যৎগামী, বিশ্বমানের ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানমুখী। জ্ঞানের স্থান হবে একইসঙ্গে মস্তিষ্কে ও হাতে। সব জ্ঞানই হতে হবে প্রায়োগিক ও সরাসরি উপার্জনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পড়া মুখস্থ ও কম্প্রিহেনশন অবশ্যই থাকবে। কিন্তু সেটা সিলেবাসকে গিলে খাবে না। নিউটনের সূত্রগুলো তো মুখস্থই করতে হবে। কোনো বিশেষ পরিস্থিতে সোনার তরী থেকে উল্লেখ করতে হলে কবিতাটা মুখস্থই থাকতে হবে। তা না হলে স্মৃতি থেকে তুলে আনবো কী করে? (অ+ই)ক্ষ্ম=অক্ষ্ম+২ধন+ইক্ষ্ম এই ইকুয়েশনটা মুখস্থ না করে পরীক্ষার হলে বসে প্রমাণ করতে হলে পরীক্ষার গোটা সময়টা এর পেছনেই চলে যাবে। বখতিয়ার খিলজি কবে লক্ষণাবতী জয় করেছিলেন সেটা সৃজনশীল চিন্তা দিয়ে বের করা যাবে না, মুখস্থই রাখতে হবে। কাছেই প্রয়োজনীয় অনেক কিছু মনে রাখতে হবে। 

মুখস্থ করা মানে মনে রাখা। এটা খুবই জরুরি। কোনো কিছু মনে রাখাকে শিক্ষা ব্যবস্থায় অতি উচ্চে স্থান দিতে হবে। কোনো কিছু যদি মনেই না থাকবে তাহলে ওইসব পড়ে-লিখে লাভ কী? লেখাপড়া করার দরকারইবা কী? তবে অপ্রয়োজনীয় কোনোকিছু মুখস্থ করিয়ে ছেলেমেয়েদের মাথায় অযথা চাপ সৃষ্টির প্রয়োজন নেই। সেদিকটা দেখতে হবে। বাংলা ও ইংরেজিÑ উভয়, শিক্ষা হতে হবে মূলত হাতে-কলমে, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমুখী। দিনে আট পিরিয়ড ক্লাস হলে প্রথম চারটি হবে বইপত্র ও খাতাকলম নিয়ে। বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক, ইতিহাস, ভূগোল, সমাজ, ধর্ম ইত্যাদি। পরের চার ক্লাস হবে প্র্যাক্টিকাল। হাতে কলমে, ল্যাবরেটরি বা ট্রেনিং রুমে, মেশিনঘরে, আউটডোরে, টেকনিশিয়ানের তত্ত্বাবধানে, মাঠে, ক্ষেতে, বাগানে, পুকুরে, বাজারে, সেখানে লেদ চালানো, সেলাই মেশিন, ছবি আঁকা, বাইক মেরামত, জমি চাষ, ফার্স্ট এইড, নার্সিং, অগ্নি নির্বাপন, গৃহনির্মাণÑ মোট কথা জীবনধারণের জন্য জরুরি সবকিছুই শেখানো হবে। তাহলেই সে শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন শিক্ষার্থী তার স্কুলে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে জীবিকা উপার্জনে সক্ষম হবে। 

যে শিক্ষা জীবিকার্জনে সহায়ক নয়, যে শিক্ষা কেবল জ্ঞান দেয়, তথ্য দেয়, গল্প শোনায় অথচ লব্ধজ্ঞান প্রয়োজনে, উৎপাদনে ও উপার্জনে প্রয়োগ করতে শেখায় না সে জ্ঞান অপ্রয়োজনীয়, অর্থহীন, অনিষ্টকর, পশ্চাৎপদ, কালাপচয়ী ও পরিত্যাজ্য। সেই শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন করতে হবে যে শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সকল ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি কারিগরি ও বৈষয়িক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের শিক্ষা দান করবে। যাতে তারা অপ্রয়োজনীয় উচ্চ শিক্ষার মোহ থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষতার সঙ্গে নানা লাভজনক ও সম্মানিত পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করে কর্মজীবনে যোগ্যতানুযায়ী প্রভূত সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।
 লেখক: মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়