স্বপন ভট্টাচার্য্য: সকলেই বলবেন ‘সংবর্ধনা’ শব্দ। কিন্তু কেন? কেউ কেউ বলতে চান যে ‘ম্’-স্থানে অনুস্বার বিকল্প। তাই ‘সংবর্ধনা’ ঠিক। বিকল্প যদি হয় তবে ‘সম্বর্ধনা’ শব্দটাও ঠিক। এই ব্যাখ্যা যথাযথ নয় বলেই আমার মনে হয়। বিকল্পের প্রশ্ন আছে ক-বর্গের বর্ণগলোর ক্ষেত্রে। অন্য কোনও বর্গের বর্ণের ক্ষেত্রে এই বিকল্প মান্য নয়। সম্+চালন = সঞ্চালন (‘সংচালন’ লেখা যাবে না)। সম্+তর্পণ = সন্তর্পণ, সম্+প্রীতি = সম্প্রীতি ইত্যাদি শব্দে অনুস্বার দেবার সুযোগ নেই।
তাহলে ‘সম্বর্ধনা’ না হয়ে ‘সংবর্ধনা’ কেন শব্দ? এর কারণ লুকিয়ে আছে সংস্কৃত ব্যাকরণ এবং সংস্কৃত বর্ণমালার মধ্যে। আমরা জানি যে বর্গীয় ব যেমন আছে তেমনি আছে অন্তঃস্থ ব। ‘সম্’- এর পর বর্গীয় ব থাকলে আপনাকে লিখতে হবে ‘সম্’+বন্ = সম্বন্(‘সংবন্’ হয় না, কারণ বন্শব্দের ব, বর্গীয় ব। আবার ‘সম্’- এর পর অন্তঃস্থ ব থাকলে আপনাকে অনুস্বার দিয়েই লিখতে হবে। বাংলা বর্ণমালায় দুই ব- এর আকৃতিগত কোনও তফাৎ না থাকায় কোনো শব্দের ব - বর্গীয় আর কোনো শব্দের ব - অন্তঃস্থ তা আমরা বুঝতে পারি না। ফলে সৃষ্টি হয় বিভ্রান্তি।
এখন তো আবার অনেকে অন্তঃস্থ ব, বাংলা বর্ণমালা থেকেই বাদ দিয়ে দিয়েছেন। এভাবে বাদ না দিয়ে পণ্ডিতরা যদি দুই ব- এর চেহারার তফাৎ করে দুটোকেই বর্ণমালায় স্থান করে দিতেন তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অনেক সুবিধা হতো। এখন যেটা হয়েছে তা হলো অন্তঃস্থ ব-এর অস্তিত্ব নেই কিন্তু অন্তঃস্থ ব সংক্রান্ত সংস্কৃত নিয়মগুলো বহাল রয়েছে। প্রকৃত বাংলা ব্যাকরণ লেখা না হলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি নেই। ফেসবুক থেকে