শিরোনাম
◈ ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ, বাড়ছে পরিশোধের চাপ ◈ ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন মোড়, সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট ◈ কানাডায় নতুন পিআর পাওয়ার নতুন সুযোগ, তিন বছরে নেওয়া হবে ১১ লাখ ৪০ হাজার অভিবাসী ◈ দুবলার চরে সাগরে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল পর্যটকের, ৩৩ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার ◈ ক্ষতিকর উপাদান থাকায় নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম, দুবাইফেরত যাত্রীর কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০ পিস জব্দ ◈ মিথিলার পর ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬’-এর মুকুট উঠল সামিরা খান মাহির মাথায় ◈ লাইসেন্স ছাড়া অনলাইনে বিক্রি করা যাবে না চাঁদপুরের ইলিশ, আবেদন করতে হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ◈ আসামি ছিনিয়ে নেওয়া থেকে পুলিশ হত্যা, বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তাঝুঁকি ◈ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার দেখা মিলল বিপন্ন প্রজাতির ‘যশোরের হনুমান’, ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য ◈ ৭ নভেম্বর কোনো দলের একক সম্পত্তি নয়, এটি জাতীয় অর্জন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ০৮:৩১ রাত
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ০৮:৩১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

 ‘সময়’ এবং ‘মন’

আহসান হাবিব: সময়ের চেয়ে দ্রুতগামী কি আছে এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা বলি ‘মন’। সত্যি কি মন সময়ের চেয়ে দ্রুতগামী? আমার মনে হয় না। কারণ সময় সবসময় সামনে চলে, পেছনে রেখে যায় তার পদচিহ্ন, মন সেই পদচিহ্ন দেখতে পায় কেবল। অর্থাৎ মন সামনে নয় পেছনে চলে। সময়ের চলা যদি হয় ত্বরণ, মনের চলা তার পিছু পিছু। সময় ঘটনা, মন তাতে সাড়া দেয় কিংবা দেয় না। মানুষের মন ভবিষ্যৎ সময়কে যে দেখতে কল্পনা করে, তা অস্পষ্ট, ধারণা মাত্র, কিন্তু সময় এসবের ধার ধারে না, যা কিছু করে, স্পষ্ট । মানুষ এই স্পষ্টতাকে সম্পূর্ণ দেখতে পায় না, খুব সামান্য দেখতে পায়। সময়ের চিহ্নগুলো মানুষের দেখে উঠতে সময় লাগে, বুঝে উঠতে সময় লাগে। তাই যা কিছু ঘটে, মানুষ তা নিয়েই কাল কাটায় দীর্ঘসময়। অথচ এসব মানুষেরই সৃষ্টি। মানুষ তার সৃষ্টির মাঝেই বিস্ময় খুঁজে ফেরে এবং তার ঘোর কাটতে লেগে যায় দীর্ঘ সময়।
ততোক্ষণে সময় পাড়ি দিয়েছে আরও কয়েক লক্ষ আলোকবর্ষ এবং মানুষের জন্য রেখে গেছে পরম বিস্ময়। এই বিস্ময় আর কিছুই নয় বস্তুর ধর্মের বৈচিত্র্য। একটি বস্তু কত বৈচিত্র্য ধারণ করে, তার শেষ নেই, অসীম। সময় তার অপূর্ব সৃষ্টি ক্ষমতা দিয়ে সেসব উন্মোচন করতে থাকে। আসলে সময় করে না, করে এই মানুষই। সময় তার সৃষ্টির প্রারম্ভেই এইসব বিস্ময় নিয়ে হাজির হয়েছিল, ক্রমে সে তার ঝাঁপি খুলে খুলে চলে। এই খোলার কাজটি সময়ের অপূর্ব সৃষ্টি এই মানুষই করে। এই যে মানুষের মন তা কিন্তু সময়ের সৃষ্টি, মনকে দিয়ে সময় তার বিস্ময় দেখার কাজ করিয়ে নেয়। তাহলে মন কি করে সময়ের চেয়ে দ্রুতগামী? নয়, এমনকি সহগামীও নয়। নয় যে তার প্রমাণ মানুষ এখনো বাস করে তারই ফেলে আসা সময়ের দূর দূর পশ্চাতে। এই পশ্চাৎ বসবাসই মানুষের সাথে মানুষের সংঘর্ষের মূল কারণ।
সময়ের কি ভর আছে, ওজন আছে? নেই। কিন্তু মানুষের আছে। যেদিন মানুষ ভরহীন হয়ে যাবে, সেদিনই কেবল মানুষ সময়ের সঙ্গে চলতে পারবে, সেদিন মন বলে আর কিছু থাকার দরকার পড়বে না। মন এখনো সময়ের ক্রীড়নক মাত্র। লেখক: ঔপন্যাসিক

  • সর্বশেষ