শিরোনাম
◈ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের পাটের মান বেশি উন্নত: ভারতীয় কৃষিমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের হামলা, বাজছে সাইরেন ◈ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীতে ফের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ (ভিডিও) ◈ মাসে তিনবারের বেশি টাকা তুললেই অতিরিক্ত চার্জ, ১৪ সেবায় নতুন ফির প্রস্তাব ◈ ব্রেক্সিটের টানাপোড়েনের অবসান, সীমান্ত প্রাচীর সরাল ব্রিটেন ও স্পেন ◈ শেখ হাসিনাসহ ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিপুল সম্পদ জব্দ, জানাল বিএফআইইউ ◈ সিটি করপোরেশনকে ‘গভর্নমেন্টে’ রূপান্তর ছাড়া ঢাকার সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল ◈ লঘুচাপের প্রভাবে চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, ফের বাড়তে পারে বৃষ্টি ◈ উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ ◈ ৩ মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগে পরিবারের তিন সদস্যক আটক, অভিযুক্ত চাচি পলাতক

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী, ২০২৩, ০১:৪৯ রাত
আপডেট : ৩০ জানুয়ারী, ২০২৩, ০১:৪৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পুরস্কার ও শিল্প-সাহিত্য

কামরুল আহসান

কামরুল আহসান: পুরস্কার পাওয়া এক অর্থে ভালো যে তাতে কিছুটা প্রচার বাড়ে। যাদের অনেকে চিনতেনই না তাদের কিছুটা  চেনাজানা হয়। তা ছাড়া কিছু টাকাপয়সা পাওয়া গেলে কাজে লাগে। তাছাড়া পুরস্কার আর কী কাজে লাগে? শিল্প-সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার সে নিজেই। অর্থাৎ তার সাধনায় নিমজ্জিত থাকা। জীবন তো ক্লান্তিকর একটা ব্যাপার। একঘেয়েমি ছাড়া জীবন আর কী? জীবনের এই ক্লান্তি দূর করে দেয় শিল্প-সাহিত্য। শিল্প প্রতি মুহূর্তে জীবনকে নতুন করে হাজির করে। 

সবার ক্ষেত্রে এ কথা সত্য নয় মোটেই। তাই সবার পক্ষে শিল্পের রসস্বাদন সম্ভব হয় না। যারা জীবনের ক্লান্তির স্পর্শ পায় তাদের কাছেই ধরা দেয় শিল্পের দেবী। কথা হচ্ছে কারো কারো কাছে কেন জীবন একঘেয়েমির দীর্ঘ যাত্রা মনে হয়? উত্তরটা দিয়ে গেছেন জীবনানন্দ দাশ অনন্য সাধারণ এক কবিতায়: অর্থ নয়, কীর্তি নয়, স্বচ্ছলতা নয়/আরো এক বিপন্ন বিস্ময়/আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে/খেলা করে/আমাদের ক্লান্ত করে/ক্লান্ত ক্লান্ত করে...।

যাদের জীবনে এই ক্লান্তি নাই তারা এক অর্থে ভাগ্যবান এই শর্তে যে অর্থ-বিত্ত নিয়েই তারা সুখী হতে পারে। কিন্তু প্রকৃত শিল্পী যিনি তার এতে শান্তি হয় না, সে চায় প্রতি মুহূর্তে নতুন রঙ, নতুন জীবন। ঈশ্বরের জগতকে সে পুনঃনির্মাণ করতে চায়, নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করায়, নিজেকেই ঈশ্বর হিসেবে ঘোষণা করতে চায়। নিজেকে যে ঈশ্বর  হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় কোন পুরস্কারে তার আর সান্তনা হয়! তাই পুরস্কার নিয়ে যে শিল্পী মাথা ঘামায় সে আদতে শিল্পীই নয়। সে সাধারণ সামান্য মানুষ। নিজের প্রাপ্তি নিয়ে সুখী। 

প্রকৃত শিল্পী কখনো সুখী হতে পারেন না। যখনই তিনি সুখী হবেন তার শিল্পসত্তার মৃত্যু ঘটবে। ব্যর্থতা, রক্তপাত, যাতনাই তো শিল্পীর জননী।  এটাই শিল্পর নিয়তি। আজকাল সবাইকে সুখী করার প্রকল্প চালু হয়েছে। শিল্পীও এই ফাঁদে পা দিয়েছেন। আর তাদের কাছে সুখ কী! হায়, অমরলোকের সন্ধান যে পায় নি সে কী জানে সুখ ও দুঃখ কী! লেখক ও সাংবাদিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়