শিরোনাম
◈ সুলতানস ডাইন রেস্টুরেন্ট সিলগালা করলো রাজউক ◈ ব্রহ্মপুত্রের বালুতে হাজার হাজার কোটি টাকার খনিজ সম্পদের সন্ধান ◈ সদ্য কারামুক্ত বিএনপি নেতা আমিনুল হকের বাসায় মঈন খান  ◈ জারদারি নাকি আচাকজাই, কে হবেন পাকিস্তানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ◈ [১] মিয়ানমারের রাখাইনে আরেকট সেনাঘাঁটি  দখল করেছে আরাকান আর্মি  ◈  নাশকতার মামলায় দণ্ডিত বিএনপি নেতা হাফিজ উদ্দিন কারাগারে ◈ দুইটি বিদেশি পিস্তল, ৮১ রাউন্ড গুলিসহ সেই শিক্ষক গ্রেপ্তার ◈ আর্মি যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা ◈ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত দল ◈ রাজাকারের নতুন তালিকা দুই ভাগে ভাগ করা হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী 

প্রকাশিত : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ০১:৩০ রাত
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ০১:৩০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আমাদের শিক্ষা ও পিএইচডি ডিগ্রির মান

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: দেশে কেবল এসএসসি, এইচএসসিতে জিপিএ ফাইভের বাম্পার ফলন হয়নি, একই সাথে ইউনিয়ন উপজেলা পর্যায়ে অনার্স-মাস্টার্সকে নিয়ে গিয়ে অনার্স মাস্টারেরও বাম্পার ফলন ঘটানো হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই সর্বনাশা কাজটি জাতীয়ভাবে করা হয়েছে। এখানেই শেষ না। গত ১০-১৫ বছরে দেশে পিএইচডিরও বাম্পার ফলন ঘটেছে। এত বাম্পার ফলনের পরিসংখ্যান দেখলে মনে হতে পারে, দেশে শিক্ষার ভয়াবহ উন্নয়ন ঘটেছে। যদি তাই হতো দেশে এত বেকার কেন? কেন দেশে এত বিদেশি বড় বড় পদে চাকরি করে হাজার হাজার কোটি ডলার বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে? পিএইচডি মানে কী? পিএইচডি শেষে পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপ্তদের একটি অংশ যদি বিশ্বের উন্নত দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট-ডক পায় তাহলে বুঝতে হবে দেশে পিএইচডি ডিগ্রির মান ভালো।

শুধু কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটগুলো থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে। এর একটি বড় অংশ আমেরিকা, ইসরায়েল, জাপান, জার্মানি প্রভৃতি দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট-ডক করতে যায়। ভারতে পিএইচডি করে ওইসব দেশে পোস্ট-ডক শেষে অনেকেই বিশ্ববরেণ্য গবেষক হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি এমন অন্তত ২০-৩০ জন আছে যারা কলকাতায় পিএইচডি শেষে আমেরিকা, ইসরায়েল, জাপান, জার্মানি প্রভৃতি দেশে পোস্ট-ডক করে এখন সবাই প্রতিষ্ঠিত গবেষক। সত্য নারায়ণ মজুমদার ভারতের টাটা ইনস্টিটিউট থেকে পিএইচডি শেষে ফ্রান্সে পোস্ট-ডক শেষে এখন স্থায়ীভাবে ফ্রান্সে থাকে এবং এখন একজন বিখ্যাত গবেষক যার সাইটেশন সংখ্যা ১৮ হাজারের বেশি।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দশ বছরে (২০১০-২০) মোট ৭৫৩ জনকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। তিন দশক আগে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ২২ শিক্ষার্থী পিএইচডি ডিগ্রি পেত, সেখানে প্রায় ত্রিশ বছরে ত্রিশগুণ পিএইচডি ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রতিফলন বলে প্রতীয়মান হলেও এই সব পিএইচডি ডিগ্রির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ এই ৭৫৩ জনের মধ্যে কতজন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোস্ট-ডক ফেলোশিপ পেয়েছে। আমার ধারণা বা আমার জানা মতে একটিও না। আমাদের পিএইচডি ডিগ্রির মান কত ভয়ানক খারাপ সেটা বোঝার জন্য এটিই যথেষ্ট। তবে সব কিছুরই ব্যতিক্রম আছে। দুইয়েকজনের যে ভালো মানের পিএইচডি হয়নি এমন নয়।

কিন্তু আমরা এখানে ব্যতিক্রম নিয়ে আলোচনা করছি না। পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের দিক থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভবত সবচেয়ে এগিয়ে। যদিও সেই পরিসংখ্যান আমার এই মুহূর্তে জানা নেই। এইসব বিষয় নিয়ে ভাবতে গেলে শরীরের রক্ত শীতল হয়ে যায়। দেশ যারা চালায় তাদের নেতৃত্বের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে যায়। মনে হয় মুখে মুখে দেশকে ভালোবাসার কথা বলে এরা হয় ইচ্ছে করে দেশের ক্ষতি করছে অথবা এরা এতটাই ফঁভভবৎ যে এরা বুঝতেই পারে না শিক্ষার কি ১৩টাই না বাজিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান নতুন যেই শিক্ষাক্রম চালু করতে যাচ্ছে এর ফলে শিক্ষার মানের বিশাল ধস নামবে যার ক্ষতিকর ইমপ্যাক্ট বুঝতে পারবো আগামী ১০ বছরের মধ্যেই। লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়