শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:৫০ রাত
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:৫০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কিশোরী ফুটবলারদের পক্ষে থাকার জন্যে কোনো মতাদর্শিক কারণ লাগে না

পারভেজ আলম

পারভেজ আলম: বাংলাদেশে আমার সিনিয়র এবং নিজের প্রজন্মের নারীবাদীদের সাথে অনেক ব্যাপারেই আমি একমত না। তারা অনেকসময় অপ্রয়োজনীয় রকম এগ্রেসিভ। কিন্তু সেই সাথে এও বুঝি যে সমাজের বিভিন্ন বরক্ষণশীল অংশের (যেমন, কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী) বিরুদ্ধে তাদের এই যুদ্ধংদেহী আচরণ একধরনের ডিফেন্সিভ ম্যাকানিজম। তারা বড় হইছেন হস্টাইল পরিবেশে, যেখানে সদাই নারীদের বিরুদ্ধে একটা অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি ছিল (এবং এখনো আছে)। নারীরা ঘর থেকে বের হইলেই হ্যারাজমেন্টের শিকার হবেন, আমাদের সমাজের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এই মতের সমর্থক। এই কারণেই, নানান দ্বিমত সত্ত্বেও আমি এই ফেমিনিস্ট বন্ধুদের তেমন একটা জাজ করি না। 

তবে তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলারদের তাদের মতাদর্শিক ও কালচারাল যুদ্ধের ব্র্যান্ড এম্বাসেডরে পরিণত না করার জন্যে। ওই ভার তারা নিতে পারবে না। আপনি আজকে তার বিজয়কে কালচার ওয়ারে নিজের বিজয় হিসাবে উদযাপন করে আত্মতৃপ্তি পাইবেন। কিন্তু এই মেয়েগুলার কোনো উপকার করতে পারবেন না। তাদের চলার পথে, তাদের জীবন সংগ্রামে আপনার এই নরবানরসুলভ বুকচাপড়ানি কোনো উপকারে আসবে? বরং আপনারা কিন্তু অপকারই করলেন তাদের। নারীবিদ্বেষীরা মুখ খোলার আগেই তাদের খোচা দিলেন। উস্কে দিলেন মুখ খোলার জন্যে। আপনি তো ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েই খালাস। মেয়েগুলারে আপনারা দেশের সবচাইতে নারীবিদ্বেষী কিছু গোষ্ঠীর প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করাইয়া দিলেন। কিন্তু এই কর্মের দায় নিতে পারার মতো শক্তি, সাহস ও পরিকল্পনা কি আপনাদের আছে? 

বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলারদের পক্ষে থাকার জন্যে আসলে কোনো মতাদর্শিক কারণ লাগে না। এরা টিনএজার। এইটাই সবচাইতে ভালো বয়স খেলাধুলা করবার। মাঠ দাপিয়ে বেড়াবার। প্রফেশনাল খেলোয়াড় হইতে গিয়া বড় কর্পোরেশনের দাস হওয়ার চাপ না নেয়ার। কিশোর কিশোরীরা খেলবে। এইটা দেখে সবাই আনন্দিত হবেন। নিজেদের পরবর্তি প্রজন্মকে বাইরা উঠতে দেখার চাইতে বেশী আনন্দের কী আছে আসলে? 

পোশাক আশাক নিয়া সমাজে সবসময়ই নানান মত থাকবে। ব্যক্তিগত পরিসরে বা ছোট সামাজিক পরিসরে সবসময়ই কিছু মুরুব্বি থাকবেন যারা কম বয়স্কদের আনন্দ, স্বাধীনতা দেখে একটু জেলাস হবেন। খোচা দিয়ে কথা বলবেন। এই ব্যাপারগুলা বড় সমস্যা কি না, তা খোচা দেয়া এবং খোচা খাওয়া মানুষদের সম্পর্কের উপর নির্ভর করবে। সারা দুনিয়াতেই এমন আছে আসলে। কিন্তু পোশাক নিয়া খোচাখুচি যখন কালচারাল রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসে, তখন সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আসলে কম বয়সী পোলাপান। সেই কম বয়সী পোলাপানগুলা যে হয়তো মনের আনন্দে একটু স্বাধীন পোশাক পরে। বিপরীত লিঙ্গের সামনে একটু পেখম মেলে চলে। সাজগোজ করে। এবং তাদের হয়তো আপনাদের কালচার ওয়ার নিয়া কোনোই মাথাব্যাথা নাই। তারা হয়তো রাতভর ফোনে কথা বইলা একজন আরেকজনরে নামাজ পরতে বলে। মানুষ প্রাণীটাই এমন আসলে। বিশেষ করে তাদের বয়স যখন কম থাকে। 

আমি আসলে আমাদের পরবর্তি প্রজন্মকে এই কালচার ওয়ার থেকে রক্ষা করতে চাই। তারা আনন্দ করবে। খেলবে। একটু আধুটু স্টাইল করবে, যা কিছু মুরুব্বির কাছে উগ্র লাগবে। এইটাই তো তারুণ্যের ধর্ম। টিনএজ বয়সে বা আর্লি বিশে না করলে, কবে করবে তারা? তাদের একজন মুরুব্বি হিসাবে তাদের দেখে আমি আনন্দিত হই। তাদের দেখে যারা জেলাস হন, তারা হয়তো এই কারণেই জেলাস হন যেহেতু তারা কম বয়সে এমন স্বাধীন ছিলেন না। এবং তারা কম বয়স্ক পোলাপানদের ফিতরতের কথাও চিন্তা করেন না। তাদের জোর করে অন্য কিছু বানাইতে চান। যা একটা ভয়াবহ জুলুম। এবং যারা এই জুলুমের বিরোধিতা করার নামে নিজেদের মতাদর্শ এবং কালচারাল মূল্যবোধের বোঝা এই স্বাধীন ছেলেমেয়েদের উপর চাপাইয়া দেন, তারাও বাজে কাজই করেন। আপনাদের বার্ডেইন কেন তাদের নিতে হবে? ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়