শিরোনাম
◈ দেশের যেসব অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আশঙ্কা ◈  সরকার থেকে বরাদ্দ করলে সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানির প্রয়োজন নেই: সংসদে আলোচনা ◈ ঈদে যানজট এড়াতে ডিএমপির ২২ নির্দেশনা ◈ ব্রিকসকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে বাংলাদেশের: ডা. দীপু মনি ◈ পল্টনে ফাইন্যান্স টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ◈ নেপিয়ার ঘাস খেয়ে মারা গেলো খামারের ২৬ গরু ◈ এমপি আনার হত্যা তদন্তে কোনো চাপ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ তারেক রহমানসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ◈ সাধারণ নাগরিকের মতো করেই ড. ইউনূসের বিচার হচ্ছে: আইনমন্ত্রী ◈ ড. ইউনূসের কথা অসত্য, জনগণের জন্য অপমানজনক: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪, ০১:১৬ রাত
আপডেট : ১২ জুন, ২০২৪, ০১:১৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মানুষ প্রকৃতির এক ভুল সৃজন, অকৃতজ্ঞ সন্তান! 

আহসান হাবিব

আহসান হাবিব: আমি প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে দেখলাম, দেখলাম এর বিবিধ সজ্জা। কী অপরূপ রূপ এদের। প্রতিটি উদ্ভিদ, বৃক্ষের রং আলাদা। কত অজস্র রঙে নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে। এক একটা ফুলের দিকে তাকাই আর বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়ি। প্রকৃতি এতো রঙ পেলো কোথায়। কারো সঙ্গে কারো এতটুকু মিল নাই। এমনকি যাকে আমরা সবুজ কিংবা লাল কিংবা হলুদ বলে জানি, তাদেরও কত বৈচিত্র্য। এক একটা উদ্ভিদের আকার এক এক রকম। ছোট বড় মাঝারি। কোনটা। মাটির সঙ্গে লেগে আছে, আবার কোনোটা মাটি ছেড়ে উর্ধ্বপানে উঠে গেছে। প্রতিটি পাতার আকার আলাদা। একটা নিমপাতা একটা বটপাতা থেকে কত আলাদা।প্রতিটি উদ্ভিদের ফুল এবং ফল আলাদা। তাদের আকার, তাদের রং, তাদের স্বাদ সব ভিন্ন। একটি আম একটি জাম একটি কাঁঠাল একটি জামরুল ঝুলে আছে আপন বৈশিষ্ট্যে। 

আকাশে যখন মেঘ ওঠে, তারা উড়ে বেড়ায় তখন এদের দেখা এক অনিন্দ্য আনন্দ জাগায়। যখন তারা বৃষ্টি হয়ে ঝরে তখন যে অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা করে, তার সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব। একটি রঙধনুর সৌন্দর্য কি করে বর্ণনা করা সম্ভব? আবার যখন জলের পাশে দাঁড়াই, তখন মনে প্রশান্তি জাগায়। তার বুকে ঢেউ কি এক সৌন্দর্য নির্মাণ করে, ভাবা যায় না। নদীর পাশে, সাগরের পাশে, হ্রদের পাশে কিংবা হাওরের পাশে দাঁড়ালে তাদের রূপে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। বিশেষত সাগর যে অনির্বচনীয় সৌন্দর্য এবং বিশালত্বের বিস্ময় জাগায়, তুলনা তার নাই। সমতলে একধরনের সৌন্দর্য, পাহাড়ে অন্যরকম। পাহাড়ের কাছে গেলে তার মৌনতা এবং বিশালত্ব একদিকে পুলক অন্যদিকে বিস্ময় জাগায়। প্রকৃতির প্রতিটি বস্তু এক আশ্চর্য সৌন্দর্য নিয়ে ফুটে থাকে। বালুকণা যখন রৌদ্রে ঝিকমিক করে, তখন মনে হয় এক একটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হীরকখণ্ড। একটি শিশিরবিন্দুর সৌন্দর্য বাকরহিত করে।

২ প্রকৃতির আর এক উপাদান এর প্রাণীজগৎ। কত রকম প্রাণী তার ইয়ত্তা নাই। তারাও প্রত্যেকে আলাদা। একটি হরিণ, একটি জেব্রা, একটি সিংহ, একটি হাতি, একটি বাঘ, একটি গরু, একটি ছাগল, একটি ময়ূর, একটি বক, একটি চিল, একটি ময়না, একটি শালিক, একটি চড়ুই, একটি কাক, একটি সাপ, একটি কেঁচো, একটি পিঁপড়া, একটি কোকিল, একটি প্রজাপতি, একটি ফড়িং, একটি শকুন সহ অজস্র প্রজাতির প্রাণী কি সৌন্দর্য নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। প্রকৃতির এইসব উপাদান কি চমৎকারভাবে মিলেমিশে থাকে। তাদের খাদ্যচক্র কি অমোঘ সংগ্রাম এবং হিংস্রতার জন্ম দেয়, তথাপি তাদের কোন অভিযোগ নাই। যেন তারা স্বাধীন এবং সার্বভৌম। তাদের বসবাসে কোথাও কোন মানানহীনতা চোখে পড়ে না। নদীতে সাগরে হাওরে মাছেদের সাঁতার দেখে মুগ্ধ হয় না এমন কেউ নেই। পাখিরা যখন একসাথে ওড়ে, সেই দৃশ্যের চেয়ে ভাল কোন পেইন্টিং হয় না। আকাশ যেন ক্যানভাস, পাখিরা রঙ। 

৩ শুধু বেমানান একটি প্রাণী- মানুষ। প্রকৃতির সৌন্দর্যকে নষ্ট করেছে যে প্রাণী, তার নাম মানুষ। সে যখন নিজেদের জন্য বসতি বানায়, নিজেদের সুখের জন্য বিবিধ প্রযুক্তি গড়ে তোলে, তখন প্রকৃতির সৌন্দর্য মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। প্রকৃতি থেকে মানুষ আলাদা হয়ে পড়ে। তার সবকিছু প্রকৃতির অভিপ্রায় থেকে আলাদা হয়ে পড়ে। প্রকৃতির সবকিছুকে ছিন্নভিন্ন করাই যেন তার অন্বিষ্ট এবং সেটা সে করে চলেছে। প্রকৃতির বুক চিরে সে শক্ত রাস্তা বানিয়েছে, নদীর বুকে নৌকা বানিয়ে নেমে পড়েছে মাছ বধের নেশায়। উদ্ভিদ, বৃক্ষ যা কিছু আছে, সেসব ধ্বংসে সে মেতে আছে। সে প্রকৃতির সবচেয়ে কৃতঘ্ন সন্তান। প্রকৃতির মাঝে তাকে দেখলে সবচেয়ে বেমানান লাগে, মনে হয় সে প্রকৃতি হন্তারক। মানুষ প্রকৃতির এক ভুল সৃজন, অকৃতজ্ঞ সন্তান, বেমানান প্রাণি। লেখক: কথাসাহিত্যিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়