শিরোনাম
◈ সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের ওপর  সপরিবারে ভিসানিষেধাজ্ঞা দিলো যুক্তরাষ্ট্র ◈ ১৫৬ উপজেলায় ভোট আজ ◈ সংসদ সদস্য আজিমের অবস্থান জেনেছে ভারত পুলিশ ◈ বিধ্বস্ত হওয়ার আগে হেলিকপ্টারে কী করছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে ‘শেষ’ ভিডিও ◈ সৈয়দপুর বিমানবন্দরের রানওয়েতে ফাটল, প্লেন চলাচলে বিঘ্ন ◈ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও হামাস প্রধানের বিরুদ্ধে আইসিসিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন ◈ নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ায় দুই ওসিকে প্রত্যাহার করলো ইসি  ◈ ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে মির্জা ফখরুলের শোক ◈ ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর শোক ◈ বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে কঠোরভাবে বাজার তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৪, ০১:৫৭ রাত
আপডেট : ১৬ মে, ২০২৪, ০১:৫৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেশের সাংবাদিকতা এমন সর্বনাশা জায়গায় কীভাবে এসে পৌঁছালো! 

মিজানুর রহমান খান

মিজানুর রহমান খান: আমার নিউজফিডে হঠাৎ একটা ভিডিও সামনে পড়লো। ভিডিওটি ব্যক্তিগতভাবে তৈরি কোনো ভিডিও নয়। এটি তৈরি করেছে মূলধারার একটি টিভি চ্যানেল। ভিডিওটির সাথে দেওয়া টিজার পড়ে বুঝতে পারলাম যে এটি সোশাল মিডিয়ায় আলোচিত ব্যক্তি ‘রাফসান দ্য ছোট ভাইকে’ নিয়ে তৈরি একটি খবর। ভিডিওটি দেখতে শুরু করলাম। প্রতিটি সেকেন্ড দেখছি আর অবাক হচ্ছি এমন একটি ভিডিও কীভাবে তৈরি হলো। যখন তৈরি হলো তখন ওই টিভি চ্যানেলে যারা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তারা কোথায় ছিলেন? ভিডিওটি তৈরি হয়েছে ফেসবুকে দেওয়া এক ব্যক্তির স্ট্যাটাসের ওপর ভিত্তি করে। ওই স্ট্যাটাসে রাফসান শুধু নয়, তার পিতামাতারও আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, এই স্ট্যাটাসে যা আছে শুধু সেটাই ভিডিও করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

এখানেই শেষ নয়, রাফসানদের ‘বিলাসী জীবন’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। দেখতে দেখতে আমি অপেক্ষা করছিলাম রাফসানের বক্তব্য শোনার জন্য। ভিডিওটি যতই শেষের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, আমি ততই অস্থির হয়ে পড়ছিলাম। না, শেষ পর্যন্ত রাফসান কিংবা তার পরিবারের কারো বক্তব্যই শুনতে পেলাম না। তথাকথিত এই রিপোর্টে শুধু রাফসান কেন, কারোরই কোনো বক্তব্য নেই। রিপোর্টার শুধু ফেসবুকে জনৈক ব্যক্তির দেওয়া পোস্ট গড়গড় করে পড়ে গেলেন। এরকম একটা রিপোর্ট যে হতে পারে সেটা আমি চিন্তাও করতে পারিনি। কিছুতেই ভাবতে পারছিলাম না এমন একটি ভিডিও কীভাবে তৈরি হয়, সেই ভিডিও কীভাবে টিভিতে দেখায়, সেটা সোশাল মিডিয়াতে কীভাবে আসে এবং সংবাদমাধ্যম দেখার জন্য যে কর্তৃপক্ষ, তারাইবা কোথায়? 

সাংবাদিকতার একটি মৌলিক বিষয় রাইট টু রিপ্লাই। যার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠবে, তাকে তার উত্তর দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সুযোগ না, এটা তার অধিকার। এই অধিকার খর্ব করার অধিকার কারো নেই। আদালতেরও নেই। এখন কথা হচ্ছে আমার আপনার কোনো শত্রু, কিংবা আমাকে আপনাকে অপছন্দ করেন এমন কোনো ব্যক্তি যদি আজেবাজে কোনো স্ট্যাটাস দেয়, সেটাও তো তাহলে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের নিউজ হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা এমন সর্বনাশা জায়গায় কীভাবে এসে পৌঁছাল সেটা আমার বোধগম্য নয়। তবে এটা বুঝতে পারছি যে সংবাদ মাধ্যমের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এর মানেরও চরম অবনতি ঘটেছে। লেখক: সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়