শিরোনাম
◈ এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু, রাতেই বাড়বে গ্যাস সরবরাহ ◈ পর্তুগালে একের পর এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু, ১৫ দিনে প্রাণ গেল ৪ জনের ◈ ধানের তুষ পুড়িয়ে গ্যাস উৎপাদন, বিকল্প জ্বালানিতে চলছে বস্ত্রকল! ◈ রশি ছিঁড়ে সাগরে পড়ে আহত চট্টগ্রাম বন্দরের পাইলট, তদন্তে জাহাজের গাফিলতির অভিযোগ; বিদেশি জাহাজ আটক ◈ বাংলাদেশি হিন্দু-শিখ-জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আশ্বাস অমিত শাহের ◈ ফিফার শা‌স্তির পর আর্জেন্টিনাকে নি‌য়ে স্পেনের গণমাধ্যমে উসকানিমূলক সংবাদ প্রচার ◈ জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় না আনলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ◈ কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ পেট্রাপোলে ◈ মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন জহির উদ্দিন স্বপন, হলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪, ০১:৫৯ রাত
আপডেট : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪, ০১:৫৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাঘের বল দশ বছর

শামসুদ্দিন পেয়ারা 

শামসুদ্দিন পেয়ারা: আমার মা বলতেন, বাঘেরÑবল দশ বছর। তখন কথাটার অর্থ বুঝিনি। আজ শরীরে বার্ধক্য দেখা দিয়েছে। জমাটস্কন্ধ (ফ্রোজেন শোল্ডার) ব্যাধি সার্বক্ষণিক দৈহিক ব্যথাবেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রক্তে শর্করার পরিমাণ বিপদসীমার ঊর্ধ্বে। কোলেস্টেরলের মাত্রা ভয়াবহ। ইউরিক এসিড স্বীকৃত পরিমাণের দ্বিগুণ। যকৃতে চর্বির ছড়াছড়ি। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চলার গতি শ্লথ, দৃষ্টিতে কুয়াশা। দাঁতের মাড়ি দুর্বল। মাথায় শরতের ছড়ানো ছিটানো কাশবন। কথা বলতে হাঁপিয়ে উঠি। কেউ কিছু একটা বললে শুনি আরেকটা। অধিকাংশ মানুষ ও জায়গার নাম মনে রাখতে পারি না। করণীয় কাজের কিছুই মনে থাকে না। ঘর থেকে জরুরি কাগজপত্র নিয়ে বের হই, সারাদিন এখানে ওখানে ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে দেখি কাজ তো হয়ইনি, দরকারি কাগজগুলো কোথায় যে ফেলে এসেছি মনেও করতে পারছি না। 

কখনো একা থাকতে ভালো লাগে। কখনো একাকিত্ব বিশাল প্রস্তরখণ্ডের মতো চেপে ধরে দেহমন অসাড় করে দেয়। মনে হয় দম আটকে আসছে। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে বুঝি মরে যাচ্ছি। কখনো কখনো একা থাকলে অকারণে ভেতর থেকে হু হু করে কান্না বেরিয়ে আসে। হাড়ের ব্যথা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে মায়ের সেই কথাটার মাজেজা। সামনে দাঁড়িয়ে যে বলবো, মা, তোমার কথা ঠিকÑ সে সুযোগ ২০০৩ সালের ১৭ মার্চ চিরকালের জন্য শেষ হয়ে গেছে। আমার মা একজন অতি সাদাসিধা দয়ালু মানুষ ছিলেন। তিনি তাঁর কন্যা-পূত্র, নিকট ও দূরের আত্মীয়, ভিক্ষুক, সাহায্যপ্রার্থী, দেবর-ননদ-জা সবাইকে সমান চোখে দেখতেন। ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন তাঁর বংশের সকলের বড়। তাই মামা, খালা, নানুদের নতুন বাড়ি, পুরান বাড়ির সকলের একচ্ছত্র ‘বুবু’। 

আমাদের পরিবারে প্রাচুর্য না থাকলেও স্বচ্ছলতা ছিল। আমার মা কখনো কোনো কিছু পাবার আশা করতেন না, কিন্তু হাতখুলে দান করতে ভালোবাসতেন। এখন ভাবতে অবাক লাগে আমার মতো একটা উড়নচণ্ডি ও সর্বার্থে দায়িত্বজ্ঞানহীন কুপূত্রের হাজারো অনভিপ্রেত আচরণ ও অপকর্ম কী করে তিনি পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে হাসিমুখে সহ্য করেছিলেন। যতদিন বেঁচেছিলেন আমি মায়ের সাথে সুন্দর করে একটু কথাও কখনো বলেছি বলে মনে পড়ে না। আমি ছিলাম বাবা-মায়ের সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তার কারণ। তাঁদের মাথায় আগুনের টুপি। একবছর চাকরি করি তো পরের বছর ঘুরে বেড়াই। একবার মুক্তিযুদ্ধ করি তো পরের বার সিপাহি বিপ্লব। রাতে রেডিও দখল তো দিনে ভারতীয় হাইকমিশন আক্রমণ। কিছুদিন আন্ডারগ্রাউন্ড তো কয়েক বছর জার্মানি। এ বছর সরকার প্রধানের বক্তৃতা লিখি তো ও বছর বিরোধীদলীয় নেতার পলিটিকাল সেক্রেটারিগিরি করি। জীবনের নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে, নিজের আবোলতাবোল ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে আধোবোহেমিয়ান আমি পিতৃসংসারে এক দুর্বহ বোঝা ছাড়া আর কিছু ছিলাম না। মায়ের কথা মনে করে একা একা খুব কাঁদতে ইচ্ছা করছে। ইচ্ছা করছে মায়ের পায়ের উপর উপুড় হয়ে পড়ে অনেকক্ষণ ধরে কাঁদি। যেন আমার চোখের পানিতে তাঁর পা দুটো ধুয়ে যায়। যেন বলতে পারি, মা তুমি ছাড়া পৃথিবীতে আমার আর কেউ নাই। লেখক: মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়