শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৪, ০৩:২৩ রাত
আপডেট : ০৪ এপ্রিল, ২০২৪, ০৩:২৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বইপড়ার সেই উন্মাতাল দিনগুলো 

বিধান রিবেরু 

বিধান রিবেরু: তখন হাইস্কুলে। দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের ঠাকুরমার ঝুলি, বন্দে আলী মিয়ার শঠে শাঠ্যং, এমনকি জসিমউদ্দীনের বাংলার হাসির গল্পের পাঠ চুকিয়ে পা রেখেছি ইউরোপ কিংবা উত্তর আমেরিকায়। স্কুলের বাইরে দিনরাত এক করে দিয়ে পড়ি হাঞ্চব্যাক অব নতরদাম। কোয়াসিমোদোর দুঃখে কাঁদি। থ্রি মাস্কেটিয়ার্স থেকে শিখি: অল ফর ওয়ান, ওয়ান ফর অল। ব্রাম স্টোকারের ড্রাকুলা পড়ে হারাম করে দিই রাতের ঘুম। এই বুঝি কাউন্ট ড্রাকুলা দেয়াল বেয়ে নেমে এলো। আবার আলেক্সান্দার দ্যুমার ব্ল্যাক টিউলিপ পড়ে বোঝার চেষ্টা করি প্রেম ও মোহ, আরেকটু বড় হয়ে সৈয়দ মুজতবা আলীর শবনম পড়ে চোখ ভাসাই জলে। 

প্রেম অথবা বিরহে অভ্যস্ত না হওয়ার মন্ত্র শিখি। খটখটে দুপুরে লুই লামুরের কোনো কাউবয় বেশ হেয়ালি করে রিভলবার বের করলে ঘাড়ের পেছনে খেলে যায় শিরশির অনুভূতি। তিন গোয়েন্দা ততদিনে পানসে লাগছে। নতুন জোয়ার নিয়ে এসেছে মাসুদ রানা। টানটান উত্তেজনায় চোখ বড়বড় করে ভেসে চলি দুঃসাহসিক অভিযানে। সিনে সোহানা এলে পালটে যেত প্রেক্ষাপট। এরই ফাঁকে তারাশঙ্করের কবি কিংবা হুমায়ুনের  মিসির আলী বিষণ্ন করছে, বিস্মিত করছে। 

ক্লাস নাইনে উঠতে না উঠতে শীর্ষেন্দুর দূরবীনে চোখ রেখে মাপতে শিখি মানবজমিন। সুনীলের ছবির দেশে কবিতার দেশে পড়ে গভীর স্পৃহা জাগে চিত্রকলার প্রতি। বাসনা জাগে ফরাসি দেশে যাওয়ার। আহা, সেসব হাইস্কুলের দিনগুলো। এখন আর কাউকে এসব বইপত্র নিয়ে ততোটা আলাপ করতে শুনিনা। শুনি প্যারাডক্সিকাল সাজিদ, শুনি পদ্মজা, শুনি আরো কি কি, কার কার বই যেন লোকে পড়ে। বেশ মুড়িমুড়কির মতো নাকি সেগুলো বিক্রি হয়। বেস্টসেলার! এখনকার হাইস্কুলের বাচ্চারা কি আদি ক্লাসিক ও আধুনিক ক্লাসিকের কোনো কিছুই পড়ে না? হয়তো পড়ে। তার খবর আমি অব্দি আসে না। হয়তো তাদের নিবিড় করে ধরে রাখা বইয়ের পাতাতেও দুপুরকে বিদায় দিয়ে নিঃশব্দে সন্ধ্যা নামে। খুব মনে পড়ে সেসব হাইস্কুলের দিনগুলোকে, উন্মাতাল বইপড়ার ক্ষণগুলোকে। ২ এপ্রিল ২০২৪। লেখক, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র সমালোচক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়