শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৪, ০২:২৪ রাত
আপডেট : ০৪ এপ্রিল, ২০২৪, ০২:২৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘অংশকে সমগ্র ঘোষণা’ : আইয়ুব খানের অমর কীর্তি 

আর রাজী

আর রাজী: আমাদের শিক্ষিত-বাঙালি প্রায় সবকিছুতে পশ্চিমা দেশগুলোকে মান্য জানে। কিছু একটার উত্তর বা সুরাহা খুঁজতে গেলেই তারা পশ্চিমে কী আছে আর নাই সেই উদাহরণ হাজির করে। কিন্তু একটা ক্ষেত্রে এই কবিরা বিস্ময়করভাবে নিরব। কথায় কথায় বিশ্বের যেসব দেশের উদাহরণ তারা দেন, সেসব দেশের কোনোটিতে প্রকৌশল বা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহজে খুঁজে পাবেন না। পৃথিবীতে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রকৌশল বা প্রযুক্তিবিদ্যায় সেরা তারা সবাই কোনো না কোনো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা স্কুল, কলেজ, ইন্সটিটিউট বা অনুষদ। বাংলাদেশে ব্যাপারটা উলটো। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া পশ্চিমে প্রকৌশল, কৃষি বা চিকিৎসা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত বিষয় মাত্র। দুনিয়ার বড় বড় নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিনস্ত স্কুল/কলেজ/ইন্সটিটিউটে এসব বিষয় পড়ানো হয়, ডিগ্রি দেওয়া হয়। 

‘বিশ্ববিদ্যালয়-ধারণা’ যা বলে তাতে একটা বিষয় বা বিদ্যাচর্চার অংশবিশেষ নিয়ে একটা আস্ত ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ তৈরির পরিকল্পনা আজ থেকে অর্ধশতক আগে বিস্ময়কর, অদ্ভুত, অত্যুচ্চাভিলাষী ও অভিনব ছিল বৈকি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীকে পথ দেখানোর কৃতিত্ব অনেকটাই আমাদের পিতাদের। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের নেতৃত্বে তারা যত অভিনব কাজ করেছিলেন এটি তার অন্যতম। সাধারণ তল্লাসি থেকে যতটুকু বুঝেছি, আমাদের শিক্ষিত-পাকিস্তানি পিতারাই বিশ্বে প্রথম বিদ্যা চর্চার আংশিক ক্ষেত্র নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তা বাস্তবায়ন করেছিলেন (যদিও কী এক বিস্ময়কর কারণে এই কৃতীত্বের দাবি আমাদের বা আমাদের ‘পাকিস্তানি ভ্রাতাদের’ করতে দেখি না)। শুনেছি, ১৯৬১ সালে বিশ্ব প্রথম একান্ত প্রকৌশলভিত্তিক দুটি লোক-বিশ্ববিদ্যালয় দেখেছিল যার একটির নাম ওয়েস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (WPUET) আর অপরটি ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (WPUET)।

সেই পাকিস্তানি সিলসিলা বজায় রেখেই আমরা পেয়েছি বুয়েট। একই সময়ে, একই থলি থেকে পশ্চিম ও পূর্বপাকিস্তান একটি করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরও জন্ম হয়েছিল। আর পরবর্তীকালে মুরগির ছা’র মতো কৃষি, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ইত্যাদি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হতে থাকে সম্ভবত সে ধারাবাহিকতাতেই। পশ্চিমা বিশ্বে যা লভ্য নয় তেমন কিছু কীভাবে এই দেশে এমন বিস্তার লাভ করলো সে এক বিস্ময়! আরও বিস্ময় হচ্ছে, শিক্ষিত-বাঙালী পশ্চিমা দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রসঙ্গে নানান হিবিজিবি কথা জানালেও এই ‘অস্বাভাবিকতা’ বিষয়ে রা-টিও করে না। 

পরবর্তীকালে এরই আলোকে তারা এমন সব বিশ্ববিদ্যালয় কল্পনা ও প্রতিষ্ঠা করেন যেগুলো বিষয় বিবেচনায় তো বটেই প্রতিবেশ বিবেচনাতেও কলেজ বা ইন্সটিটিউট প্রকৃতির ঊর্ধ্বে উঠতেই পারছে না। ‘বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর’ শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের আচরণ, দাবিদাওয়া দেখলে-শুনলে মনে হয় তারা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তত অন্তরের দিক থেকে কলেজ দেখতে এবং কলেজে রূপান্তর করতে চায়। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাক্সক্ষা হওয়ার কথা যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ-পরিস্থিতি মোকাবিলা করা, লড়াই করা, কোনো কিছু নিষিদ্ধ করা না। বিঃ দ্রঃ পুয়েটের জন্মের ৬০ বছর পরেও বিশ্বের অধিকাংশ দেশে প্রকৌশল ও/বা প্রযুক্তি বিদ্যা একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই রয়ে গেছে। জেনেভায় চিকিৎসা, দিল্লিতে প্রযুক্তি বা হংকংয়ে যে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- সেগুলো খুব সাম্প্রতিক সংযোজন। পুরান পোস্ট, আবার স্মরণ করলাম। ২-৪-২৪। ফেসবুক থেকে 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়