শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৪, ০২:২১ রাত
আপডেট : ০৪ এপ্রিল, ২০২৪, ০২:২১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তরমুজ থেকে বুয়েট! 

মিরাজুল ইসলাম

মিরাজুল ইসলাম: বাংলাদেশের চিন্তাশীল মানবসম্পদকে ব্যস্ত রাখা খুব সোজা ব্যাপার। অনুৎপাদনশীল বিষয়াদি যখন একটি জাতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় তখন বুঝে নিতে হয় ‘উলুবনে মুক্তা ছড়ানো’ বাকধারাটির চমক। আগে কী ভাবতাম তা বিবেচনায় নেওয়ার চেয়ে ভবিষ্যতে কী হতে পারে তা নিয়ে আগাম অনুমান করতেই দিনের বেশির ভাগ সময় কেটে যায়। বাংলাদেশ নিয়ে আমার অনুমান এমন, শত বছর ধরে আমরা বিভিন্ন সময়ে গ্রহণ-বর্জনের ভেতর দিয়ে আজকের বাংলাদেশ নির্মাণ করলেও ক্রমশ তা আরো পরিবর্তিত হয়ে পড়ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে অবশ্যই একদিন বাংলাদেশ কট্টর ইসলামী দেশ হিসেবে রূপান্তরিত হবে এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেই থাকুকÑ এমন সমাজ কাঠামোকে স্বাগত জানাবে। 

ইসলামী নাম ও লেবাসধারী রাজনৈতিক দলগুলো হবে মূলত এর চালিকাশক্তি। গ্লোবাল রাজনীতির কারণে তারা সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতায় জড়াতে পারবে না, কিন্তু তাদের অনুসৃত নীতি বাস্তবায়ন করেই ক্ষমতার কেন্দ্র পরিচালিত হবে। ব্যাপারটা হবে অনেকটা এরকম- তুরস্কের মতো আধুনিক ভাবধারা যেখানে নির্দিষ্ট স্থান-কাল-পাত্রে পোশাকের স্বাধীনতা থাকবে, পাকিস্তান-ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের আদলে সাব অলটার্ন ইসলামিস্ট আদর্শ, ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়ার মুসলমানদের মতো ইসলামী আচার-কায়দা এবং সামাজিক অনুষ্ঠান জনপ্রিয়তা পাবে,আফগানিস্তান তালেবান শিক্ষা কায়দা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অধিক গ্রহণযোগ্যতা পাবে, ইরানের আদলে শহুরে শিল্প-সাহিত্য-চলচ্চিত্রে বুদ্ধিজীবী প্রবণতা, মিশরের আল-আজহার কায়দার সাথে হার্ভাড-অক্সফোর্ডের ফিউশনে উচ্চ শিক্ষার প্রচলন, সময়ভেদে কখনো পাকিস্তানবিরোধী, আবার কখনো ভারতবিরোধী মোর্চা গঠন করে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতায় পররাষ্ট্রনীতি চর্চা। 

আপাতত আগামী পঞ্চাশ বছর পরের বাংলাদেশকে এমন অবস্থায় কল্পনা করা ছাড়া গত্যন্তর দেখছি না। এটি দেশের জন্য ভালো না মন্দ হবে তা ভবিষ্যৎ বংশধরেরাই ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে কেউ ভিন্নমত পোষণ করলে তা গ্রাহ্য করবো না। কারণ সমকালীন সোশ্যাল মিডিয়া কালচারে অন্যের মত গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। এখানে দিন শেষে তালগাছটা আমারই। লেখক ও চিকিৎসক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়