মনিরুল ইসলাম: [২] দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল কারা হবে তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। কে হবেন বিরোধীদলীয় নেতা? তাও স্পষ্ট নয়। ১১ আসনে বিজয়ী জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধীদল ছিলাম। এখনও বিরোধী দলেই আছি। বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে সংসদে আমরা সোচ্চার থাকব। অন্যদিকে, ৬২টি আসন পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্যতম নিক্সন চৌধুরী বলেছেন, আমরা বিরোধীদলের বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্ররা বসবো। বসে ঠিক করব আমরা জোট গঠণ করব না কারও সঙ্গে যাবো। সময়ই সব বলে দিবে।
[৩] গত বুধবার শপথ নেবার পর জাপা মহাসচিব ও নিক্সন চৌধুরী এসব কথা বলেন।
[৪] নিক্সন চৌধুরী বলেছেন, আমি জাতীয় সংসদের চীফ হুইপের সাথে কথা বলছি যাতে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরকে নিয়ে চীফ হুইপ বসেন। কথা বলেন।
[৫] তবে শুত্রুবার সকালে চীফ হুইপ নূর-ই- আলম চৌধুরী জানান, এখনও বসার কথা চূড়ান্ত হয়নি। সংসদনেতার অনুমতি ছাড়া বসার সুযোগ নেই।
[৬] তিনি বলেন, আমি দ্বাদশ জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে চীফ হুইপ হই। তারপর দেখা যাবে।
[৭] এদিকে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিক্ষিপ্তভাবে নিজেরা আলোচনায় রয়েছেন। কবে একত্রে বসবেন তার দিন- তারিখ স্থির হয়নি। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, বুধবার সংসদ সদস্যদের শপথ আর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রীসভার শপথ অনুষ্ঠান শেষ হলো। এজন্য, তাড়াহুড়ো করা হচ্ছেম না। নতুন বছরে জাতীয় সংসের অধিবেশন ডাকা হলে তখন স্বতন্ত্ররা বসে আলোচনা করবেন সংসদের প্রধান বিরোধীদল ও বিরোধীদলের নেতা কে হবেন। নাকি তারা স্বতন্ত্র হয়েছেই সংসদে ভূমিকা রাখবেন।
[৮] অন্যদিকে সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে কোনো আলোচনা বা যোগাযোগ শুরু করেননি। যদি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা জোটবদ্ধ না হন, তাহলে জাতীয় পার্টি আবার প্রধান বিরোধী দল ও দলটির চেয়ারম্যান ও একাদশ সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
[৯ ] সূত্র আরও জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদে কারা প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে, তা অনেকটা নির্ভর করছে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। কারণ, ৬২ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৫৮ জন আওয়ামী লীগের। তাঁরা দলীয় প্রধানের নির্দেশনার অপেক্ষা রয়েছেন।
[১০] জাতীয় সংসদের আইন শাখা এক কর্মকর্তা জানান, বিরোধী দল হতে হলে ন্যূনতম কতজন সংসদ সদস্য থাকতে হবে, সেটি আইন বা জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ নেই। তবে বিরোধী দলের নেতা কে হবেন, তা উল্লেখ আছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, ‘বিরোধী দলের নেতা অর্থ স্পিকারের বিবেচনামতে যে সংসদ সদস্য সংসদে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত ক্ষেত্রমতো দল বা অধিসংঘের নেতা। এছাড়া ‘বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার)’ আইনেও একই সংজ্ঞা দেওয়া আছে।
[১১ ] জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক আকাপকালে বলেন, আমরা তো বিরোধী দলেই আছি। দেখা যাক কি হয়। দলে বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হয়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আর স্পিকার কি করেন তার অপেক্ষায় আছি। আমরা সংসদে সরকারি দলের উল্টো দিকে বসবো। বিরোধীদল তাই বসে। সংসদে জনগনের পক্ষে আমরা কথা বলব। সরকারেরব গণবিরোধী কর্মকান্ডের সমালোচনায় ভূমিকা রাখব।
এইচএ