শিরোনাম
◈ একপাক্ষিক নির্বাচনের শঙ্কা জামায়াত- এনসিপির, কী বলছে ইসি? ◈ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল (ভিডিও) ◈ এলপিজি নিয়ে সংকট: বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ী সমিতির ◈ জকসু নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জয় ◈ বি‌পিএল, সিলেট টাইটান্স‌কে হারিয়ে আবার শী‌র্ষে চট্টগ্রাম রয়‌্যালস ◈ ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার যা করেছেন, চাইলে বাংলাদেশেও করুন, কিন্তু খেলোয়াড় কেন: জম্মু–কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ◈ এবার লিটন দাসের চুক্তিও বাতিল করল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান! ◈ বড় বাজারে অর্ডার কম, নতুন বাজারেও ধাক্কা: পোশাক রফতানিতে চ্যালেঞ্জ ◈ এবারের নির্বাচন লাইনচ্যুত রেলকে লাইনে ফেরানোর চেষ্টা: নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ ◈ রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২২, ১১:০৪ দুপুর
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:৫৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বললেন

শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসা আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ 

ভূঁইয়া আশিক রহমান : [২] ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে। তার দেশের ফেরা ছিলো যথেষ্ট সাহসের ব্যাপার। কারণ স্বদেশে ফিরে আসার আগে একজন বিদেশি সাংবাদিক তাকে দেশে ফেরার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন করে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার উত্তর ছিলো, বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ না করলে বড় অর্জন সম্ভব হয় নয়। 

আমাদের মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুকন্যা। বঙ্গবন্ধু বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন বলেই আজকে স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রতিরোধ কমিটিও করেছিলো তৎকালীন বিএনপি সরকার। কিন্তু কাজে লাগেনি। কারণ সেদিনের ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দেশের মানুষ বিমানবন্দরে সমবেত হয়েছিলেন। 

[৩] এ প্রতিবেদককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে আসার আগে আওয়ামী লীগের ভেতরের খবরটি ছিলো এই, দল বেশ কয়েক খন্ড হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে এসেছিলেন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে। তিনি আওয়ামী লীগকে ধরে রাখলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিত্ব করছেন আজও। সময়ের হিসেবে সেটি চার দশকের বেশি। ১৯৭৫ সালের পরে রাজনৈতিক নির্বাসনে যাওয়া আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলো। 

[৪] শেখ হাসিনার কাছ থেকে তো আওয়ামী লীগ অনেক পেয়েছে। তবে বাংলাদেশ কী পেয়েছে তাঁর কাছ থেকে? উন্নয়ন নয়, তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নজরকাড়া হয়েছে। সারাবিশে^র নজর কেড়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত থেকে উত্তরণ ঘটছে উন্নয়নশীল দেশে। এটি যেমন সুযোগ, তেমনি অনেক চ্যালেঞ্জও আছে। তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার মতো আর্থিক ও সামাজিক সামর্থ্য তৈরি হয়েছে বাংলাদেশেরÑএমন বিশ^াসও আমরা করি। 

[৫] শেখ হাসিনা দেশে না ফিরলে বঙ্গবন্ধুহত্যার সঙ্গে জড়িত খুনিদের বিচার হতো না। বঙ্গবন্ধুহত্যার রায় আমরা অনেকটাই বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। কিছু বাকি আছে। কারণ খুনিরা বিদেশে আছে। যাদের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি নেই। চুক্তি থাকলে হয়তো সহজতর হতো। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এটুকু আমরা শুনতে পাই। 

[৬] শেখ হাসিনা দেশে না ফিরলে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচারও হতো না। শেখ হাসিনার একক দৃঢ়তা, সাহসিকতা ও উদ্ভাবনী নেতৃত্বের জন্য আমরা এই বিচারটি পেয়েছি। বিচারটি চলমান আছে। ভবিষ্যতে থাকবে। শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্তে পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় সম্পন্ন। জুন মাসের শেষের দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ^ব্যাংক এক নাটক করে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন প্রত্যাহার করেছিলো। 

[৭] পদ্মা সেতুর অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশের মানুষÑ আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা নন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাহসিকতাকে আমরা অবশ্যই অভিবাদন জানাবো। নেতৃত্ব ও জনতা যদি একাকার হতে পারে, যদি নেতৃত্ব ও জনতার মধ্যে মিথস্ক্রিয়া তৈরি হয়, তাহলে অনেক অসাধ্যও সাধন হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের জন্ম এমনি এক অসাধ্য ঘটনা। বাংলাদেশকে ভালোভাবে গড়তে হলে নেতৃত্ব ও জনতার মধ্যে মিথস্ক্রিয়া দরকার আছে। সেটি শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন। 

[৮] শেখ হাসিনা ৪২ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় অপ্রাপ্তির জায়গা হচ্ছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বা অবর্তমানে আওয়ামী লীগের হাল কে ধরবে? সেই তথ্য এখনো আমরা জানি না। গুঞ্জন শুনি, জয় বা শেখ রেহানা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবেন। আমরা জানি, শেখ হাসিনা মহীরুহ হয়েছেন, কিন্তু চারাগাছ জন্মায়নি। নেতৃত্ব প্রসঙ্গটি বড় এজন্য যে, বঙ্গবন্ধু মাত্র আট বছর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৬ সাল থেকে, আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েই তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতৃত্ব তৈরি করেছিলেন বলেই চার জাতীয় নেতা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সফলভাবে পরিচালনা করেছিলেন। সেজন্য নেতৃত্ব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি আমি।

[৯] আওয়ামী লীগের আদর্শিক বিচ্যুতি আমাদের যথেষ্ট কষ্ট দেয়। যেমন ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী এনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করা হলো। এটি অপ্রয়োজনীয় ছিলো। কারণ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বঙ্গবন্ধুবিরোধী, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ইসলামবিরোধী, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম গণতন্ত্রপরিপন্থী, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাহারের সংবিধান পরিপন্থী। আর ধর্মান্ধরা কোনোদিন আওয়ামী লীগের বাক্সে ভোট দেবে না। কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম করার ফলে দেশটি সাম্প্রদায়িক হয়ে গেছে। এটি অনাকাক্সিক্ষত ও অবাঞ্ছিত একটি সিদ্ধান্ত ছিলো বলে আমি মনে করি। তবে সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনৈতিক বির্বতনের ইতিহাসে একটি মোটা দাগের অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

[১১] করোনা মহামারিতে সারাবিশ^ই আক্রান্ত হয়েছিলো। বিশে^র অর্থনীতিও বিপন্ন। এর মধ্যেও শেখ হাাসিনার দৃঢ়তা ও উদ্ভাবনী নেতৃত্ব বাংলাদেশকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধিও অনেকটা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। সেজন্য তাঁর নেতৃত্বের প্রতিও আমরা যথেষ্ট আস্থা রাখতে পারি। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়