শিরোনাম
◈ এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগে চাপে গুগল-আমাজন-মাইক্রোসফট, মূল ব্যবসায় ক্ষতি ও ট্রিলিয়ন ডলারের ধাক্কা ◈ ঢাকার ২৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ, স্যাঁতসেঁতে কক্ষে পাঠদান ও শিক্ষক সংকটে ব্যাহত শিক্ষা ◈ থাইল্যান্ডে ১০ হাজার বিদেশিকে খুঁজছে ইমিগ্রেশন পুলিশ, ঝুঁকিতে বাংলাদেশিরাও ◈ তাহসিফের লাশ উদ্ধারের স্থান থেকে ৫০ গজ দূরে মিলল মোটরসাইকেল, হেফাজতে ‘জুনিয়র বন্ধু’ দ্বীপ ◈ গ্যাবনকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ◈ যৌন হয়রানি, ধর্মান্তরের চাপ, আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টানরা ◈ আমেরিকা ও ইসরায়েলি-মদদপুষ্ট চার সন্ত্রাসী চক্রের ১৬ সদস্য ইরা‌নে গ্রেফতার, অস্ত্র ও যুদ্ধের গোলাবারুদ জব্দ ◈ জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন তারেক রহমান, ৬ সমঝোতা দলিল ও ৪৬৫৬ কোটি ইয়েনের ঋণ সহায়তা ◈ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ৩৪৩০ জন নিয়োগের অনুমোদন ◈ সরকার গঠনের লড়াইয়ে বিপাকে নেতানিয়াহু, জোট ছাড়ার ঘোষণা কট্টরপন্থি ইহুদি দলের

প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪০ দুপুর
আপডেট : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২১ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

পুলিশ কর্তাদের অ‌বৈধ সম্পদে চোখ গোয়েন্দাদের, তালিকায় যেসব কর্মকর্তা

ডেস্ক রি‌পোর্ট: সম্প্রতি পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে ডিবির অভিযান ঘিরে এখনো চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। রাজধানীর পূর্বাচলে একটি প্রজেক্টে পুলিশ কর্মকর্তাদের একাধিক ফ্ল্যাট তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে বিভিন্ন স্থানে জমির ব্যবসাও করছেন। কারও আছে বাড়ি ও একাধিক ফ্ল্যাট। আছে দেশের বাহিরে বিশাল অর্থ-সম্পদও। 

অনেকের সন্তান পড়াশোনা করছে দেশের নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা উন্নত দেশে। চাকরির বেতনের সঙ্গে সহায়-সম্পদ ও জীবনযাপনের মিল না থাকায় সন্দেহভাজন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত করছে দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থা। ---- দেশরূপান্তর

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্পদের পরিমাণ দেখে হতবাক হন রাষ্ট্রের কর্তা-ব্যক্তিরা। এসব তথ্য পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্য সদস্যদের সম্পদের দিকে ‘বিশেষ চোখ’ রেখেছে। এরই মধ্যে একটি তালিকার কাজ গুটিয়ে আনা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সরকারের হাইকমান্ডের সিগন্যাল এলেই তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে ব্যবস্থা। এমনকি নজরদারিতে তাদের রাখা হয়েছে ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের একটি অসাধু সিন্ডিকেটের নানা অনিয়ম নিয়ে দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। পুলিশের প্রজেক্টে আলিশান বাড়ি তৈরির পেছনে কোথায় থেকে এসেছে অর্থ তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই তালিকায় সাবেক একাধিক আইজিপিসহ বর্তমান কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তারা ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। পিআরবিসহ প্রচলিত যাবতীয় বিধি লঙ্ঘন করে পুলিশের কেউ কেউ রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পুলিশে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তার দিকেও চোখ রেখেছে দুদকসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তালিকায় যাদের নাম এসেছে, তাদের ঢাকাসহ দেশের বাহিরে ‘বিশাল সম্পদ’ রয়েছে। তাদের অনেকের সন্তান বিদেশে পড়ালেখা করছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কর্মকর্তা ও সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জাকিয়া পারভীনের সম্পদ বিবরণী তলব করে নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। 

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের নামে প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ অক্টোবর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত প্রায় ৮৩ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। ফখরুদ্দীন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় পুলিশ কর্মরত আছেন। ঘটনার সময় তিনি ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখায় ছিলেন। এরই মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। 

একটি মামলায় হারুনকে প্রধান আসামি এবং অপর মামলায় তার ছোট ভাই চিকিৎসক ডা. এবিএম শাহরিয়ারকে প্রধান আসামি ও হারুনকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের মামলার তদন্ত ও বিচার চলমান রয়েছে। সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হকের অবৈধ সম্পদের নথিপত্র ও প্রমাণাদি লুকানোর চেষ্টার ঘটনায় দুদক অভিযান চালিয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে পুলিশের এসআই হুমায়ন কবিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এই রকম একাধিক অভিযোগ উঠেছে পুলিশের কোনো কোনো কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে।

যেসব অভিযোগ নিয়ে হচ্ছে তদন্ত : পুলিশের সম্পদ নিয়ে এবার নজরদারি করা হচ্ছে। আয়ের সাথে সম্পদের সামঞ্জস্য, জমি-ফ্ল্যাটের মালিকানা, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি নিয়ে গোপনে চলছে তদন্ত। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে কিনা, আয়ের উৎসের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের মিল আছে কি না, কিংবা সম্পদ অর্জনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আছে কিনা এসব বিষয় বেশি যাচাই করা হচ্ছে।

এই