মনিরুল ইসলাম : জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিলকে কেন্দ্র করে সংসদীয় কমিটিতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দলীয় সদস্যরা। বিলটির আলোচনা ও পর্যালোচনায় অংশ না নেওয়ার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াই বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বিরোধী সদস্যদের অভিযোগ, সরকার ভুক্তভোগী জনগণ, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ রহিত করেছে। অধ্যাদেশ বাতিলের সময় আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সংসদে উপস্থাপিত নতুন বিলটি বাস্তবে আরও দুর্বল ও সীমিত পরিসরের বলে দাবি তাদের।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিলটি জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমূহের বৈশ্বিক জোট (GANHRI)-এর স্বীকৃত মানদণ্ড, ‘প্যারিস প্রিন্সিপলস’ এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় অংশীজনদের সঙ্গে যথাযথ মতবিনিময় এবং স্বাধীনভাবে বিল পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এতে করে কমিটিকে কার্যত ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিরোধী সদস্যরা।
এ প্রেক্ষাপটে কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিলটির কোনো আলোচনা বা পর্যালোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে বিল পাসের প্রক্রিয়ার কোনো ধাপেই অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়ে ভবিষ্যতে কমিটির বৈঠকেও উপস্থিত না থাকার কথা জানিয়েছেন তারা।
এই অবস্থানপত্রে স্বাক্ষর করেছেন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (সদস্য নং ৬৮), আল ফারুক আব্দুল লতিফ (সদস্য নং ১৩) এবং আখতার হোসেন (সদস্য নং ২২)।