শিরোনাম
◈ ঢাকার ১১০ কিমি নৌপথে চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস, ৪৫টি ল্যান্ডিং পয়েন্ট নির্ধারণ ◈ খুলনা-বরিশালসহ ৬ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস ◈ আজ কিশোরগঞ্জে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ মেঘমুক্ত আকাশে দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার, পঞ্চগড়ে বাড়ছে পর্যটকের আনাগোনা ◈ রোহিঙ্গাদের ‘রাখাইনের বাঙালি’ দাবি করে মিয়ানমারের বিবৃতি কী বার্তা দিচ্ছে ◈ আমির হামজার গাড়িতে হামলা, জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষে আহত ১৫ ◈ প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট, দিলেন ৪ প্রস্তাব ◈ সদরঘাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আটক ১০ ◈ কম দামে বেশি রফতানির মডেলে ঝুঁকি, ইউরোপে বাজার হারানোর শঙ্কা বাংলাদেশের ◈ উদ্বোধনের আগেই থার্ড টার্মিনালের ছাদে অসংখ্য পানি লিকেজ, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন (ভিডিও)

প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:১০ সকাল
আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তারেক রহমানের ভারত সফর:  ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা

মনিরুল ইসলাম : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখন ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে সফরটি হতে পারে। ২০–২১ আগস্ট কিংবা ২১–২২ আগস্ট—এমন দুটি সম্ভাব্য সূচিও আলোচনায় রয়েছে।

তবে এর আগে ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা তারিখ ও নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে কোন তথ্য নিশ্চিত, কোনটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতের খবর এবং কোনটি নিছক রাজনৈতিক বা গণমাধ্যমের জল্পনা—এ পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।

সফর এখন কোথায় দাঁড়িয়ে

সর্বশেষ কূটনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ও নয়াদিল্লি দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সফরের ব্যাপারে আগ্রহী। ভারতের পক্ষ থেকে ২১ ও ২২ আগস্ট সফরের প্রস্তাব দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকার পক্ষ থেকে আগস্টের শেষ দিকে সফরের আগ্রহ ছিল বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ, সফর বাতিল—এমন কোনো তথ্য নেই; আবার সফরের তারিখ চূড়ান্ত—এমন আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও এখনো নেই। এই পার্থক্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু প্রতিবেদনে সফরকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া হয়েছে।

কেন এই সফর এত গুরুত্বপূর্ণ

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশার কথা বলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত তথ্যেও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক উন্নয়ন সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ বাড়তে থাকে।

জুলাইয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, নয়াদিল্লি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলো গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ব্রিকস সম্মেলন থেকে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফর

ভারতের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রথমদিকে সম্ভাব্য ভারত সফরকে ব্রিকস সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছিলেন অনেকে। কিন্তু সর্বশেষ কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তারেক রহমান সেপ্টেম্বরের ১২–১৩ তারিখের ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না—এমন সিদ্ধান্তের পর আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টি এগিয়ে এসেছে। ফলে এখন সম্ভাব্য সফরটিকে মূলত বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয়—শেখ হাসিনা

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তারা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার আলোকে পরীক্ষা করছে।

এই ইস্যুটি সম্ভাব্য তারেক-মোদি বৈঠকে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, ৫ আগস্ট ভারতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশের পর ঢাকা অসন্তোষ জানায়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের বক্তব্যকে দেশের বিচারব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখেছে। ফলে সফরের আগে এই ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

তবে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে তারেক রহমান ভারত যাবেন না’—এমন বক্তব্যকে এখন পর্যন্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ধরনের দাবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসেছে; তাই এটিকে নিশ্চিত সরকারি অবস্থান হিসেবে লেখা ঠিক হবে না।

তিস্তা ও গঙ্গা চুক্তি

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পুরোনো অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন অন্যতম।

এর পাশাপাশি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও ভবিষ্যৎ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জুলাইয়ে বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিস্তা ও গঙ্গার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব এবং কোনো সমস্যাই সমাধানের বাইরে নয়। তাই তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরে পানি, নদী ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সীমান্ত ও নিরাপত্তা

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর সীমান্ত।

সীমান্তে প্রাণহানি, সীমান্ত অপরাধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান—এসব বিষয় দুই দেশের নিরাপত্তা আলোচনায় নিয়মিত থাকে।

নতুন সরকারের আমলে ঢাকা চাইবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সম্মান ও সমন্বয় বাড়াতে। অন্যদিকে দিল্লির অগ্রাধিকার হতে পারে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ। তাই প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিরাপত্তা সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে।

বাণিজ্য ও অর্থনীতি

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বাস্তব ক্ষেত্র অর্থনীতি।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, স্থলবন্দর, রেল ও সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিশাল বাজার গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভারতও বাংলাদেশের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী।

তারেক রহমানের সরকার চাইবে সম্পর্কের অর্থনৈতিক দিকটি যেন রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা

বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নানা চাপের মধ্যে রয়েছে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং জ্বালানি সহযোগিতা তাই আলোচনার বাস্তব বিষয় হতে পারে।

এখানে দুই দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সহযোগিতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্রিড সংযোগ, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

চীন প্রসঙ্গও থাকবে আলোচনার পেছনে

তারেক রহমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চীনের সঙ্গে সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং বাংলাদেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। মোংলা বন্দর, তিস্তা প্রকল্প, অবকাঠামো এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়েও ভারতের কৌশলগত আগ্রহ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তাই দিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে—ঢাকা কীভাবে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখবে।

অন্যদিকে ঢাকার অবস্থান হতে পারে—বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সবার সঙ্গে সমানভাবে সম্পর্ক রাখবে।

দিল্লি কেন তারেক রহমানকে এত গুরুত্ব দিচ্ছে

ভারতের জন্য বাংলাদেশ কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়; ভৌগোলিক, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগের দিক থেকে দেশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ, বঙ্গোপসাগর, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দ্রুত রাজনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি করা দিল্লির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেব্রুয়ারির অভিনন্দন বার্তাতেও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা স্পষ্ট ছিল।

ঢাকার হিসাব কী

ঢাকার হিসাবও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়, কিন্তু সেই সম্পর্ক যেন একতরফা না হয়—এমন একটি অবস্থান নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ঢাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে—

  • শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ;
  • সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা কমানো;
  • তিস্তার পানি বণ্টন;
  • গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ;
  • বাণিজ্য ঘাটতি কমানো;
  • ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার;
  • জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতা;
  • ভিসা ও মানুষের যোগাযোগ সহজ করা;
  • নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক যোগাযোগে পারস্পরিক স্বার্থ নিশ্চিত করা।

সফর হলে কী বার্তা যাবে

তারেক রহমানের দিল্লি সফর হলে এটি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর হবে না; বরং ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কমানোর একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হবে।

ভারতের পক্ষ থেকে এটি হবে নতুন সরকারের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সুযোগ। আর বাংলাদেশের জন্য এটি হবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে দাঁড় করানোর সুযোগ। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে—দুই পক্ষ কি পুরোনো বিরোধগুলোকে পাশে রেখে নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে?

তবে এখনই ‘চূড়ান্ত সফর’ বলা ঠিক হবে না

সর্বশেষ তথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানেই।

১৫ আগস্ট পর্যন্ত কূটনৈতিক সূত্রগুলো ২০–২৫ আগস্টের একটি সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে কথা বলছে। ২০–২১ অথবা ২১–২২ আগস্টের মতো সূচি আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সফরসূচি প্রকাশিত হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১ আগস্টের ব্রিফিংয়েও তারেক রহমানকে দেওয়া আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

অতএব, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যায়—তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতি ও আলোচনা চলছে; দিল্লি সফরটি হতে পারে ২০–২৫ আগস্টের মধ্যে। কিন্তু চূড়ান্ত তারিখ ও পূর্ণাঙ্গ সফরসূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

শেষ কথা

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক একই সঙ্গে সহযোগিতা ও টানাপোড়েন—দুই বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

একদিকে দিল্লি নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী। অন্যদিকে শেখ হাসিনার অবস্থান, প্রত্যর্পণ ইস্যু, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সীমান্ত-পানি-বাণিজ্যের পুরোনো সমস্যাগুলো সম্পর্কের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

ফলে তারেক রহমানের দিল্লি সফর হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ছবি তোলা বা আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়; বরং বৈঠক শেষে কোন বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি হলো।

বিশেষ করে শেখ হাসিনা ইস্যু, পানি, সীমান্ত, বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক যোগাযোগ—এই ছয়টি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে সফরটি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

আর যদি সফর কেবল সৌজন্য বৈঠকে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্য থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পরিবর্তন নাও আসতে পারে।

সুতরাং এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী তথ্য হলো—সফরের আলোচনা বাস্তব, দিল্লির আগ্রহ স্পষ্ট, সম্ভাব্য সময় ২০–২৫ আগস্ট; কিন্তু চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখকে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়