মনিরুল ইসলাম: চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক প্রাথমিক রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। চলতি মাসের শেষ দিকে এসব রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণে দেশকে ভৌগোলিক ও মৌসুমি বাস্তবতার ভিত্তিতে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙন, জোয়ার-ভাটা এবং দুর্গম এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঞ্চলেও ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশয় দূর করে তিনি বলেন, “অনেকে বলতেন নির্বাচন আদৌ হবে কি না। আমরা বারবার বলেছি, এ বছরের মধ্যেই নির্বাচন শুরু হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন একদিনে শেষ হয় না। সাধারণত সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগে। যদি আগামী অক্টোবরে নির্বাচন শুরু হয়, তাহলে ২০২৭ সালের অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।”
জুলাই মাসকে জাতীয় স্মৃতির অংশ করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি
ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, জুলাইকে শুধু স্মরণীয় মাস হিসেবে নয়, জাতীয় মননে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, আগামী ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। এদিন সকালে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এছাড়া রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সড়কে আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, “১৬ জুলাই ছিল গণঅভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের দিন। ওইদিন প্রথম কয়েকজন প্রাণ হারানোর পর আন্দোলন নতুন গতি পায় এবং পরে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। যারা জীবন দিয়েছেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না।”
তথ্য উপদেষ্টা জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও জুলাইজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। পর্যায়ক্রমে এসব কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হবে।
আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তদন্ত ও বিচার চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাবলি এবং সে সময়ের বাস্তবতা জনগণের সামনে তুলে ধরে ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে।
ব্রিফিংয়ের শেষে তিনি উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় মূলধারার গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।