মনিরুল ইসলাম : জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকর্ষণ করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী ও নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন সরকার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশি কিংবা বিদেশি যে কোনো নাগরিক যদি বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই নিয়ে আসতে পারেন, তবে বিনিয়োগকৃত সেই অর্থের ওপর ১.৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা বা কমিশন দেওয়া হবে। বিদেশে বসবাসরত যোগ্য ও মেধাবী প্রবাসী বাংলাদেশি অর্থাৎ ডায়াসপোরাদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে সরকার এই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রবাসীরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে নারী আসনে সংসদ সদস্য বেগম জহরত আদিব চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী আমলের ভুল নীতি এবং দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব বা 'স্পিল ওভার ইফেক্ট' বর্তমান অর্থনীতিকে বহন করতে হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার সেসব সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে তাদের অর্জিত লভ্যাংশ বা প্রফিট সহজে নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার ইতিমধ্যে সেই জটিলতার স্থায়ী সমাধান করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের মাঝে আস্থা ফিরে আসবে এবং দেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্রুত এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও দেশীয় ব্যবসায়ীদের চাঙ্গা করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে সংসদকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার এবং অতিরিক্ত তারল্য সংক্রান্ত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢালাওভাবে সুদের হার কমালেই যে সবসময় অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়, বিষয়টি তেমন নয়। তবে সরকার পুরো অর্থনৈতিক সমীকরণ এবং সুদের হারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে। যদি দেখা যায় যে সুদের হার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কমালে দেশীয় ব্যবসায়ী এবং দেশের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে উপকৃত হবে, তবে সরকার অবশ্যই সে বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে এই বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত বা কনফার্ম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দেশীয় উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকারের বর্তমান একটি বড় পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান আরও জানান, দেশের যেসব প্রকৃত ও নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়ী বিভিন্ন কারণে বর্তমানে ব্যবসায়িক মন্দা বা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ফান্ড বা তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিলের আওতায় যোগ্য ও ঋণখেলাপিহীন প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মাত্র ৯ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখী ও হালনাগাদ পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন যে, সরকার ডিরেগুলেশন বা পদ্ধতিগত জটিলতা সহজীকরণের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের সমভাবে উৎসাহিত করতে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাচ্ছে।