বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য ভারত যে ভূমিকা পালন করেছিল, সেজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ঢাকা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মাটিতে জীবন উৎসর্গ করা ১,৬৬৮ জন ভারতীয় জওয়ানকে শ্রদ্ধা জানান ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। সেইসময় পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, উত্তর-পূর্ব ভারত-সহ পুরো ভারতের মানুষ যেভাবে বাংলাদেশের পাশে সবরকমভাবে দাঁড়িয়েছিলেন, সেজন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি জানান, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আছে, তা অত্যন্ত বিরল। দু'দেশের সম্পর্ক শুধুমাত্র একটি দিক নির্ভর নয়। বিভিন্ন দিক থেকে জুড়ে আছে দু'দেশ।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের উচিত ‘কঠিন’ এবং ‘সংবেদনশীল’ বিষয়গুলো সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধান করা এবং ঢাকা নয়াদিল্লির সঙ্গে একটি ‘পারস্পরিক’ লাভজনক অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বিদ্যমান ‘মতপার্থক্য বা ভিন্নতাকে’ অতিক্রম করে একটি গভীরতর সম্পর্কের দিকে পথ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, পণ্ডিত রবিশংকর, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান, জুবিন গর্গদের কথাও উল্লেখ করেন ।
আর সৌহার্দ্যের বার্তা ফুটে ওঠে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংয়ের কথাতেও। তিনি জানান, বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অত্যন্ত উষ্ণভাবে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে ভারত। বাংলাদেশের সঙ্গে 'বহুমুখী সম্পর্ককে আরও গভীর করার জন্য নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে ভারত উন্মুখ হয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ।
এদিকে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনে বৃহস্পতিবার ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। এই অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছাড়াও সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ৩১ মার্চ কলকাতার একটি হোটেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।