শিরোনাম
◈ দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা করার চেষ্টা করছে বিএনপি ◈ নারী এশিয়ান কাপে চীনের কাছে ২-০ গো‌লে হারলো বাংলাদেশ ◈ ফুটবল ম্যাচ শুরুর আগেই সমর্থকের রহস্যময় মৃত্যু, আহত ৪৭ ◈ এলাকায় মাইকিং— ‘সাউন্ডবক্স বাজালে কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ (ভিডিও) ◈ কোচিং সেন্টার শতভাগ বন্ধ করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী ◈ ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে, অর্জন ধরে রাখতে সব উপদেষ্টাদের মাঠে নামতে হবে: নাহিদ ইসলাম ◈ জুলাই সনদের সাথে গণভোট বাতিল হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই : আইনমন্ত্রী ◈ দলীয় পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি ◈ কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানার আগুনে, ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার (ভিডিও) ◈ বিমান ভূপাতিত হলে কী করেন পাইলট? জানুন টিকে থাকার বাস্তব গল্প

প্রকাশিত : ১০ মার্চ, ২০২৬, ০৯:২৪ সকাল
আপডেট : ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বল্প আয়ের মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার মাসিক ভাতা পাবেন। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রথম পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।

গত সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থ বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দেশের অর্থনীতির সুফল প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড একটি সাহসী পদক্ষেপ। মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে নারীদের ক্ষমতায়ন এবং সমাজে তাদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাছাই প্রক্রিয়া
পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উপকারভোগী নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট (PMT)’ বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয় করে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে।

কী থাকছে ফ্যামিলি কার্ডে?
প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার একটি করে আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। স্পর্শবিহীন (Contactless) চিপ সম্বলিত এই কার্ডে কিউআর কোড (QR Code) এবং এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি পরিবারের ৫ জন সদস্যের বিপরীতে একটি কার্ড দেওয়া হবে।

সরাসরি অ্যাকাউন্টে যাবে টাকা
জি-টু-পি (Government to Person) পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা জমা হবে। ফলে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই নারীরা ঘরে বসে সরাসরি এ সহায়তা পাবেন। পরে এই কার্ডের মাধ্যমে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

কারা পাচ্ছেন না এই কার্ড?
পাইলটিং পর্যায়ে কিছু শর্তাবলী নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে কিংবা এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারী হলে এই কার্ড পাবেন না।

এ ছাড়া পরিবারের বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিলাসবহুল সম্পদ (গাড়ি, এসি) বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে তারা অযোগ্য বিবেচিত হবেন। নির্বাচিত নারী অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেয়ে থাকলে, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিতে হলে তাকে আগের সুবিধাটি ছাড়তে হবে।
বাজেট ও বরাদ্দ

আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের জন্য এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে নারীদের দেওয়া হবে এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন ও কার্ড প্রস্তুতসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়