ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের পর গত শনিবার থেকে আবেদনের শুনানি শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই শুনানির অষ্টম দিনে ইসির বিশেষ বিবেচনায় প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন খাগড়াছড়ি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে শুনানি করে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে অন্য নির্বাচন কমিশনাররাও অংশ নিয়েছেন। এসময় আপিল আবেদনের শুনানি নিয়ে জিরুনা ত্রিপুরার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেন ইসি।
ইসি কর্মকর্তা জানান, পার্বত্য এলাকায় হওয়ায় ওই আসনের মোট ভোটারে ১ শতাংশ ভোটারের সই সংগ্রহ করা অনেক কষ্টের। তার ওপর ওই আসনে একজন মাত্র নারী প্রার্থী। এ কারণে ভোটার সমর্থনের ৮৭ শতাংশ কম থাকলেও কমিশন নিজস্ব ক্ষমতায় বিশেষ বিবেচনায় তার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেছেন।
জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিরুনা ত্রিপুরার ভোটার সমর্থন দেখানোর কথা ছিল ৪ হাজার ৭৪১ জনের। কিন্তু ৬১৩ জন ভোটার সমর্থকের সই জমা দিয়েছিলেন। বিরাটসংখ্যক ভোটার সমর্থনের ঘাটতি থাকার অভিযোগের তার প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে কমিশন শুনানি নিয়ে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ তার আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিকে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ি এলাকা হওয়ার এতো সংখ্যক মানুষের সমর্থক সূচক সই নেওয়ার জন্য যে সময়ের প্রয়োজন সেটা পাইনি। তবে বাছাইয়ের সময় সমর্থকদের নিয়ে যাওয়ার পরও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময় শেষ হয়ে যায়। ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন।
তিনি বলেন, আমার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সইয়ের হিসাব করলে মোট ৪ হাজার ৭৪১ জনের সই প্রয়োজন। সেখানে আমি দেখিয়েছি ৬১৩ জনের।
জানা যায়, জিরুনা ত্রিপুরাকে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই সাময়িকভাবে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর ১৪ অক্টোবর তাকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হয়।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশনে গত ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করেন।
উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন