শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, দক্ষিণ আফ্রিকায় চীন, রাশিয়া ও ইরানের যৌথ নৌ মহড়া ◈ কিশোরগঞ্জে হোটেলের লিফটে বরসহ ১০ জন আটকা, দেয়াল ভেঙে উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ◈ তেহরানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক রাতেই ২০০-র বেশি বিক্ষোভকারী নিহত ◈ মিত্র হারিয়ে কোণঠাসা খামেনি: ভেনেজুয়েলা থেকে তেহরান—ইরানের শাসন কি শেষ অধ্যায়ে? ◈ নির্বাচনের আগে টার্গেট কিলিংয়ের ছোবল, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ◈ অ‌স্ট্রেলিয়ান বিগ ব‌্যাশ, রিশাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শীর্ষস্থানে হোবার্ট ◈ যুদ্ধবিমান নিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান আলোচনা, প্রতিক্রিয়ায় যা জানাল ভারত (ভিডিও) ◈ টানা ছয় হার কাটিয়ে জয়ের মুখ দেখল নোয়াখালী এক্সপ্রেস ◈ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা না চাওয়ায় যা বলল ভারত ◈ তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত

প্রকাশিত : ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:১৫ রাত
আপডেট : ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নীতিগত ব্যর্থতা ও দুর্নীতির চিত্র: টেলিযোগাযোগ খাতের ৩,২৭২ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্র প্রকাশ

বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতে গত ১৫ বছরে সংঘটিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও কাঠামোগত দুর্বলতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে বিস্তৃত শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে সরকার। এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতার কারণে সেবার মান ও ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। 

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ওয়েবসাইটে ৩ হাজার ২৭২ পৃষ্ঠার এই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং নাগরিককেন্দ্রিক টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে এই দলিল নীতিগত দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। 

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে টাস্কফোর্স গঠন : প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনে গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ সালে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। গত দেড় দশকে টেলিযোগাযোগ খাতে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয় এই টাস্কফোর্সকে। 

টাস্কফোর্সের প্রধান ছিলেন— বুয়েটের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান। সদস্য হিসেবে ছিলেন— অধ্যাপক ড. মুসাব্বির উদ্দিন আহমেদ, ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, ড. লুৎফা আক্তার, টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এখলাস উদ্দিন আহমেদ, প্রযুক্তিবিদ ফিদা হক এবং এজাহার উদ্দিন আনিক। 

প্রথমে তিন মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বাড়ানো হয়। আট মাস পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। 

খণ্ডিত লাইসেন্সিং ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণ : শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ক্ষুদ্র লাইসেন্স প্রদান, বহুস্তর অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রক তদারকির ফলে টেলিযোগাযোগ খাতে জটিল ও অদক্ষ বাজার কাঠামো তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগ বাড়লেও সেবার মান তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।

এছাড়া নীতিনির্ধারণ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবধানের কারণে অনেক ক্ষেত্রে সেকেলে নিয়ন্ত্রক কাঠামো এখন আর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। 

আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবায়নে ধীরগতি কেন : প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্বকেন্দ্রিক স্পেকট্রাম মূল্য নির্ধারণ, অবকাঠামো শেয়ারিংয়ে বিলম্ব এবং কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের কারণে ৫জি-সহ আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এই নীতিগত প্রতিবন্ধকতা অপারেটরদের ব্যয় বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করেছে। 

গ্রামাঞ্চলে বেশি খরচ, কম সেবা : আমদানি, অনুমোদন ও কর কাঠামোর অদক্ষতার কারণে ডেটা সেবার প্রকৃত ব্যয় বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের তুলনায় কম মানের সেবা পেলেও এসব অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের অনেক ক্ষেত্রে বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ডিজিটাল বৈষম্য আরও বাড়াচ্ছে। 

অকার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা : ভোক্তা অভিযোগ ব্যবস্থায় গুরুতর দুর্বলতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে শ্বেতপত্রে। বিলম্বিত বা অমীমাংসিত অভিযোগ জনঅসন্তোষ বাড়াচ্ছে। এর ফলে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ব্যর্থতার সরাসরি বোঝা সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হচ্ছে। 

প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকার অস্পষ্টতা : ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি, জবাবদিহির ঘাটতি এবং নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সংস্কারের সুপারিশ : টাস্কফোর্স প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন, একটি স্বাধীন আপিল ব্যবস্থা গঠন এবং গবেষণা ও নীতিগত বিশ্লেষণের জন্য পৃথক ইউনিট তৈরির সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রকাশ্য কর্মসম্পাদন সূচক ও শক্তিশালী প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

করনীতির সমালোচনা : বিদ্যমান কর কাঠামোকে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সবার জন্য সাশ্রয়ী ও উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করতে হলে টেলিযোগাযোগ খাতকে শুধু রাজস্বের উৎস হিসেবে না দেখে সেই লক্ষ্য অনুযায়ী করনীতি পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানানো হয়েছে শ্বেতপত্রে। 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়