মনিরুল ইসলাম: প্রগতিশীল সাংবাদিকতার উত্থান ঠেকাতে একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক মানিক সাহাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করেন বাংলদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেছেন, মানিক সাহা খুলনার প্রতিষ্ঠিত ও দেশ-বিদেশে বিশেষ পরিচিত সাংবাদিক ও গণআন্দোলনের নেতা ছিলেন। ব্যক্তি ও গোষ্ঠির স্বার্থে তাকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি। ওই বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্বাধীনতা বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি জড়িত ছিলো।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় এ সব কথা বলেন তিনি। সাংবাদিক মানিক সাহার সুহৃদের পক্ষ থেকে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক আশীষ কুমার দে। সভায় বক্তৃতা করেন হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াৎ, সিনিয়র সাংবাদিক সি কে সরকার, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম সবুজ, ডিইউজের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিলা পারভীন প্রমূখ।
সভায় সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মানিক সাহাকে হত্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মুক্তির সংগ্রামকে বাধাগ্রস্থ করতে চায়। শুধু খুলনা নয়, সারাদেশে একের পর এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনায় স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়েছে।
অথচ এ সকল হত্যা ও নির্যাতনের পরিকল্পনাকারী, পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতাসহ অন্যান্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলে নিজেদের গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি অন্তর্বর্তী সরকার। গণমানুষের পক্ষের সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিতে ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিক মানিক সাহা খুনের মামলার পুনঃতদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বক্তারা বলেন, মানিক সাহা নিজেও জানতেন, তিনি যেভাবে সত্যের সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তার উপর আক্রমণ আসবে। তবে তিনি কখনোই মৃত্যুর ভয়ে ভীত ছিলেন না। যারা মানিক সাহার মতো সাংবাদিকদের হত্যা করে তারা সত্যের শত্রু।
তারা আরো বলেন, সাংবাদিক হত্যার কোন বিচার হবে না, এমনই অলিখিত নিয়ম চালু হয়েছে। শুধু মানিক সাহা নয়, সাগর-রুনিসহ অন্যান্য সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার হয়নি। এখনো সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। যে কারণে সুস্থ্য সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
সকল সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। সভার শুরুতে মানিক সাহার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় মানিক সাহা নিহত হন। সমাবেশের শুরুতে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।