শিরোনাম
◈ সৌদিতে কোরবানি ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা ◈ শ্রম আইন লঙ্ঘনের সাজাপ্রাপ্ত মামলায় স্থায়ী জামিন চাইবেন ড. ইউনূস ◈ ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে কর্মজীবী মানুষ ◈ স্বাস্থ্যখাতে নতুন অশনি সংকেত অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স: স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ◈ কৃষি খাতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন  বছরে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ◈ বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশ: এডিবি ◈ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বিজিপির ১৪ সদস্য ◈ সিলেটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ৭০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ◈ ৬০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলার তালিকা প্রকাশ করুন: মির্জা ফখরুলকে ওবায়দুল কাদের ◈ পাল্টা হামলার বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি 

প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০৯:২০ রাত
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০২:৩৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মানহীন বইয়ের হিড়িক, মেলা দুই দিন বাড়ানোর দাবি

শিমুল চৌধুরী ধ্রুব: [২] পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৪। মেলা শুরুর পর থেকেই পাঠকরা পাচ্ছে নিত্যনতুন বইয়ের স্বাদ। সোমবারও নতুন বই এসেছে ১১৫টি, ১৯ দিনে এ সংখ্যা দুই হাজারের কাছাকাছি। মেলায় এবার শুরু থেকেই লেখক, পাঠক ও প্রকাশকের সমাগম চোখে পড়ার মতো।

[৩] কিন্তু মেলায় প্রকাশিত বইয়ের মান নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। নিন্দার মুখোমুখিও হচ্ছে অনেক বই ও লেখক। তাই বই ও মেলার মান বাঁচাতে তদারকি টিম গঠনের চিন্তা করছে বাংলা একাডেমি। যদিও এমন চিন্তার কথা প্রায় প্রতি বছরই বলে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু বইয়ের মানের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ তেমনটা এখনো দেখা যায়নি।

[৪] সৃজনশীল ও মননশীল লেখক-পাঠকের মিলনমেলা ভাবা হয় বইমেলাকে। কিন্তু সেই ঐতিহ্য কি হুমকির মুখে? মানহীন বইয়ের হিড়িক এমনটাই ভাবাচ্ছে পাঠকদের।

[৫] বাংলা একাডেমির হিসাবে, ২০২০ সালে প্রায় পাঁচ হাজার বই প্রকাশ হয়। কিন্তু মানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৭৫১টি বা ১৫ শতাংশ। ২০২২ সালে মানসম্পন্ন বই ছিল ২৬ শতাংশ। পাঠকরা বলছেন, বই লেখার পর যদি কোনো সম্পাদনার ধাপ না থাকে, তাহলে প্রকাশকরা মানহীন বই প্রকাশ হতেই থাকবে। 

[৬] মানহীন বই প্রকাশকদের হাত দিয়ে প্রকাশ হলেও এই দায় তারা নিতে নারাজ। উল্টো পাঠকের রুচির দোহাই দিয়ে দোষ চাপাচ্ছেন লেখকদের উপর। দু-একজন অবশ্য উল্টোও বলছেন। নালন্দা প্রকাশনীর প্রকাশক রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘প্রতিটি প্রকাশনীর একটি এডিটোরিয়াল বোর্ড থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। তারা লেখকের কাছ থেকে আসা কপি ভালোভাবে সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করবেন। এতে মানহীন বই প্রকাশের সংখ্যা অনেকটা কমে যাবে।’

[৭] নওরোজ কিতাবিস্থান প্রকাশনীর প্রকাশক চন্দন চৌধুরী বলেন, ‘মানসম্মত পাণ্ডুলিপির অভাব রয়েছে। সম্পাদনাও দুর্বল। আমি এমন বই ছাপিনা যার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ছাড়া পাঠকরা যদি মানহীন বই না কিনে ভালো মানের বই কেনেন, তাহলে লেখকরা উৎসাহিত হবেন।’

[৮] এ প্রসঙ্গে লেখক ও প্রকাশক শতাব্দী ভব বলেন, ‘বইমেলার ক্ষতি করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সস্তা জনপ্রিয়তা। এ ছাড়া অনেক প্রকাশকের ব্যবসায়ী মনোভাবও এর জন্য দায়ী। তাছাড়া যারা এসব মানহীন বই প্রকাশের সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে পরবর্তী বইমেলায় স্টল না দিলেই এরা সচেতন হবে।

[৯] বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা জানান, এত কম সময়ের মধ্যে বাংলা একাডেমির পক্ষে এত বইয়ের মান যাচাই প্রায় অসম্ভব। এ কারণে সারা বছরই একটা বোর্ডকে যদি বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া যায়, এতে মানহীন বইয়ের সংখ্যা কমে যাবে। এটা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

[১০] এদিকে এবারের বইমেলা দুই দিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। এমন প্রস্তাব সংযুক্ত বাংলা একাডেমি বরাবর চিঠিতে বলা হয়েছে, বইমেলার শুরুর প্রথম তিন দিন প্রাঙ্গণের প্রস্তুতি ও বৃষ্টিজনিত সমস্যার কারণে যথাযথভাবে বিক্রি শুরু করা যায়নি। এতে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ কারণে আগামী ১ ও ২ মার্চ শুক্র ও শনিবার হওয়ায় এই দুই দিন মেলার সময় বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়। সম্পাদনা: কামরুজ্জামান

এসসিডি/কে/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়