শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৯ মে, ২০২৩, ০২:০৭ দুপুর
আপডেট : ১০ মে, ২০২৩, ০৩:১১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিমতলার শ্মশানে সমরেশ মজুমদারের শেষকৃত্য সম্পন্ন 

সমরেশ মজুমদার

জাফর খান: প্রখ্যাত উপন্যাসিক  সমরেশ মজুমদারের মরদেহ মঙ্গলবার সকাল পৌনে নয়টায় হাসপাতাল থেকে কলকাতার শ্যামপুকুর স্ট্রিটের বাড়িতে  আনা হয়। পরে নেওয়া হয় উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর। আর এরপরেই সাহিত্যের এই মহীরুহের শেওকৃত্য সম্পন্ন হয় কলকাতা শহরের এই শ্মশানটিতে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে  তার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতার সময় বহু ভক্ত- অনুরাগী  অংশ নেন। তবে এই আয়োজনে সরকারি কোনো সহযোগিত নেওয়া হয়নি। আনন্দবাজার, সমকাল

এসময় শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের ডেপুটি হাই-কমিশনার ও সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের পুত্র আন্দালিব ইলিয়াস, ফার্ষ্ট প্রেস সেক্রেটারি রঞ্জন সেন, কলকাতার মহানাগরিক মেয়র ও পশ্চিমবঙ্গের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য, প্রদেশ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল, বামফ্রন্ট সেক্রেটারি বিমান বসু, সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম,পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা।

মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, যারা সৃষ্টি করেন তারা কখনও মারা যান না। তার লেখা, সৃষ্টি, রচনার মধ্যে দিয়ে তিনি সারাজীবন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন। বাংলার পাশাপাশি সমস্ত পাঠক ও মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছেন বলেই বাংলাদেশ, ঢাকা, সুদূর লন্ডন থেকেও  শোকবার্তা আসছে। 

মন্ত্রী শশী পাজা বলেন, সৃষ্টিটা থেকে যাবে আবার স্রষ্টাকেও বাঁচিয়ে রাখা যায় তার তা সৃষ্টির রচনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে। এত বড় মাপের লেখক হইয়েও সাদাসিধে মানুষ ছিলেন তিনি। 

আন্দালিব ইলিয়াস বলেন, সমরেশ মজুমদার একজন কিংবদন্তি উপন্যাসিক ছিলেন। তার প্রয়াণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের সকল জনগণ এবং উপ দূতাবাসের তরফ থেকে আমি এখানে এসে শোক প্রকাশ করছি। 

এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলোয় সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় মারা যান সমরেশ মজুমদার। বেশ কিছু দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। গত ২৫ এপ্রিল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ভর্তি করানো হয়েছিল সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারজয়ী সাহিত্যিককে। 

জানা যায়, তিনি সিওপিডির সমস্যায় ভুগছিলেন।

১৯৬৭ সালে দেশ পত্রিকায় 'দৌড়' প্রকাশিত হওয়ার পর ‘কালবেলা’, ‘কালপুরুষ’, ‘উত্তরাধিকার’ লিখেন সমরেশ মজুমদার। এ ছাড়া ‘সাতকাহন’, ‘গর্ভধারিণী’, ‘অর্জুন’, ‘মেজরের অ্যাডভেঞ্চার’সহ অনেক পাঠকপ্রিয় উপন্যাস লিখে পেয়েছেন অনেক সম্মাননা। চিত্রনাট্যকার হিসেবেও বিএফজেএ, দিশারী ও চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পদকও রয়েছে তার ঝুলিতে। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘তেরো পার্বণ’, ‘গর্ভধারিণী’, ‘সাতকাহন’। এবিপি লাইভ

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৮ সালে সমরেশ মজুমদারকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রদান করে। এছাড়া সাহিত্য আকাদেমি অ্যাওয়ার্ড, আনন্দ পুরস্কার, বিএফজেএ পুরস্কার, ২০১৮ সালে এবিপি আনন্দর ‘সেরা বাঙালি’ সম্মান, ১৯৮৪ সালে ‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, ১৯৮২ সালে আনন্দ পুরস্কার সহ অনেক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন তিনি।

১৯৪৪ সালের ১০ মার্চ, উত্তরবঙ্গের গয়েরকাটায় জলপাইগুড়ির চা বাগান ঘেরা ডুয়ার্সে সমরেশ মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন। তার স্কুলজীবন কেটেছে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে। পরে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

সাহিত্যিকের কন্যা দোয়েল মজুমদার জানিয়েছেন, আচার-অনুষ্ঠানে বিশ্বাস ছিল না তার। তাই আড়ম্বর কোনও আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।

জেকে/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়