চিনির পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে মধুর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা প্রায়ই চিনি বাদ দিয়ে মধু খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন। ওজন কমানোর জন্য অনেকেই সকালে হালকা গরম পানির সঙ্গে লেবু ও মধু মিশিয়ে পান করেন। শিশুদেরও নিয়মিত মধু খাওয়ানো হয়।
তবে বাজারে বিক্রি হওয়া সব মধু আসল নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক সময় মধুর সঙ্গে কর্ন সিরাপ, বিটের রস, চিনি কিংবা সুজি মিশিয়ে ঘনত্ব বাড়িয়ে আসল মধুর মতো তৈরি করা হয়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড ও বিভিন্ন খনিজ লবণও মেশানো হয়। তাই মধু কেনার আগে সেটি খাঁটি কি না যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
চলুন জেনে নেওয়া যাক খাঁটি মধু চেনার কিছু উপায়-
১. এক গ্লাস পানিতে এক চামচ মধু দিন। খাঁটি মধু ঘন, তা সহজে পানিতে মিশে যাবে না। গ্লাসের নিচে জমাট বেঁধে থাকবে। যদি মধু পানিতে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির রং ঘোলাটে হতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে চিনি বা সিরাপ মেশানো আছে।
২. খাঁটি মধুর ঘনত্ব অনেক বেশি হয়। চামচ দিয়ে তুললে থকথকে হয়ে চামচে লেগে থাকবে। আঙুলের ডগায় সামান্য মধু নিন। খাঁটি মধু দলা বা পিণ্ডের মতো হয়ে থাকবে, গড়িয়ে পড়বে না।
৩. একটি টিস্যু পেপারের উপরে কয়েক ফোঁটা মধু দিন। খাঁটি মধু পানি শোষণ করে না। তাই সেটি পেপারের উপরেই লেগে থাকবে। যদি দেখেন মধু দেওয়ার পরে পেপারটি ভিজে যাচ্ছে ও মধু নিচে গড়িয়ে পড়ছে, তাহলে বুঝতে হবে তাতে ভেজাল মেশানো আছে।
৪. এক চামচ মধু এবং সামান্য পানি মিশিয়ে তাতে ২-৩ ফোঁটা ভিনেগার দিন। যদি মিশ্রণটি ফেনা তৈরি করে, তবে বুঝতে হবে মধুতে চক বা জিপসাম মেশানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৫. একটি ছোট কাঁচের পাত্রে সমপরিমাণ মধু এবং মিথাইলেটেড স্পিরিট বা অ্যালকোহল মিশিয়ে দেখতে পারেন। যদি মধু খাঁটি হয়, তবে এটি পাত্রের নিচে জমাট বেঁধে পড়ে থাকবে। যদি মধুতে ভেজাল থাকে, তবে পুরো মিশ্রণটি সাদা বা ঘোলাটে রঙের হয়ে যাবে।