সন্তান অসুস্থ হলে কর্মরত বাবা–মায়েদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। অসুস্থ শিশুকে বাড়িতে রেখে কাজে যেতে হয়, নিজের হাতে ঠিকমতো যত্ন নেওয়ার সুযোগও থাকে না। তাই রোগ হওয়ার পর নয়, আগেভাগেই সতর্ক হওয়াই সবচেয়ে ভালো।
শীত ও শীতের শেষে ছোটদের জ্বর, সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত নানা অসুখ লেগেই থাকে। এখন মাঘ মাস, অল্পদিনের মধ্যেই তাপমাত্রা বাড়বে, আর তার সঙ্গেই রোগের প্রকোপও বাড়ার আশঙ্কা। তাই এই সময় থেকেই সন্তানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খুব জটিল কিছু করার প্রয়োজন নেই। সন্তানের দৈনন্দিন খাবারে কয়েকটি উপকারী মশলা যোগ করলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
১. রসুন
রসুন খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করে এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবাণুকে শরীরে ঢুকতেই বাধা দেয়।
কীভাবে খাওয়াবেন: স্যুপ, মাছ বা মাংসের ঝোলে ফোড়ন হিসেবে ২–৩ কোয়া রসুন কুচি দিতে পারেন। চাইলে অল্প ঘিতে রসুন ভেজে ভাতের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়ানো যায়।
২. আদা
আদায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর আদা সেই কাজটি ভালোভাবেই করে।
কীভাবে খাওয়াবেন: ভাত, নুডলস, স্যুপ বা তরকারিতে আদা কুচি যোগ করতে পারেন। এতে খাবারের স্বাদ বাড়বে, পাশাপাশি আদার পুষ্টিও শরীরে যাবে।
৩. ছোট এলাচ
এলাচে আছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এটি রক্ত পরিশোধন এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক, যা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কীভাবে খাওয়াবেন: এলাচ থেঁতো বা গুঁড়া করে গরম দুধে মিশিয়ে দিতে পারেন। স্বাদ বাড়াতে এক চামচ মধুও যোগ করা যেতে পারে। এছাড়া তরকারিতেও এলাচ ব্যবহার করা যায়।
দৈনন্দিন খাবারে এই মশলাগুলো পরিমিতভাবে ব্যবহার করলে সন্তানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়বে এবং অসুখের ঝুঁকিও অনেকটাই কমবে। সূত্র: যুগান্তর