অনেকেই অজান্তেই নাকের বদলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না পেলেও, চিকিৎসকদের মতে এটি শরীরের জন্য গুরুতর নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাউথ ব্রিদিং বা মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকলে তা যত দ্রুত সম্ভব পরিবর্তন করা জরুরি। প্রয়োজনে জোর করে হলেও অভ্যাস বদলাতে হবে। না হলে দাঁত-মাড়ি থেকে শুরু করে ঘুমের মান, এমনকি শ্বাসযন্ত্রেও প্রভাব পড়তে পারে।
এতে কী কী সমস্যা হতে পারে? বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো—
দাঁত ও মাড়ির সমস্যা
মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে লালা দ্রুত শুকিয়ে যায়। লালা মুখের ভেতরের অংশকে জীবাণুমুক্ত রাখে এবং অ্যাসিডের ক্ষতি থেকে দাঁতকে রক্ষা করে। লালা কমে গেলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ ও মুখে দুর্গন্ধের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ঘুমের মান খারাপ হওয়া
মাউথ ব্রিদিংয়ের কারণে ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ঘুমের ব্যাধি এবং অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে সারা দিন ক্লান্তি ও অবসন্নতা অনুভূত হয়।
মুখের গঠনে পরিবর্তন
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রভাব বেশি দেখা যায়। দীর্ঘমেয়াদে মুখের পেশি ও হাড়ের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। মুখ সরু ও লম্বাটে হয়ে যেতে পারে। দাঁতের বিন্যাসেও সমস্যা দেখা দেয়—অনেক শিশুর ক্ষেত্রে উপরের দাঁত সামনে বেরিয়ে আসে।
শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি
নাক শ্বাস নেওয়া বাতাসকে পরিশোধিত ও আর্দ্র করে শরীরে পাঠায়। কিন্তু মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে ঠান্ডা ও অপরিশোধিত বাতাস সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে। এর ফলে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ফ্যারেনজাইটিসের সমস্যা
যাঁদের ফ্যারেনজাইটিস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে ঠান্ডা ও ধুলাবালিযুক্ত বাতাস সহজেই গলায় প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এতে গলা জ্বালা, কাশি এমনকি ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।
সূত্র: জনকণ্ঠ