শিরোনাম
◈ তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা ফারুকের ইন্তেকাল ◈ আরও ১৭১ খেলোয়াড় ক্রীড়া কার্ড পেলেন ◈ ওয়াশিংটনের দাবিকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা, আলোচনায় না যাওয়ার ঘোষণা ইরানের ◈ যে জেলায় আগের দামেই মিলছে জ্বালানি তেল! ◈ ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করায় গ্রেফতারের পর কারাগারে, সংসদে হাসনাত ও চিফ হুইপের মধ্যে বিতর্ক ◈ জোট শরিকরা সংরক্ষিত নারী আসনে কে কতটি পেল জামায়াত থেকে ◈ বিদ্যুৎ খাতে ৫২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, ঋণের বোঝা দেড় লাখ কোটি: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ◈ বাসে ৬৪ শতাংশ, লঞ্চ ভাড়া দেড়গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন দল ◈ সোমবার বগুড়ায় যাত্রা, ‘ই-বেইল বন্ড’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:০৯ সকাল
আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইসলামে জিলকদ মাসের গুরুত্ব, আমল ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য

হারাম বা সম্মানিত মাস জিলকদ। আরবি বর্ষপঞ্জির ১১তম মাস এটি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা যে চারটি মাসকে ‘মর্যাদাপূর্ণ’ (আশহুরুল হুরুম) বলে ঘোষণা করেছেন, জিলকদ তার অন্যতম। এ মাসে সব ধরনের রক্তপাত ও আক্রমণ নিষিদ্ধ। জাহিলিয়াতের যুগেও আরবে এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল। বর্তমানে মুমিনদের জন্য এটি হজ ও কুরবানির প্রস্তুতির মাস।

জিলকদ মাসের নামকরণের কারণ

আরবি জুলকাআদাহ শব্দ থেকে জিলকদ শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হলো—বসা, বিশ্রাম নেওয়া বা স্থিতি। প্রাচীন আরবে মানুষ জিলহজ মাসে হজ পালনের জন্য শাওয়াল মাসে ব্যবসা-বাণিজ্যের পর এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বিরত থেকে বিশ্রাম নিত। যেহেতু তারা এই মাসে ঘরে বসে থাকত এবং কোনো দ্বন্দ্বে জড়াত না, তাই এর নাম রাখা হয় জিলকদ বা বসে থাকার মাস।

জিলকদ মাসের ৩ বৈশিষ্ট্য

১. হজরত মুসা (আ.)-এর তুর পাহাড়ে অবস্থান— তাওরাত লাভের আগে হজরত মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে যে ৪০ দিন অবস্থান করেছিলেন, অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে তার প্রথম ৩০ দিন ছিল এই জিলকদ মাস।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওমরাহ পালন— নবী করিম (সা.) তাঁর জীবনে মোট চারটি ওমরাহ করেছেন, যার মধ্যে তিনটি ছিল জিলকদ মাসে। (মুসলিম ১২৫৩)

৩. হজের প্রস্তুতির মাস— জিলকদ হলো হজের দ্বিতীয় মাস। যারা হজে যাওয়ার নিয়ত করেছেন, তাদের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত সময় এটি।

জিলকদ মাসের আমল

জিলকদ মাসে বিশেষ কোনো ফরজ ইবাদত না থাকলেও অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে মুমিনরা নিজেদের আমলনামা ভারী করতে পারেন। যেমন আইয়ামে বিজের রোজা (চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) এবং প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই আমল জিলকদ মাসেও করা যায়।

জিলকদ মাসে তওবাহ

হজের সফরের আগে নিজেকে গুনাহমুক্ত করতে অধিক পরিমাণে তওবা করা যেতে পারে। আর যারা হজে যাচ্ছেন না, তারা কুরবানির পশু নির্বাচন এবং এর বিধিবিধান শেখার মাধ্যমে এই মাস অতিবাহিত করতে পারেন।

জিলকদের ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনা

জিলকদ মাসে ইসলামের ইতিহাসে বেশ কিছু মোড় ঘোরানো ঘটনা রয়েছে—

১. জিলকদ মাসে যে কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহকেই নিষিদ্ধ করেছে ইসলাম।

২. এ জিলকদ মাসের ১ তারিখ নবীজি (সা.) হজরত জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-কে বিয়ে করেন।

৩. জিলকদ মাসের ১ তারিখ হজরত আলি ও ফাতেমার (রা.) বিবাহ হয়।

৪. এ জিলকদ মাসেই রাসুলুল্লাহ (সা.) দেড় হাজার সাহাবিকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে রওনা হন।

৫. এ মাসেই বাইয়াতে রেদওয়ান অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

৬. এ জিলকদ মাসের ১৬ তারিখ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে মক্কার কাফেরদের ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি সম্পন্ন হয়।

৭. ১৭ জিলকদ : খন্দকের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।

৮. ২৫ জিলকদ— হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম। পবিত্র কাবা শরিফ পৃথিবীতে প্রথম ভিত্তি স্থাপিত হয় বলে জানা যায়।

৯. ১০ম হিজরির এ জিলকদ মাসের ২৪ তারিখে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের উদ্দেশ্যে মদিনা থেকে মক্কার পথে রওনা হন।

১০. ২৭ জিলকদ হজরত ওমর (রা.) আহত হন। এই ২৭ জিলকদ উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ দুই মুহাদ্দিস মুহাদ্দিস সৈয়দ আহমদ শহিদ ও ইসমাঈল শহিদ বালাকোটের যুদ্ধের ময়দানে শাহাদাতবরণ করেন। কেউ কেউ ২৪ জিলকদও বলে থাকেন।

১১. ৭ম হিজরির জিলকদ মাসে নবীজি (সা.) প্রথম ওমরাহ পালন করেছিলেন।

১২. এ মাসেই নবীজি (সা.) তার জীবনের সব ওমরাহ পালন করেন।

জিলকদ ইসলামের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক স্মরণীয়, তাৎপর্য ও আমলের মাস। যা মুসলিম উম্মাহকে ত্যাগের ইবাদত হজ ও কুরবানির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই মাসের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে নিজেদের আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি মুসলমানের একান্ত কর্তব্য।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়