শিরোনাম
◈ ফিফার কা‌ছে তেহরা‌নের আহ্বান, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেয়া হোক  ◈ যুদ্ধক্ষেত্রে না গিয়েও ইরানকে যেভাবে সাহায্য করছে চীন ও রাশিয়া! ◈ চসিক নির্বাচন: মেয়র পদে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করাতে চায় জামায়াত! ◈ রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম, সংশোধনের উদ্যোগ সরকারের ◈ সংসদের সামনের দিনগুলো কেমন হবে ◈ অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার ◈ ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত, চাপ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ◈ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মালদ্বীপে ৫ বাংলাদেশি নিহত ◈ ক্রিকেটের মতো সংসদেও নিরপেক্ষ আম্পায়ারিং করব: স্পিকার ◈ আবারও দুবাই শহরের কেন্দ্রীয় অংশে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৪০ দুপুর
আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে

পার্সুডে-ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম বার্তা দিয়েছেন। তিনি তাঁর প্রথম বার্তায় ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর শাহাদাতে সবাইকে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

এরপর তিনি জনগণের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, যদি আপনাদের শক্তি মাঠে উপস্থিত না থাকে, তবে নেতৃত্ব কিংবা রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই, যাদের প্রকৃত দায়িত্ব জনগণের সেবা করা, কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে না।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে বলেন- আমি এই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করার পরামর্শ দিচ্ছি। এই অঞ্চলে অবস্থিত শত্রুদের ঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে।

আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনেয়ী বলেন, শত্রুদের কাছে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে। তারা যদি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে আমাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের সম্পদ থেকে আমরাই সেই ক্ষতিপূরণ করে নেব। আর যদি সেটাও সম্ভব না হয় তাহলে আমাদের যতটুকু ক্ষতি করা হয়েছে তাদের সেই পরিমাণ ক্ষতি আমরা করব।

নতুন সর্বোচ্চ নেতার বার্তার পুরো অংশ এখানে তুলে ধরা হলো:
 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

(পরম করুণাময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে)

مَا نَنسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِّنْهَا أَوْ مِثْلِهَا

(আমি কোনো নিদর্শন রহিত বা বিস্মৃত করলে তার থেকে উত্তম কিংবা তারই মতো নিদর্শন নিয়ে আসি।

সূরা বাকারা, আয়াত ১০৬)

اَلسَّلامُ‌عَلَیکَ یا داعِیَ‌اللهِ وَ رَبّانِیَّ آیاتِهِ، اَلسَّلامُ‌عَلَیکَ یا بابَ‌اللهِ وَ دَیّانَ دینِهِ، اَلسَّلامُ‌عَلیکَ یا خَلیفَةَ‌اللهِ و ناصِرَ حَقِّهِ، اَلسَّلامُ‌عَلیکَ یا حُجَّةَ‌اللهِ وَ دَلیلَ اِرادَتِه؛ اَلسَّلامُ‌عَلیکَ اَیُّهَا المُقَدَّمُ المَأمُول؛ اَلسَّلامُ‌عَلیکَ بِجَوامِعِ السَّلام؛ اَلسّلامُ‌عَلیکَ یا مَولایَ صاحِبَ الزَّمان.

(হে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং তাঁর আয়াতসমূহের ব্যাখ্যাকারী, আপনার প্রতি সালাম। হে আল্লাহর দ্বার এবং তাঁর দ্বীনের বিচারক, আপনার প্রতি সালাম। হে আল্লাহর প্রতিনিধি এবং তাঁর সত্যের সমর্থক, আপনার প্রতি সালাম। হে আল্লাহর প্রমাণ এবং তাঁর ইচ্ছার পথপ্রদর্শক, আপনার প্রতি সালাম। হে প্রতীক্ষিত নেতা, আপনার প্রতি সালাম। আপনার প্রতি সর্বাঙ্গীণ শান্তি বর্ষিত হোক। হে আমার মওলা, হে যুগের অধিপতি, আপনার প্রতি সালাম।)

আমি প্রথমেই ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতা, প্রজ্ঞাবান ও প্রিয় খামেনেয়ীর বেদনাদায়ক শাহাদাতের জন্য আমি আমার নেতার (ইমাম মাহদি) প্রতি শোক প্রকাশ করছি। আল্লাহ তাঁর আবির্ভাব ত্বরান্বিত করুন। আমি তাঁর কাছে অনুরোধ করছি তিনি যেন ইরানের মহান জাতি, সমগ্র মুসলিম উম্মাহ, ইসলামের ও বিপ্লবের সকল সেবক, আত্মোৎসর্গকারী যোদ্ধা, ইসলামী আন্দোলনের শহীদদের পরিবার বিশেষ করে সাম্প্রতিক যুদ্ধে শহীদদের উত্তরসূরিদের এবং আমার জন্যও কল্যাণের দোয়া করেন।

আমার বক্তব্যের দ্বিতীয় অংশ ইরানের মহান জাতির উদ্দেশে। প্রথমেই সম্মানিত বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভোট সম্পর্কে আমার অবস্থান সংক্ষেপে জানাতে চাই। আমি, আপনাদের সেবক সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী, আপনাদের মতোই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টেলিভিশনের মাধ্যমে এই ভোটের ফলাফল জানতে পেরেছি। আমার জন্য সেই স্থানে বসা, যেখানে দুই মহান নেতা- মহান ইমাম খোমেনী এবং শহীদ খামেনেয়ী ছিলেন, অত্যন্ত কঠিন। কারণ এই আসন সেই ব্যক্তির স্মৃতিতে উজ্জ্বল, যিনি আল্লাহর পথে ষাট বছরেরও বেশি সময় সংগ্রাম করে, সব ধরনের ভোগ-বিলাস ও স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে এক উজ্জ্বল রত্নে পরিণত হয়েছেন, যিনি শুধু বর্তমান যুগেই নয়, বরং এই দেশের শাসকদের ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

তাঁর জীবন এবং তাঁর মৃত্যুর ধরন উভয়ই সত্যের ওপর নির্ভরতার গৌরব ও মর্যাদায় আলোকিত ছিল। আমি তাঁর শাহাদাতের পর তাঁর দেহ মোবারক দেখার সৌভাগ্য লাভ করেছি। যা দেখেছি তা ছিল দৃঢ়তার এক পর্বত। আর শুনেছি তাঁর সুস্থ হাতটি তখনও মুষ্টিবদ্ধ ছিল। তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক সম্পর্কে যারা অবগত, তাদের এ বিষয়ে বহু দিন ধরে বলার থাকবে। এই প্রসঙ্গে আমি সংক্ষেপে এতটুকুই বলছি এবং বিস্তারিত অন্য সময়ের জন্য রেখে দিচ্ছি। এ কারণেই এমন একজন ব্যক্তির পরে নেতৃত্বের আসনে বসা কঠিন। এই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব কেবল মহান আল্লাহর সাহায্য এবং আপনাদের অর্থাৎ জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে।

এরপর আমি এমন একটি বিষয়ে জোর দিতে চাই, যা আমার বক্তব্যের মূল বিষয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। শহীদ নেতা এবং তাঁর মহান পূর্বসূরির অন্যতম শিল্প ছিল জনগণকে সকল ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করা, সব সময় তাদের সচেতন ও অবহিত রাখা এবং বাস্তবে তাদের শক্তির উপর নির্ভর করা। এইভাবে তারা জনগণের প্রকৃত ভূমিকা বাস্তবায়িত করেছিলেন এবং এ বিষয়ে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। এর স্পষ্ট প্রভাব আমরা এই কয়েক দিনে দেখেছি—যখন দেশ নেতা এবং সর্বাধিনায়ক ছাড়াই ছিল।

সাম্প্রতিক ঘটনায় ইরানের মহান জাতির প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা, সাহস এবং উপস্থিতি বন্ধুদের প্রশংসিত করেছে এবং শত্রুদের বিস্মিত করেছে। প্রকৃতপক্ষে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আপনারাই—জনগণ। আপনারাই দেশের শক্তিকে নিশ্চিত করেছেন।

এই লেখার শুরুতে যে কুরআনের আয়াতটি উল্লেখ করা হয়েছে তার অর্থ হলো: আল্লাহর কোনো নিদর্শনের সময় শেষ হয়ে গেলে বা তা বিস্মৃত হয়ে গেলে, আল্লাহ তার পরিবর্তে আরও উত্তম বা সমতুল্য কিছু প্রদান করেন। এই আয়াত উদ্ধৃত করার উদ্দেশ্য এই নয় যে, আমি শহীদ নেতার সমপর্যায়ের—বা তাঁর চেয়েও শ্রেষ্ঠ—কিছু। বরং এর উদ্দেশ্য হলো আপনাদের, প্রিয় জাতির, প্রকৃত ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। সেই মহান নিয়ামত (সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী) আমদের কাছ থেকে চলে গেলেও তার পরিবর্তে আবারও ইরানি জাতির আম্মারসুলভ উপস্থিতি এই ব্যবস্থাকে দান করা হয়েছে। জেনে রাখুন! যদি আপনাদের শক্তি মাঠে উপস্থিত না থাকে, তবে নেতৃত্ব বা জনগণের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানই কার্যকর হতে পারবে না। এই সত্যকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে কয়েকটি বিষয় জরুরি। প্রথমত, আল্লাহকে স্মরণ করা, তাঁর উপর নির্ভর করা এবং নিষ্পাপ ইমামদের পবিত্র নূরের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা। এটাই সব ধরনের বিজয় ও অগ্রগতির নিশ্চয়তা প্রদানকারী মহান রহস্য।

এটি এমন এক বড় জিনিস, যা আপনাদের আছে, কিন্তু শত্রুদের নেই। দ্বিতীয়ত, জাতির ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য। কঠিন সময়ে যে ঐক্য প্রকাশ পেয়েছে, তা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়। মতপার্থক্য উপেক্ষা করার মাধ্যমেই এই ঐক্য বজায় থাকবে। তৃতীয়ত, মাঠে কার্যকর উপস্থিতি বজায় রাখা। যেমন আপনারা এই যুদ্ধের দিন-রাতে

দেখিয়েছেন, তেমনই সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও আপনাদের ভূমিকা থাকতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- সামাজিক ঐক্য নষ্ট না করে প্রত্যেকে নিজের সঠিক ভূমিকা বুঝে তা পালন করা।

এই ভূমিকার কিছু অংশ স্মরণ করিয়ে দেওয়া নেতৃত্ব এবং কিছু কর্মকর্তার দায়িত্ব। এই কারণে আমি ১৪৪৭ হিজরির আল-কুদস দিবসের আয়োজনে উপস্থিত থাকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এটি অবশ্যই শত্রুর পরাজয়ের একটি প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে হবে। চতুর্থত, একজন আরেকজনকে সাহায্য ও সমর্থন করতে অবহেলা করবেন না। আলহামদুলিল্লাহ, এটি সবসময় ইরানিদের একটি বৈশিষ্ট্য। আশা করা যায়, এই বিশেষ সময়ে—যখন স্বাভাবিকভাবেই জাতির কিছু সদস্য অন্যদের তুলনায় বেশি কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন—এই গুণটি আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। এই প্রসঙ্গে আমি সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি— জাতির এই অংশ এবং জনসেবামূলক স্বেচ্ছাসেবী কাঠামোগুলোর প্রতি সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানে কোনো কার্পণ্য না করে। যদি এসব বিষয় অনুসরণ করা হয়, তবে ইরানের মহান জাতির সামনে গৌরব ও মহিমার দিনগুলোর পথ উন্মুক্ত হবে। ইনশাআল্লাহ এর নিকটতম উদাহরণ হবে চলমান যুদ্ধে শত্রুর ওপর বিজয়।

আমার বক্তব্যের তৃতীয় অংশ আমাদের সাহসী যোদ্ধাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন সংক্রান্ত। যে পরিস্থিতিতে আমাদের জাতি ও প্রিয় মাতৃভূমির ওপর উদ্ধত শক্তিগুলোর নেতারা অন্যায়ভাবে আক্রমণ চালিয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে তারা শক্ত আঘাতের মাধ্যমে শত্রুর পথ বন্ধ করেছে এবং তাদের আধিপত্যের ভ্রান্ত ধারণা ধ্বংস করেছে।

প্রিয় যোদ্ধা ভাইয়েরা! জনগণের আকাঙ্ক্ষা হলো কার্যকর ও শত্রুকে অনুতপ্তকারী প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখা নিশ্চিতভাবেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কৌশল একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপের উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকবে। এছাড়াও এমন নতুন ফ্রন্ট খোলার বিষয়েও গবেষণা হয়েছে, যেখানে শত্রুর অভিজ্ঞতা কম এবং তারা অত্যন্ত দুর্বল। যুদ্ধ চলতে থাকলে এবং জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে সেগুলো সক্রিয় করা হবে।

আমি প্রতিরোধ ফ্রন্টের যোদ্ধাদের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রতিরোধ ফ্রন্টের দেশগুলোকে আমরা আমাদের সর্বোত্তম বন্ধু মনে করি। প্রতিরোধের আন্দোলন ইসলামী বিপ্লবের মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ফ্রন্টের বিভিন্ন শক্তির পারস্পরিক সহযোগিতা জায়নবাদী ষড়যন্ত্র নির্মূলের পথকে সংক্ষিপ্ত করবে। আমরা দেখেছি সাহসী ইয়েমেন গাজায় নিপীড়িত জনগণের সমর্থনে থেমে যায়নি।

নিষ্ঠাবান হিজবুল্লাহ সকল বাধা সত্ত্বেও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পাশে দাঁড়িয়েছে। ইরাকের প্রতিরোধ আন্দোলনও সাহসের সাথে এই পথে অগ্রসর হয়েছে।

আমার বক্তব্যের চতুর্থ অংশ তাদের উদ্দেশে, যারা এই কয়েক দিনে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা প্রিয়জনকে শহীদ হিসেবে হারিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন অথবা যাদের বাড়ি ও কর্মস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথমত, আমি উচ্চ মর্যাদার শহীদদের পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আমি নিজেও এ অভিজ্ঞতার অংশীদার। আমার বাবা’র শাহাদাত তো সবারই জানা বিষয়। এছাড়াও আমি আমার প্রিয় ও বিশ্বস্ত স্ত্রীকে, আমার নিবেদিতপ্রাণ বোনকে—যিনি আমাদের বাবা-মা'র সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন—তার শিশুসন্তানকে এবং আমার আরেক বোনের স্বামী (দুলাভাই), যিনি একজন জ্ঞানী ও মর্যাদাবান ব্যক্তি ছিলেন, শহীদদের কাফেলায় সমর্পণ করেছি। কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করা সহজ হয় তখনই, যখন মানুষ আল্লাহর প্রতিশ্রুত মহান প্রতিদানের কথা স্মরণ করে। অতএব ধৈর্য ধরতে হবে এবং মহান আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমি সবাইকে আশ্বস্ত করছি, আমরা শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টি কখনো পরিত্যাগ করব না। এই প্রতিশোধ শুধু মহান বিপ্লবী নেতার শাহাদাতের সাথে সম্পর্কিত নয়। শত্রুর হাতে শহীদ হওয়া জাতির প্রত্যেক সদস্যের রক্তই প্রতিশোধের বিষয়। এই প্রতিশোধের একটি অংশ ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়টি অগ্রাধিকারে থাকবে। বিশেষ করে আমাদের শিশুদের রক্তের বিষয়ে আমরা আরও সংবেদনশীল থাকব। মিনাবের শাজারায়ে তায়্যেবা বিদ্যালয়-এ সংঘটিত অপরাধসহ অনুরূপ ঘটনাগুলো এই তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তৃতীয়ত, এই হামলায় আহতদের অবশ্যই বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে হবে। চতুর্থত, যতটা সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও সম্পত্তির আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই দুটি বিষয় বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব এবং তারা আমাকে এ বিষয়ে রিপোর্ট করবে।

এরপর আমি জোর দিয়ে বলতে চাই— আমরা শত্রুর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করব। যদি তারা অস্বীকার করে, তবে তাদের সম্পদ আমরা যতটা প্রয়োজন জব্দ করব। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে সমপরিমাণ সম্পদ ধ্বংস করা হবে।

আমার বক্তব্যের পঞ্চম অংশ অঞ্চলের কিছু দেশের নেতাদের উদ্দেশে। আমাদের ১৫টি প্রতিবেশী দেশের সাথে স্থল বা সমুদ্রসীমা রয়েছে এবং আমরা সবসময় তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। কিন্তু শত্রু ধীরে ধীরে তাদের কিছু দেশে সামরিক ও আর্থিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক আক্রমণে সেই ঘাঁটিগুলোর কিছু ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা আগে থেকেই সতর্ক করেছিলাম এবং কোনো দেশকে আক্রমণ না করে কেবল সেই ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করেছি। যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তবে আমরা একই পদক্ষেপ চালিয়ে যেতে বাধ্য হব। তবুও আমরা প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।

এসব দেশকে অবশ্যই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির উপর আক্রমণকারী এবং আমাদের জনগণের হত্যাকারীদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। আমি তাদের পরামর্শ দিচ্ছি—যত দ্রুত সম্ভব ওই ঘাঁটিগুলো বন্ধ করে দিন; কারণ এখন পর্যন্ত নিশ্চয়ই তারা বুঝে গেছে যে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমেরিকার দাবি একটি মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এতে তারা নিজেদের জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে—যারা সাধারণত অবিশ্বাসীদের শিবিরের সঙ্গে সহযোগিতা এবং তাদের অবমাননাকর আচরণে অসন্তুষ্ট। ফলে তাদের সম্পদ ও শক্তিও বৃদ্ধি পাবে। আবারও বলছি—ইসলামী প্রজাতন্ত্র কোনো প্রকার আধিপত্য বা উপনিবেশবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায় না; বরং সব প্রতিবেশীর সঙ্গে ঐক্য ও আন্তরিক পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

আমার বক্তব্যের ষষ্ঠ অংশ শহীদ নেতার উদ্দেশে। হে নেতা! আপনার প্রস্থান আমাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। আপনি সবসময় এই পরিণতির জন্য আগ্রহী ছিলেন। অবশেষে রমজানের দশম দিনের সকালে কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় আল্লাহ আপনাকে সেই মর্যাদা দান করেছেন। আপনি অনেক অত্যাচার ধৈর্যের সাথে সহ্য করেছেন। অনেকেই আপনার প্রকৃত মর্যাদা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেন নি; হয়তো বহু সময় লাগবে যতক্ষণ না নানা আবরণ ও প্রতিবন্ধকতা সরে যায় এবং আপনার ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক উন্মোচিত হবে।

আমরা আশা করি—আপনি এখন পবিত্র আলোকময় সত্তাসমূহ, সত্যবাদী, শহীদ ও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সান্নিধ্যে লাভের মর্যাদা লাভ করেছেন—সেখান থেকেও এই জাতি এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের সব জাতির অগ্রগতির কথা ভাবছেন এবং তাদের জন্য সুপারিশ করছেন, যেমন আপনি আপনার পার্থিব জীবনে করতেন। আমরা আপনার সঙ্গে অঙ্গীকার করছি—এই পতাকা, যা সত্যের শিবিরের প্রধান পতাকা, তাকে উচ্চে তুলে ধরতে এবং আপনার পবিত্র লক্ষ্য পূরণে সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাব।

আমার বক্তব্যের সপ্তম অংশে আমি সেই সকল সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা আমাকে সমর্থন করেছেন—যাদের মধ্যে রয়েছেন মহান মারজায়ে তাকলিদগণ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ জনগণ, যারা মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে শাসন ব্যবস্থার প্রতি পুনরায় আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আমি রাষ্ট্রের তিন বিভাগের কর্মকর্তাদের এবং অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদের প্রতিও তাদের বিচক্ষণ পদক্ষেপ ও কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আমি আশা করি, এই পবিত্র সময়ে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ কেবল ইরানি জাতির ওপরই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের মুসলমান ও নির্যাতিত মানুষের ওপর বর্ষিত হবে।

সবশেষে, আমি আমাদের নেতার (আল্লাহ ইমাম মাহদি (আ.)’র আবির্ভাব ত্বরান্বিত করুন) কাছে আবেদন করছি- তিনি যেন অবশিষ্ট কদরের রাতসমূহ এবং পবিত্র রমজান মাসের দিনগুলোতে মহান আল্লাহর দরবারে আমাদের জাতির জন্য শত্রুর ওপর নির্ণায়ক বিজয়, সম্মান, সমৃদ্ধি ও সুস্থতা এবং মরহুমদের জন্য উচ্চ মর্যাদা ও পরকালীন শান্তি প্রার্থনা করেন।

ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

(আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত আপনাদের উপর বর্ষিত হোক)

-সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী

১২ মার্চ, ২০২৬

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়