শিরোনাম
◈ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ থেকে ‘সাদা মহিষ’, নাম ও বানান বিতর্কে পদ হারালেন জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ◈ যশোরের রাজারহাটে চামড়ার দাম নিয়ে হতাশা, আবারও বাজার ধসের শঙ্কা ◈ বাংলাদেশসহ বিশ্বের আকাশে আজ রাতে দেখা মিলতে পারে বিরল ‘ব্লু মুন' ◈ ১০ মিটারের মধ্যে এলেই 'নীরব মৃত্যু' : ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে কোণঠাসা করছে ঘাতক রোবট ◈ শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন কিন্তু তিনি জমা দিয়ে যেতে পারেন নাই, ভ্যানিটি ব্যাগে করে নিয়ে গেছেন: মতিউর রহমান চৌধুরী ◈ চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন থেকে বঞ্চিত করে যেভাবে অভিবাসীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প ◈ নতুন জীবনের খোঁজে দেশ ছাড়ছেন আমেরিকানরা, পরামর্শ নিতে খরচ করছেন শত শত ডলার ◈ বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে অমিত শাহর ‘ব্লুপ্রিন্ট’, কী আছে পরিকল্পনায়? ◈ রোবটের শক্তিতে পাল্টে যাচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়া পড়েছে রক্ষণাত্মক অবস্থানে (ভিডিও) ◈ নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার: ডিএনএ পরীক্ষায় স্তন ক্যানসারের অনেক রোগীর আর লাগবে না কেমোথেরাপি

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২৩, ০৪:৫৮ দুপুর
আপডেট : ২৯ জুন, ২০২৩, ০৪:৫৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পশ্চিম বঙ্গের রাজনৈতিক জরুরি অবস্থার অবসান হোক

চঞ্চল পাল কলকাতা: ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে পশ্চিম বঙ্গের রাজনীতিতে সমস্ত জরুরী অবস্থার কথা কম বেশি শুনেছি বা জেনেছি। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছিল যেখানে পরপর চারবার জোট সরকার গঠিত হয়। এমনকি রাষ্ট্রপতি শাসনও পরিচালিত হয়েছিল।

১৯৬৭ সালে উত্তরবঙ্গে নকশালবাড়িতে সিপিআই(এম) নেতা চারু মজুমদার ও কানু সান্যালের নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলন গড়ে ওঠে। সরকার কড়া হাতে আন্দোলন দমন করে। ১৯৭০ ও ১৯৮০ এর দশকে ক্রমাগত মার্ক্সবাদী ও নকশালবাদী পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তৎকালীন সময়ে খুন জখমের কথা কিন্তু তেমন পাওয়া যায়নি। তারপর ১৯৭২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং বিজয়ী নেতা সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় মুখ্যমন্ত্রী হন। এই পর্যায়ে, ১৯৭৫ সালে, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশজুড়ে জরুরী অবস্থা জারি করেন। 

এই সময়কাল রাজ্যে পুলিশবাহিনীর সঙ্গে নকশালপন্থীদের চরম হিংসাত্মক লড়াই ও শেষ পর্যন্ত আন্দোলন দমনের জন্য চিহ্নিত হয়ে আছে।এরপর ১৯৭৯ সালের ১৬ই জানুয়ারি থেকে ১৬ই মে'র মধ্যবর্তী সময়ে মরিচঝাঁপি হত্যাকাণ্ড ঘটে, যাতে পূর্ব পাকিস্তান (অধুনা বাংলাদেশ) থেকে আগত শরণার্থীদের জোরপূর্বক উৎখাত করা হয়। ১৪,৩৮৮ সংখ্যক বাস্তুহারা (পশ্চিমবঙ্গে) পরিবারের মধ্যে ১০,২৬০ টি পরিবার তাদের পূর্ব আবাসে ফিরে যায় ... আর বাকি ৪,১২৮ টি পরিবার অতিক্রমণকালে অনাহারে, পথশ্রমে প্রাণ হারায়।

অনেককে কাশীপুর, কুমিরমারি ও মরিচঝাঁপিতে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে।২০০৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার ইন্দোনেশিয়ান সালিম গ্রুপের মাধ্যমে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ১০,০০০ একর (৪০ বর্গ কিমি) জুড়ে 'বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল'(SEZ) গঠনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ দমন করতে ৪,০০০ সশস্ত্র পুলিশের একটি বাহিনী প্রেরণ করে। পুলিশবাহিনীর গুলিতে অন্ততপক্ষে ১৪ জন নিহত হয় এবং ৭০ জন আহত হয়। বাকি সব ইতিহাস।

এবার আসল কথায় আসা যাক। এযাবৎকালে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে তা প্রায় ৯০% বিশেষ কিছু কারণ বা রাজনৈতিক কূটনীতির জন্য সংগঠিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ২০০ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত যে সমস্ত সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে তা বেশিরভাগই ভোটকেন্দ্রিক। ভোটের আগে বা পরে বিশেষ করে ভোট প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা এলাকা দখলের লড়াইয়ে বিভিন্নভাবে খুন হতে হয়েছে এবং হচ্ছে এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। কোথাও পড়ে থাকা বোমের আঘাতে মৃত্যু হচ্ছে কারোর আবার বোমা বাঁধতে গিয়ে। কওয়ে গুলি করে মারা হচ্ছে কেউ মরছে ঘটনায়। তাই কিন্তু ভোটের মুখে। কারণ মানুষ দিশেহারা। 

এমন পুলিশের অত্যাচার বা পুলিশের হাতে নিহত এমন খবর ও নতুন নয়। এখানেই শেষ নয় মৃত্যু হওয়ার পর মৃতদেহ নিয়ে চলে রাজনৈতিক খেলা। যে সমস্ত পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জড়িয়ে প্রাণহানি ঘটছে তাদের পরিবারকে নিয়ে কিন্তু কাউকেই তেমন ভাবতে দেখা যাচ্ছে না। তাই বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী মানুষকে সুস্থ স্বাভাবিক এবং রাজনৈতিক হত্যা লীলায় যুক্ত না করে বরং সব রাজনৈতিক দলের উচিত ক্ষমতার দখল না দেখিয়ে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ দূর করে তাদের ন্যায্য সমর্থন নিয়ে ভোটে জয়ী হওয়া।

প্রতিনিধি/এসএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়