শিরোনাম

প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর, ২০২২, ১০:২৫ রাত
আপডেট : ০১ অক্টোবর, ২০২২, ১০:২৫ রাত

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

রাশিয়ার পাইপলাইনে গ্যাস লিক, জলবায়ু ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

গ্যাস লিক এলাকা

মনজুর এ আজিজ: বাল্টিক সাগরের তল দিয়ে ইউরোপে চলে যাওয়া রাশিয়ার দুটি প্রধান গ্যাস পাইপলাইনে রহস্যময় লিকের কারণে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হচ্ছে। নর্ড স্ট্রিম-১ এবং নর্ড স্ট্রিম-২ নামের এই দুটি গ্যাস পাইপলাইন ইউরোপে জ্বালানি সংকটের প্রাণকেন্দ্রে থাকায় এটির লিকেজের কারণে মারাত্নক জলবায়ু ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও পরিস্থিতি কতদূর গড়াবে তা এখনও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। 

পাইপলাইন দুটিতে সদ্যই তিনটি লিক শনাক্ত হয়েছে। এই লিকের জন্য ইউরোপ এবং রাশিয়াও নাশকতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছে। পাইপলাইনের ফুটো দিয়ে গ্যাস বেরোনোর কারণে সমুদ্রের পানির ওপরে বুদবুদ উঠতে দেখা গেছে ডেনমার্কের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে।

রয়র্টাসের বরাতে ডেনমার্কের জ্বালানি সংস্থার প্রধান ক্রিসটোফার বলেছেন, পাইপলাইনের লিক খুবই বড় এবং নর্ড স্ট্রিম-২ দিয়ে গ্যাস বেরোনো বন্ধ হতে সম্ভবত এক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। দুটো পাইপলাইনের কোনটি দিয়েই এখন কাজ চলছে না। তবে দুটো পাইপলাইনেই প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে।

এই গ্যাসের বেশিরভাগটাই মিথেনের সংমিশ্রণ। কার্বনডাই অক্সাইডের পর গ্রিনহাউজ গ্যাস হিসাবে মিথেনই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।
অলাভজনক ‘ক্লিন এয়ার টাস্ক ফোর্স’ এর বায়ুমন্ডলীয় রসায়নবিদ ডেভিড ম্যাককেব বলেন, নানা অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। কিন্তু পাইপলাইন দুটো ঠিক না হলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হবে বিপর্যয়কর, এমনকী তা নজিরবিহীনও হতে পারে।

ম্যাককেব এবং অন্যান্য গ্রিনহাউজ গ্যাস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইপলাইনে লিক কতটা জায়গা জুড়ে হয়েছে, পাইপলাইনে গ্যাসের তাপমাত্রা কেমন, কত দ্রুত সেই গ্যাস বের হচ্ছে এবং গ্যাস উপরিভাগে উঠে আসার আগে পানিতে কতটা শোষিত হবে কোনকিছুই এখনও ঠিক করে জানা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু দুটো গ্যাস পাইপলাইনেই মিথেনের আধিক্য থাকায় এইগ্যাস নিঃসরণে ক্ষতির ঝুঁকি খুবই বেশি এবং এ বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন তারা। 

২০ বছর সময়ের মধ্যে বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়িয়ে দিতে কার্বন ডাই অক্সাইডের তুলনায় ৮০ শতাংশেরও বেশি সক্ষম মিথেন গ্যাস। আগামী কয়েক বছরে মিথেন গ্যাস নিঃসরণ একলাফে অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করা যাবে বলেই অভিমত বিজ্ঞানীদের।
রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন লিক থেকে ঠিক কী পরিমাণ মিথেন নিঃসরণ হয়ে বায়ুমন্ডলে পৌঁছাচ্ছে তা এখনও ঠাওর করে উঠতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের টেকসই গ্যাস ইন্সটিটিউটের সহযোগী গবেষক জেসমিন কুপার বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি কোম্পানি গ্যাজপ্রম হয়ত গ্যাস লিকের মোটামুটি একটি হিসাব দিতে পারবে। কিন্তু বায়ুমন্ডলে কি পরিমাণ মিথেন যাচ্ছে সেটি জানার জন্য এখন একটি পর্যবেক্ষণ টিম পাঠানোর প্রয়োজন পড়বে।

বাণিজ্যিক মিথেন পরিমাপক স্যাটেলাইট ফার্ম ‘জিএইচজিস্যাট’ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট বলছেন, আপাতত পাওয়া তথ্য-উপাত্তর ভিত্তিতে মোটামুটিভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, পাইপলাইনে প্রথম ফাটলের সময় থেকে ঘণ্টায় একসঙ্গে দুটো ফাটল থেকে ৫০০ মেট্রিক টনের বেশি মিথেন বের হচ্ছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের চাপ এবং প্রবাহের হারও কমে আসছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়