শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৭:৪৪ বিকাল
আপডেট : ০১ অক্টোবর, ২০২২, ০১:৫৫ দুপুর

প্রতিবেদক : এম. মোশাররফ হোসাইন

ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ ঘোষণা  

পুতিন

এম. মোশাররফ হোসাইন : ইউক্রেনে দখলকৃত চার অঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিজ্জিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার তিনি এই ঘোষণা দেন। বিবিসি

মস্কোর ঐতিহাসিক রেড স্কয়্যারে এক উৎসবমুখর পরিবেশে এই চার প্রদেশের নেতৃবৃন্দ রাশিয়ায় যোগদান সম্পর্কিত নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

স্বাক্ষর হয়ে যাওয়ার পর রেড স্কয়্যারের মঞ্চে উঠে পুতিন বলেন, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিজ্জিয়ার জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ থেকে তারা সবাই রাশিয়ার নাগরিক। আমরা তাদের সবাইকে রাশিয়ান ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি।

সম্প্রতি ইউক্রেনে দখলকৃত চারটি এলাকায় গণভোট আয়োজন করেছে রাশিয়া। এই চারটি এলাকা ইউক্রেনের ১৫ শতাংশ ভূখণ্ড। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের অনুপস্থিতিতে আয়োজিত গণভোটে ৯৯ শতাংশ মানুষ রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন বলে দাবি মস্কোর।

ঘোষণায় পুতিন বলেন, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল রাশিয়ায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি নিশ্চিত, কেন্দ্রীয় পরিষদ আমাদের নতুন চারটি এলাকাকে সমর্থন করবে। কারণ, এটি লাখো মানুষের ইচ্ছা। গণভোটে যারা ভোট দিয়েছেন, এই ফল তাদের প্রাকৃতিক অধিকার। এই ভূখণ্ডের জন্য রাশিয়ার কয়েকটি প্রজন্ম লড়াই করেছে।

তিনি বলেন, তিনি চান কিয়েভ ও পশ্চিমারা জানুক ডনবাস অঞ্চলের বাসিন্দারা রাশিয়ার নাগরিক হয়েছে। কিয়েভ কর্তৃপক্ষের উচিত জনগণের ইচ্ছাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্মান করা। এটিই শান্তির একমাত্র উপায়। যেকোনও উপায়ে রাশিয়া নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে। ভূখণ্ডে বসবাসরত মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রুশ অধিকৃত ইউক্রেনের খেরসন এবং জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলকে ‘স্বাধীনতার’ স্বীকৃতি দিয়ে ডিক্রি জারি করেছেন পুতিন। আর ফেব্রুয়ারিতে ডনেস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন তিনি।

শুক্রবার ভাষণে পুতিন ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশেষ সামরিক অভিযানে নিহত সেনারা রাশিয়ার বীর। তারা এই ভূখণ্ডের জন্য লড়াই করে মৃত্যুবরণ করেছে।

ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো এই গণভোটকে মস্কোর ‘সাজানো’ এবং অবৈধ বলে দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে হ্যাঁ ভোট দিতে বাধ্য  করা হয়েছে। অস্ত্রসজ্জিত সেনারা ব্যালট বাক্স নিয়ে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গেছেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়