আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থান করা একটি সামরিক শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৭০ জন শিক্ষানবীশ সেনা নিহত এবং আরও ২০০ জন আহত হয়েছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি নিশ্চিত করেছেন যে, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি কর্মকর্তাদের পরিচালিত আল-আলাম শিবিরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ---- পার্সটুডে
সৌদি-সমর্থিত এডেনভিত্তিক শাসনব্যবস্থার অধীন শাবওয়া প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলাকালে স্থাপনাটিতে হামলাটি হয়।
ওই শাসনব্যবস্থার অধীন শাবওয়ার উপ-গভর্নরও বলেছেন, শিবিরটিতে প্রশিক্ষণরত নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।
অন্য এক বিবৃতিতে সারি বলেন, ইয়েমেনের লাহিজ প্রদেশের আল-সুকইয়া ও রাস আল-আরা এলাকায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর ছয়টি অবস্থান লক্ষ্য করে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামলাগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এতে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য হতাহত হয়েছে এবং ধ্বংস হয়েছে তাদের যানবাহন ।
এদিকে, ইয়েমেনের পাল্টা হামলার খবরের মধ্যে সোমবার সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
সোমবার ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম বিভাগ এমন কিছু ভিডিওচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায়, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সদস্যরা জাওফ প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে সামরিক অবস্থানগুলোতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী তা প্রতিহত করে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষের সময় ইয়েমেনি বাহিনী মেশিনগান, কামান, রকেটচালিত গ্রেনেড (আরপিজি) এবং করনেট গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এসব সংঘর্ষে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য হতাহত হয়।
ভিডিও-চিত্র অনুযায়ী, ইয়েমেনি বাহিনী সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সমাবেশস্থলগুলোতে হামলা চালিয়ে তাদের যানবাহন ধ্বংস করে। অভিযান চলাকালে তারা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক যানবাহনও জব্দ করে।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বেঁচে যাওয়া সদস্যদের প্রতি ইয়েমেনি বাহিনী নৈতিক ও মানবিক সংযম প্রদর্শন করেছে। তাদের হত্যা করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি শুরু হয় গত জুলাইয়ে সৌদি আরব সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ করার পর। এর জবাবে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী “অবরোধের বদলে অবরোধ” নীতি কার্যকর করে এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি সফল নৌ-অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে এবং রিয়াদের জ্বালানি রপ্তানিও প্রভাবিত হচ্ছে।
ইয়েমেনি বাহিনী সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ এলাকায় অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি, গত এক মাসে তারা ইয়েমেনের উপকূলীয় সমভূমি জুড়ে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে।
এই যুদ্ধের সূত্রপাত ২০১৫ সালের মার্চে, যখন সৌদি আরব ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি জোট সানায় তাদের পছন্দের একটি শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাপক সামরিক অভিযান ও অবরোধ শুরু করে। বহু বছর ধরে বোমাবর্ষণ এবং উন্নত পশ্চিমা অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করা সত্ত্বেও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।