দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে মালয়েশিয়া। সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত অবকাঠামো, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সুবিধা তুলনামূলক কম খরচে দেওয়ার পাশাপাশি থাইল্যান্ডের চেয়েও কম ব্যয়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেশটিকে বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলছে।
চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার গুরুত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে উৎপাদনশিল্প, প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং ডেটা সেন্টার খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেশটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
চীনা ক্রেতাদের অনুসন্ধানে মালয়েশিয়া চতুর্থ
চীনা ক্রেতাদের বিদেশে আবাসন কেনার আগ্রহের তালিকায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মালয়েশিয়া চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে দেশটির অবস্থান ছিল সপ্তম এবং ২০২৫ সালে ষষ্ঠ। সম্পত্তি-বিষয়ক পোর্টাল জুয়াই আইকিউআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চীনা ক্রেতাদের বিদেশে বাড়ি কেনার মোট অনুসন্ধানের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এসেছে মালয়েশিয়াকে ঘিরে। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে মালয়েশিয়ায় চীনা নাগরিকেরা ৩২৯টি আবাসন কেনার চুক্তি করেন, যার মোট মূল্য ছিল ৮৩ কোটি ৪৬ লাখ রিঙ্গিত বা প্রায় ২০ কোটি ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে চীনা নাগরিকেরাই ছিলেন সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী।
ডেটা সেন্টার ও উন্নত অবকাঠামোতে বাড়ছে বিনিয়োগ
মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জোহর বাহরু সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের সঙ্গে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ায় শহরটিতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্যাভিলসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর থেকে জোহর বাহরুতে ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা ১৩২ শতাংশ বেড়েছে।
চীনা ও হংকংয়ের বিনিয়োগকারীদের কাছে মালয়েশিয়ার আরেকটি আকর্ষণ হলো ভাষা ও জীবনযাত্রার সুবিধা। দেশটিতে চীনা ভাষার প্রচলন রয়েছে, ইংরেজিও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
মালয়েশিয়ার ‘মাই সেকেন্ড হোম’ (এমএম২এইচ) কর্মসূচিও বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসে উৎসাহিত করছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কর্মসূচিটির মাধ্যমে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বিদেশি অর্থপ্রবাহ এসেছে।
থাইল্যান্ডের তুলনায়ও সাশ্রয়ী আবাসন
আবাসনমূল্যের তুলনায় কুয়ালালামপুর সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী। একই সঙ্গে ব্যাংককের অভিজাত এলাকাগুলোর তুলনায়ও মালয়েশিয়ার রাজধানীতে নতুন ফ্ল্যাটের দাম কম বলে বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। তবে বিদেশিদের জন্য সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে রাজ্যভেদে ন্যূনতম মূল্যসীমা ও অন্যান্য বিধিনিষেধ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া দ্রুত মুনাফা অর্জনের বাজারের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, বসবাস, শিক্ষা ও অবসরযাপনের জন্য বেশি উপযোগী। সিঙ্গাপুরের মতো স্থিতিশীলতা এবং থাইল্যান্ডের কাছাকাছি দামে আবাসন পাওয়ার সুযোগই দেশটিকে চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রমবর্ধমান আকর্ষণীয় করে তুলছে।
সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।