শিরোনাম
◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট ◈ প্রতি মাসেই কিছু কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমিই তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব : শিল্পোদ্যোক্তা একে আজাদ (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৮ জুন, ২০২৬, ১২:৪২ দুপুর
আপডেট : ০৮ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিসা জালিয়াতির ফাঁদ

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা

অভিবাসন সংক্রান্ত অসদাচরণে জড়িত এবং আর্থিক লাভের জন্য ভিসা আবেদনকারীদের শোষণ করে আসছে প্রতারক এজেন্ট চক্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে সাবধান থাকার জন্য সর্তক করেছে অস্ট্রেলিয়া স্বরাষ্ট্র দপ্তর। এই প্রতারক এজেন্টরা প্রায়শই নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্ট হওয়ার সেজে ভিসা সংক্রান্ত প্রতারণা চালিয়ে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে অবৈধভাবে অস্ট্রেলিয়ায় এসে কাজ করতে উৎসাহিত করে। সূত্র: মানবজমিন প্রতিবেদন

এই প্রতারণাগুলো প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয় এবং তারা  প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মানুষের কাছ থেকে। প্রতারক এজেন্টরা ভুল পরামর্শ দেওয়া বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রতারক চক্রটি ভিসা আবেদনপত্র জমা না দিয়ে শুধু টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এদের কাছ থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা যায়, প্রতারকরা অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি সেজে প্রায়শই ভুয়া ডোমেইন নাম বা নকল যোগাযোগের বিবরণ ব্যবহার করে। চাকরির প্রস্তাব দেয় এবং ভুয়া ভিসা আবেদনের জন্য অগ্রিম ফি দাবি করে। কিছু সংস্থা ভুয়া কলেজ ভর্তির চিঠি এবং নথি সরবরাহ করে থাকে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নেয়। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনেকে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

মিন চীন থেকে আসা একজন আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন। তিনি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হন। কিছু লোক চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা করে মিনের সাথে। তারা তাকে জানায় তিনি একটি অর্থ পাচার মামলার সন্দেহভাজন এবং তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত বা গ্রেপ্তার করার হুমকি দেয়। প্রতারকরা তার পাসপোর্ট ব্যক্তিগত তথ্য এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করে। অস্ট্রেলিয়া থেকে গ্রেপ্তার বা বিতাড়িত হওয়ার ভয়ে মিন প্রতারকদের টাকা দিয়ে দেন।

ডেভিড নামের আরেক ব্যাক্তির সাথে একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। ঐ অ্যাকাউন্টের ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্স) পরিচয় ব্যবহার করেন। অ্যাকাউন্ট থেকে ভুক্তভোগী ডেভিডকে জানায় ৩,৯০০ ডলার দিলে তারা তাকে কাজের অধিকারসহ একটি স্থায়ী ভিসা পাইয়ে দিতে পারবে। ডেভিড ৩,৯০০ ডলার দেওয়ার পর তারা আবারও তার কাছে আরও ৫,০০০ ডলার চায়। তারা ডেভিডকে বলে ভিসা মঞ্জুর হলে তারা এই টাকা ফেরত দিয়ে দেবে। ডেভিড এও জানত না যে তারা তার পক্ষ থেকে একটি প্রোটেকশন ভিসার আবেদন জমা দিয়েছে।

মিঃ জোনস একটি ইন্টারনেট চ্যাট সাইটে আফ্রিকার এক মহিলার সাথে পরিচিত হন এবং তিনি তাকে অস্ট্রেলিয়ায় আমন্ত্রণ জানান। তিনি বিমানের টিকিট, পাসপোর্ট এবং বীমাসহ বিভিন্ন ভ্রমণ খরচের জন্য টাকা পাঠান ঐ মহিলাকে। এরপর মহিলাটি দাবি করেন যে তাদের একসাথে জীবন শুরু করার জন্য আনা তার সমস্ত মূল্যবান জিনিসপত্র কাস্টমস বাজেয়াপ্ত করেছে। মিঃ জোনস তার দেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করেন। এবং শেষ পর্যন্ত এটি প্রতারণা বলে প্রমাণিত হয়।

স্বরাষ্ট্র বিভাগের কর্মী সেজে আসা এক ব্যক্তির কাছ থেকে ইমেল পাওয়ার পর ডানা একটি ভিসা কেলেঙ্কারির শিকার হন। তারা একটি ভিসা প্রকল্পের অধীনে অস্ট্রেলিয়ায় একটি উচ্চ বেতনের চাকরির প্রস্তাব দিচ্ছিল। তিনি সেই ছদ্মবেশীকে তথাকথিত ভিসার জন্য প্রায় ২৫০০ ডলার দেন।  বিনিময়ে ডানা একটি ভিসা মঞ্জুরি পত্র এবং চাকরির চিঠিসহ জাল নথি পান। এরপর সেই ছদ্মবেশী একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আরও টাকা চায়। ডানা প্রস্তাবটির বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে বিভাগ এবং নিয়োগকর্তার সাথে কথা বলেন।

ডানা বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এই প্রতারকদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ইমেল বা ফোনের উপর বিশ্বাস না করে নিজের ইমিঅ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিরাপদে ভিসা আবেদনের অবস্থা পরীক্ষা করতে পারবে। এবং ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্স-এর ভিসা স্ক্যামস বা প্রতারণার বিষয়ে রিপোর্ট করতে এবং অফিসিয়াল পরামর্শ চাইতে স্ক্যামওয়াচ পোর্টালটি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া স্বরাষ্ট্র দপ্তর।

ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্স-এর ওয়েবসাইটে ভিসার প্রকারভেদ এবং আবেদনে কী কী কাগজপত্র জমা দিতে হবে সে সম্পর্কে তথ্য দেয়া রয়েছে। ডিপার্টমেন্টের অফিস অফ দ্য মাইগ্রেশন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অথরিটি (OMARA)-এর অধীনে নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্ট অথবা একজন অস্ট্রেলিয়ান আইনজ্ঞ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় কোনো তৃতীয় পক্ষের জন্য অর্থের বিনিময়ে অভিবাসন সংক্রান্ত সহায়তা বা সাহায্য প্রদান করা বেআইনি। এর জন্য শাস্তি প্রযোজ্য।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়