নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত মো. জোবায়ের হোসেন (১৮) নামে এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ৩ জুন ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তারা বন্দর থানায় অভিযোগ করতে গেলে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ তাঁদের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পুলিশের এই অসংবেদনশীল আচরণ এবং ঘটনার চার দিন পার হলেও অপরাধী গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার জেরে এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে।
রবিবার (৭ জুন) রাতে বন্দর মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একইসঙ্গে মামলা নিতে গড়িমসি ও ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। তিনি বর্তমানে বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন এবং পেশায় একজন অটোরিকশা চালক।
গত ৩ জুন রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় জোবায়ের বাধা দিলে তারা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সন্ধ্যায় মরদেহ বন্দর এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বন্দর থানা ঘেরাও করেন। স্বজনরা অভিযোগ করেন, জোবায়েরকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার ঘটনায় তার বাবা বন্দর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। তবে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া মামলা দায়েরের জন্য এসআই মাসুদ ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন।
জোবায়েরের স্বজন টিপু অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনার পর মামলা দায়েরের জন্য থানায় গেলে জাহাঙ্গীরের এক বন্ধুর কাছে বন্দর থানার এসআই মাসুদ ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় সে সময় মামলা নেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযুক্তদের আটকও করেনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, নিহত যুবকের লাশ নিয়ে তার স্বজন ও এলাকাবাসী থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা নানা অভিযোগ করেছেন। পরে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে শান্ত করা হয়েছে। মামলা নিতে ঘুষ চাওয়ার ঘটনায় এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত হবে। আর ছুরিকাঘাতে নিহতের ঘটনায় মামলা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এক যুবককে আটক করা হয়েছে।