শিরোনাম
◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট ◈ প্রতি মাসেই কিছু কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমিই তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব : শিল্পোদ্যোক্তা একে আজাদ (ভিডিও) ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, আসছে নতুন বেতন কাঠামো, বাজেটে বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি! ◈ বিশ্বকাপে নিয়ম না মেনে বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা জানালায় প্রিয় দেশের জাতীয় পতাকা উড়ালে ৪ লাখ টাকা জরিমানা! ◈ প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম গুরুতর অসুস্থ, সিসিইউতে চিকিৎসাধীন

প্রকাশিত : ০৮ জুন, ২০২৬, ১০:২৯ দুপুর
আপডেট : ০৮ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারতে রাজনৈতিক ঝড় তুলতে পারবে কী তেলাপোকা জনতা পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইনস্টাগ্রামে ভারতের তেলাপোকা জনতা পার্টি সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে তেলাপোকা জনতা পার্টির কী পরিণতি হবে? সরকারি দমনপীড়নের শিকার হবে নাকি নতুন রাজনৈতিক ঝড় তুলবে ভারতে? তেলাপোকা জনতা পার্টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি তৈরি হওয়ার প্রায় ৯০ ঘণ্টার মধ্যেই এটি বিজেপি এবং তারপর কংগ্রেসকে ছাড়িয়ে যায়।রাজনৈতিক ইভেন্ট কভারেজ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভারতের তেলাপোকা জনতা পার্টি সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে তেলাপোকা জনতা পার্টির কী পরিণতি হবে? সরকারি দমনপীড়নের শিকার হবে নাকি নতুন রাজনৈতিক ঝড় তুলবে ভারতে? তেলাপোকা জনতা পার্টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি তৈরি হওয়ার প্রায় ৯০ ঘণ্টার মধ্যেই এটি বিজেপি এবং তারপর কংগ্রেসকে ছাড়িয়ে যায়।

ভারতের প্রধান বিরোধী দলগুলো সিজেপিকে সরাসরি সমর্থন করেনি। আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং শিবসেনার (ইউবিটি) উদ্ধব ঠাকরে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, তবে তাদের কেউ সিজেপির বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন না। অবশ্য সিজেপির আন্দোলনকে কেজরিওয়াল ও উদ্ধব সমর্থন করায় বিরোধী শিবিরে বিভাজন, হরিয়ানায় কংগ্রেস নিজেদের আন্দোলন আরো জোরদার করেছে। এ দিকে, বিজেপি প্রধান নিতিন নবীন সিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ভারতের যুবসমাজ ‘দিল্লিতে বসে থাকা কয়েকজনের হাতের পুতুল হয়ে সামনে এগোবে না’।

কেজরিওয়াল শনিবার এক্স-এ পোস্ট করে জানান, এই তেলাপোকা আন্দোলন হলো দেশের যুবসমাজের “প্রচণ্ড ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তাদের দেশবিরোধী আখ্যা না দিয়ে, মোদি সরকারের উচিত তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করা। আপ তাদের দাবি সমর্থন করে। প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে হবে।” শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে বলেন, নিট (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট) ফাঁসের মতো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে উপহাস করা উচিত নয়। সরকারকে অবশ্যই তাদের উদ্বেগের কথা শুনতে হবে।

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রধান নিতিন নবীন সিজেপিকে কটাক্ষ করে এক্সে এক পোস্টে বলেন, “বিদেশে বসে থাকা কিছু লোক মনে করে যে তারা ভারতের যুবসমাজকে দিকনির্দেশনা দেবে। ভারতের যুবসমাজ গ্রামের চত্বরে কৃষকের সাথে থাকে, কোচিং ইনস্টিটিউটে থাকে, কলেজ ক্যাম্পাসে থাকে। কিন্তু দিল্লিতে বসে থাকা কয়েকজনের হাতের পুতুল হয়ে ভারতের যুবসমাজ এগিয়ে যাবে না।” সিপিআই(এম)-এর সিনিয়র নেত্রী বৃন্দা কারাত বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলোকে সমর্থন করে বলেন, “তাদের সম্পূর্ণ অধিকার আছে। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে সমর্থন করি। এই আন্দোলনকে সমর্থন করা উচিত।”

প্রশ্ন উঠেছে সিজেপি কি শুধুই একটা বুদবুদ যা কয়েক দিনের মধ্যেই ফেটে যাবে? বিজেপি সরকার কি একে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দমন করবে নাকি ব্যঙ্গ দিয়ে শুরু হওয়া এই অনলাইন প্রচারণা একটি সত্যিকারের রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে?রাজনৈতিক ইভেন্ট কভারেজ

বিশ্বের শীর্ষ তিনটি দেশের মধ্যে ভারত অন্যতম, যেখানে সবচেয়ে সস্তা ইন্টারনেট পাওয়া যায়। এখানে কখনো চোখের ইশারা ভাইরাল হয়, কখনো ‘কাঁচা বাদাম’। প্রতি এক-দুই সপ্তাহে নতুন কিছু ভাইরাল হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্নটি সঙ্গত - তেলাপোকা জনতা পার্টিও কি এমন একটি ভাইরাল বুদবুদ যা কয়েক দিনের মধ্যেই ফেটে যাবে? সম্ভবত না, কারণ এবার কিছু বিষয় ভিন্ন।

ছয় দিনের মধ্যে সিজেপির ইনস্টাগ্রামে দুই কোটিরও বেশি ফলোয়ার যুক্ত হয়। বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ৯১ লাখ এবং কংগ্রেসের ১.৩ কোটি ফলোয়ার রয়েছে। ২১ মে ভারতে সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্টটি ব্লক করে দেয়া হয়। মাত্র চার দিনের মধ্যে এতে প্রায় দুই লাখ ফলোয়ার যুক্ত হয়। @ঈড়পশৎড়ধপযরংনধপশ নামে একটি দ্বিতীয় হ্যান্ডেল তৈরির ২৪ ঘণ্টায় আবার প্রায় ১.৫ লাখ ফলোয়ার যুক্ত হয়। এই প্রচার অভিযান পর্দার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। সিজেআইর বিবৃতির তিন দিন পর সিজেপি সমর্থকরা দিল্লির কালিন্দী কুঞ্জ ঘাটে পৌঁছে যান। হাতে ঝাড়ু আর গলায় ‘আমি তেলাপোকা’ লেখা পোস্টার ঝুলিয়ে তেলাপোকার বেশে তরুণেরা যমুনার তীর থেকে আবর্জনা ও প্লাস্টিক পরিষ্কার করেছেন।

২২ মে, সিজেপি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশন চালু করেছে, যেখানে মানুষ গিয়ে তাদের সম্মতি জানাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলেও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। টিএমসি সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ এই আন্দোলনে যোগ দেয়ার কথা বলেছেন। প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং আম আদমি পার্টির নেতা মনীশ সিসোদিয়াও এটিকে সমর্থন করেছেন।

এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব লিখেছেন- বিজেপি বনাম সিজেপি। এর মানে হলো, বিরোধী দলগুলোও তেলাপোকা পার্টির প্রভাবকে উপেক্ষা করতে পারছে না। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন, তরুণেরা হতাশ এবং সেই কারণেই তারা এর সাথে যুক্ত হচ্ছে। আমি আশা করি যে এর পেছনের তরুণেরা এই শক্তিকে মূলধারার রাজনীতিতে আনার একটি উপায় খুঁজে পাবে অথবা তাদের ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে।

সিজেপির পেছনে যদি বিদেশী শক্তি থাকে, তাহলে সরকার কি একে দমন করবে? সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক আপের সোস্যাল মিডিয়া শাখার একজন প্রাক্তন স্বেচ্ছাসেবক, ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। পুনেতে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনার পর, আমেরিকার বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক রিলেশনসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বর্তমানে আমেরিকায় থাকেন। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে, তিনি এএপির জন্য ভাইরাল মিম-ভিত্তিক অনলাইন প্রচারসামগ্রী তৈরি করতেন। অভিজিৎ এর আগেও কৃষক আন্দোলন থেকে শুরু করে মুদ্রাস্ফীতির মতো রাজনৈতিক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন।

অভিজিৎ এবং তার সিজেপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, এর পেছনে দেশবিরোধী শক্তি এবং বিদেশী অর্থায়ন রয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ‘ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি সিজেপির এক্স হ্যান্ডেলটি ব্লক করার জন্য তথ্য দিয়ে বলে এটি ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ভারতের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সিজেপির হ্যান্ডেলটি ব্লক করার জন্য এক্স-কে নির্দেশ দেয়।

বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এক্সে লিখেছেন, ‘অভিজিৎ আম আদমি পার্টির একজন কর্মী। বোস্টনে যাওয়ার জন্য তাকে কে টাকা দিয়েছে? সোরোস ফাউন্ডেশন কি তার থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করছে? বিরোধী দলগুলো কি দেশ ভাঙার জন্য বিদেশী শক্তির সাহায্য নিচ্ছে?’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মহেশ জেঠমালানিও বলেছেন, ‘ডিপ স্টেটের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক ল্যাব প্রকল্প চলছে।’ আমেরিকা থেকে একটি ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। একইভাবে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও একসময় তৈরি করা হয়েছিল। এখন সেই একই ল্যাবে জেন-জি প্রোটোটাইপ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তেলাপোকা জনতা পার্টি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি পরীক্ষা মাত্র।

সোস্যাল মিডিয়ায় এও বলা হয়, ইনস্টাগ্রামে সিজেপির বেশির ভাগ ফলোয়ার পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আমেরিকা থেকে এসেছেন। ভারত থেকে ফলোয়ারের সংখ্যা মাত্র ৯%। কিন্তু অভিজিৎ দীপক ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারদের ডেটা শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছেন- আপনারা ৯৪% ভারতীয় তরুণকে পাকিস্তানি বলছেন কেন? অভিজিৎ কোনো ধরনের অর্থায়নের কথাও অস্বীকার করছেন। ভারতে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো জেন-জি আন্দোলন হবে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে অভিজিৎ একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নেপাল ও বাংলাদেশের সাথে তুলনা করে ভারতের জেন-জি-কে ছোট করে দেখবেন না বা অপমান করবেন না। এই দেশের তরুণরা অনেক বেশি পরিণত, সচেতন এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন। তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের প্রতিবাদ জানাবে।’রাজনৈতিক সংবাদ বিশ্লেষণ

তেলাপোকা জনতা পার্টির এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করার পর শশী থারুর বলেন, ‘গণতন্ত্রে ভিন্নমত, রসিকতা, বিদ্রƒপ এবং এমনকি হতাশা প্রকাশের জন্য প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন হয়। অ্যাকাউন্ট ব্লক করা অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং বোধগম্যতার বাইরে।’

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘এটা ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র নয়।’ সরকার দেশের যুবকদের এতটাই ভয় পায় যে তারা একটি ভার্চুয়াল অনলাইন আন্দোলনও সহ্য করতে পারে না।

সিজেপি কি রাজনৈতিক পরিবর্তন আনবে?

এই ধরনের আন্দোলনের জন্য একটি শব্দ আছে- স্ল্যাকটিভিজম। এতে স্ল্যাকার মানে অলস এবং অ্যাক্টিভিজম মানে একটি আন্দোলন চালানো। ভারতে এই ধরনের অনলাইন আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কোনো ইতিহাস নেই। যতক্ষণ না এটিকে মাটিতে নামিয়ে আনা হয়। বলেন, আমাদের সদর দফতর হলো এমন প্রতিটি জায়গা যেখানে ওয়াই-ফাই আছে। তিনি ক্রমাগত তরুণদের সাথে কথা বলছেন, কিন্তু এখনো তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। তিনি আশঙ্কা করছেন যে এটি সেই তরুণদের কর্মজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিকভাবে শুরু করার জন্য, তাদের অন্তত ১০০ জন ভারতীয় সদস্য সংগ্রহ করতে হবে। একটি দলীয় সংবিধান তৈরি করতে হবে, যার মধ্যে নাম, উদ্দেশ্য ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এরপর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা দিতে হবে। অভিজিৎ এও বলেছেন যে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আসবেন না। বিরোধীরা যদি তাকে সমর্থন করতে চায়, তবে তাদের স্বাগত, কিন্তু তিনি কোনো দলে যোগ দেবেন না। অনলাইন অনুসারীদের মাঠের সমর্থনে রূপান্তরিত করা বেশ কঠিন। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তেজিন্দর বাগ্গা মাত্র ৩৮ হাজার ভোট পেয়েছিলেন, অথচ সেই সময়ে ফেসবুকে তার ৬.৫ লাখ ফলোয়ার ছিল। ইউটিউবার মেঘনাদ ২০২৫ সালে দিল্লির মালভিয়া আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি মোট ১৯২টি ভোট পেয়েছিলেন, যেখানে ৫০০-এর বেশি ভোট ছিল নোটার (ঘঙঞঅ) পক্ষে। প্রায়শই বিতর্কিত মন্তব্য করা অভিনেতা এজাজ খান বিগ বসে অংশ নিয়েছিলেন। তার ৫৬ লাখ ফলোয়ার থাকলেও ২০২৪ সালের মুম্বাই বিধানসভা নির্বাচনে আজাদ সমাজ পার্টির টিকিটে ভার্সোভা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট ১৫৫টি ভোট পেয়েছিলেন।রাজনৈতিক ইভেন্ট কভারেজ

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হর্ষবর্ধন ত্রিপাঠীর মতে, ‘সিজেপি সোস্যাল মিডিয়ায় একটি আবহ তৈরি করতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক দল হতে পারে না। ভারতে এই তেলাপোকা পার্টির অকাল পতন ঘটবে।’ তবে, অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলেন যে তেলাপোকা জনতা পার্টি এক ধরনের অস্থিরতার ফল। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদবের মতে, ‘ভারতের ভেতরে একটি আলোড়ন ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। যখনই কোনো সরকার প্রতিষ্ঠান দখল করে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করে, তখনই অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে বিদ্রোহের জন্ম হয়। ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধীর বিপুল বিজয়ের পর ১৯৭৪ সালে জয়প্রকাশ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ২০০৯ সালে কংগ্রেসের বিজয়ের পর ২০১১ সালে আন্না আন্দোলন শুরু হয় এবং ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার দুই বছর পর কৃষক আন্দোলন শুরু হয়।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াই বলেন, সিজেপি আন্দোলন শুধু বিজেপির বিরুদ্ধে নয়। এটি বিরোধীদের ব্যর্থতাও প্রকাশ করে। যুবকদের ক্ষোভ শাসক দলের প্রতি। এর মানে এই নয় যে বিরোধীদের ওপর তাদের আস্থা আছে।

সিজেপির সামনে তিন চ্যালেঞ্জ। অনুসারীদের ভোটারে পরিণত করা, আন্না আন্দোলনের মতো সহায়ক ক্যাডার নেই এবং কোনো একক কর্মসূচি বা এক দফা দাবি নেই।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়